Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০৯-২০১৯

বাবরি মসজিদ মামলার রায়: বিতর্কের নিষ্পত্তি নাকি নতুন বিতর্ক?

বাবরি মসজিদ মামলার রায়: বিতর্কের নিষ্পত্তি নাকি নতুন বিতর্ক?

নয়া দিল্লী, ৯ নভেম্বর- ভারতে দীর্ঘ দুই যুগ  ধরে চলা বাবরি মসজিদের মামলার রায় ঘোষণা করা হলো আজ। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে স্পষ্টভাবে বলে দেওয়া হয়েছে, বাবরি মসজিদের জমিতে গড়ে তোলা হবে রাম মন্দির। আর মসজিদের জন্য দেওয়া হবে বিকল্প জায়গা। সাত দশক ধরে চলা প্রশ্ন-পাল্টা প্রশ্নের পর বাবরি মসজিদ মামলার একটা চূড়ান্ত রায় এলো। কিন্তু এই রায় কি সাত দশক ধরে চলা বিতর্কের অবসান ঘটালো নাকি জন্ম দিল নতুন বিতর্কের এই প্রশ্নটা উঠছেই।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আজকের রায় ভারতের বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপরই প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিল। দীর্ঘদিন ধরেই বলা হচ্ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন কর্তৃত্বপরায়ন, কট্টর হিন্দুত্ববাদী নেতা এবং তিনি সবকিছুর ওপরে হিন্দুত্ববাদকেই স্থান দেন। আজকের রায়ে সেটাই নতুন করে প্রমাণ হয়ে গেল। আগামী ১৭ নভেম্বর অবসরে যাবেন মোদির ঘনিষ্ঠ প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। তার আগে অনেকটা তড়িঘড়ি করেই বাবরি মসজিদের রায় ঘোষণা করা হলো। যেখানে মোদির হিন্দুত্ববাদের ছাপ স্পষ্ট।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে সেটাও যেন এক বিশাল প্রশ্নের পাহাড়। রায়ে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছে যে, বাবরি মসজিদের জমির নীচে পুরনো কাঠামো ছিল। তবে সেটা যে মন্দির ছিল সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রশ্ন হলো, মন্দিরের অস্তিত্ব যদি নিশ্চিত না-ই হওয়া যায়, তাহলে সেই জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের রায় কেন?

রায় পড়ার সময় প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বলেছেন, বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে জমির মালিকানা ঠিক করা সম্ভব নয়। কাঠামো থেকে কোনো কিছুর মালিকানা দাবি করা যায় না। কারও বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার হরণ না হয়। বিচারপতির এই কথাই উস্কে দিচ্ছে আরেক প্রশ্ন। বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে যদি জমির মালিকানা ঠিক করা না-ই যায়, তাহলে জমিতে হিন্দুদের মালিকানা তিনি কীভাবে দিয়ে দিলেন? কারণ সনাতন ধর্মাবলম্বী কারও কারও বিশ্বাস যে সেখানে রাম মন্দির ছিল, কিন্তু সেটার তো কোনো প্রমাণ নেই।

রঞ্জন গগৈ আরও বলেছেন, ভারতের প্রত্মতাত্ত্বিক সংস্থা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার খননের ফলে যে সব জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট, সেগুলো ইসলামিক নয়। প্রশ্ন হলো, মসজিদের মাটির নীচে পাওয়া হাজার বছরের পুরনো কিছু জিনিসে যদি ইসলামের চিহ্ন না থাকে তাতেই কী এটা প্রমাণ হয়ে যায় যে, মসজিদটা অনৈতিকভাবে তৈরি করা?

আর/০৮:১৪/০৯ নভেম্বর

দক্ষিণ এশিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে