Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০৭-২০১৯

কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা, ৬০০ ফুটের সেতু বানালেন যুবকরা

কথা রাখেননি জনপ্রতিনিধিরা, ৬০০ ফুটের সেতু বানালেন যুবকরা

লক্ষ্মীপুর, ০৭ নভেম্বর- স্থানীয়দের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে ৬০০ ফুট দীর্ঘ সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। বছরের পর বছর দুর্ভোগ লাঘবে স্বপ্ন দেখিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। ভোটের বাক্স ভরলেও কথা রাখেননি তারা।

উদ্যোগ তো নয়ই বরং তারা প্রতিশ্রুতিও রাখেননি। আসেনি সরকারি কোনো বরাদ্দ। অবশেষে এলাকার যুবকরা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছেন। যে কারণে এ সাঁকোর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার পাটোয়ারীরহাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জারিরদোনা খালের ওপর এ সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। শতাধিক যুবকের উদ্যোগে গ্রামবাসীর দেয়া বাঁশ-কাঠ ও টাকায় ২৭ দিনে এটি নির্মাণ হয়। এ সাঁকো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে সোয়া লাখ টাকা।

বুধবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে ‘স্বপ্নের সেতু’ নামের সাঁকোটির উদ্বোধন করা হয়। যারা স্বেচ্ছাশ্রমে এটি নির্মাণ করেছেন তারাই স্থানীয়দের নিয়ে ফিতা কেটে এটির উদ্বোধন করেন। এর আগে ওই সাঁকোটিকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়।

গ্রামের লোকজন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকার জেলে-কৃষকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে এ সাঁকো নির্মাণ করা হয়। এতে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে থাকা শত শত পরিবারের দুর্ভোগ সাময়িক কেটেছে। তবে স্থায়ীভাবে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান গ্রামবাসী।

এলাকাবাসী জানায়, জারিরদোনা খাল ভেঙে চলাচলের রাস্তা (বেড়িবাঁধ) বিলীন হয়ে যায়। যে কারণে ছয় বছর ধরে এলাকাবাসীকে চরম দুঃখ-কষ্টে দিন পার করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটলেও নজরে আসেনি কারও। উপায় না পেয়ে নিজেরাই নিজদের চলাচলের জন্য সাঁকোটি নির্মাণ করেন। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ওপর দিয়ে পাটোয়ারীরহাট-খায়েরহাটে আসা-যাওয়া। খাল পাড়ের ওই বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী।

এদিকে, চলাচলের রাস্তা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে তুলতে পারেন না। শিক্ষার্থীরা যেতে পারে না স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায়। বর্ষা এলেই গৃহবন্দি হয়ে পড়তেন এলাকার বাসিন্দারা। কেউ অসুখে পড়লে হাসপাতালে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়তো। এমন পরিস্থিতে পড়ে থাকলেও ওই গ্রামের বাসিন্দাদের পাশে জনপ্রতিনিধি ও কোনো রাজনৈতিক নেতা এসে দাঁড়াননি।

অবশেষে এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে কমলনগর স্টার ক্লাব, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদ, স্টুডেন্ট সংসদ ও জুনিয়র একতা সংঘ নামের চারটি সংগঠন সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন থেকে টাকা ও কাঠ-বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়। এতে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়। স্বেচ্ছাশ্রম না দিলে এটির নির্মাণ ব্যয় হতো অন্তত ৫ লাখ টাকা।

সাঁকো উদ্বোধনকালে বক্তব্য রাখেন কমলনগর স্টার ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. মাকছুদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলম রাজা, দিদার হোসেন, রাকিব হোসেন, শাহেদ, নিরব, সাকের ওয়ারেছ, শাকিল ও তানভীর।

কমলনগর স্টার ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. মাকছুদুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর দুর্ভোগ লাঘবে আমাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এলাকার যুবকরা স্বপ্নের সেতুর বাস্তবায়ন করেছে। যে কারণে এ সাঁকোর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০৭ নভেম্বর

লক্ষীপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে