Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০৮-২০১৯

কেন্দ্রের কাঠগড়ায় রাজশাহী আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

কেন্দ্রের কাঠগড়ায় রাজশাহী আ.লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক

রাজশাহী, ০৮ নভেম্বর- দীর্ঘদিন ধরেই বরফ শীতল সম্পর্ক রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাতক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে।

সম্প্রতি তারা অবস্থান নিয়েছেন দুই মেরুতে। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভেদ। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে দুজনই রাজনীতির মাঠে ছড়াচ্ছেন উত্তাপ। এ নিয়ে শুক্রবার ওমর ফারুক চৌধুরী ও আসাদুজ্জামান আসাদকে দাঁড় করানো হয় কেন্দ্রের কাঠগড়ায়। সেখানে এ দুই নেতার বিরোধের খুটিনাটি নিয়ে আলোচনা হয়।

এর আগে গত ১৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত হয়। তাতে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেন। সেখানে বিভাগের সব জেলার সভাপতি-সম্পাদক বক্তব্য দিলেও কোন্দলের কারণে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে বক্তব্য দিতে দেয়া হয়নি। সেদিন জেলার এ দুই নেতাকে কেন্দ্রে তলব করে যান কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে, জেলার দুই শীর্ষ নেতার বক্তব্য শোনার পর আগামী ৪ ডিসেম্বর রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন ঠিক করে দেয়া হয়। সম্মেলনের জন্য রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম সভায় সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, দলীয় নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা রাজশাহীর সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীকে ভৎসনা করেন। আর সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে বলেন, প্রকাশ্যে রাজাকারের সন্তান বলাটা ঠিক হয়নি। এটা দলীয় ফোরামে উত্থাপন করা যেত। এর প্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান বলেছেন, তিনি যে কথা বলেছেন তার স্বপক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আছে। সম্প্রতি বিএনপি-ফ্রিডম পার্টি হয়ে ওমর ফারুক চৌধুরী আওয়ামী লীগে এসে এমপি হয়েছেন এমন খবর একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীতে তোলপাড়া সৃষ্টি হলে জেলার ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ওমর ফারুক চৌধুরীর বাবা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন।

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কয়েকদিন আগে আমরা প্রতিনিধি সম্মেলনে গিয়েছিলাম। তারপরও পত্রপত্রিকা রাজশাহীর খারাপ খবরে ভরে গেল। এটি আমাদের জন্য দুঃখজনক। সম্মেলনকে সামনে রেখে সকল তিক্ততার অবসান ঘটবে বলে আমি আশা করি।

তিনি বলেন, কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। আমাদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা হবে সুস্থ। অসুস্থ প্রতিযোগিতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমি এটা নেত্রীর পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে সবাইকে জানিয়ে দিতে চাই।

সভার শুরুতে সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আওয়ামী লীগের বড় শক্তি হলো জনগণ ও বঙ্গবন্ধু। সেই উদ্দেশ্যে একটি কাউন্সিল করা হবে। এতে করে কোনো সমস্যা থাকলে তারও সমাধানে করা হবে। এজন্য জাতীয় সম্মেলনের আগে শেখ হাসিনার নিদের্শনায় সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৬ ডিসেম্বর সম্মেলনের মাধ্যমে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হয়। ২০১৫ সালের ২৭ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ হওয়ার পর ৬ ডিসেম্বর প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সভাপতি-সম্পাদকের দ্বন্দ্বে ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবরের পর জেলা আওয়ামী লীগের আর কোনো সভা হয়নি।

সম্প্রতি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের ৬৬ নেতার মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ছাড়াই ৪১ জন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কাছে সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। এতে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের এই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে ১৪টি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। দাবি করেন বহিষ্কারেরও।

সূত্র : জাগো নিউজ২৪
এন কে / ০৮ নভেম্বর

রাজশাহী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে