Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০৫-২০১৯

উচ্চতা আর প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি কারিমাকে

উচ্চতা আর প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি কারিমাকে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ০৬ নভেম্বর- শারীরিক উচ্চতা তার মাত্র আড়াই ফিট। দুই হাত ও দুই পায়ের আঙ্গুল হাত-পা-এর সঙ্গে লাগানো। ঠুটো পায়ের কারণে হাঁটতে পারে না। আর আঙ্গুল না থাকায় হাত দিয়ে খেতেও পারে না।

কিন্তু তাতে কী? ইচ্ছা আর মনে শক্তি যথেষ্ট। তার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দাবিয়ে রাখতে পারেননি। পড়ালেখার প্রবল আগ্রহে তার দুই ঠুটো হাত দিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী কারিমা খাতুন (১৪)।

চলমান জেএসসি পরীক্ষা তিনি ঠুটো দুই হাতে কলম ধরে লিখছেন।

কারিমা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার আমনুরা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্রী। চলমান জেএসসি পরীক্ষায় তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভেনু শাখা কেন্দ্র হিসেবে মুন্ডুমালা বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের ২১ নম্বর কক্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরীক্ষা দিচ্ছে।

কারিমা আমনুরা ধিনগর গ্রামের আবু সালামের মেয়ে। তার বাবা একজন দিনমুজুর। মাতা আমেনা বেগম একজন গৃহিণী।

আমনুরা আদর্শ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কুদরতি খোদা জানান, পড়া-লেখার প্রবল ইচ্ছা শক্তি আছে কারিমার। সে মায়ের কোলে চড়ে নিয়মিত স্কুলে আসা-যাওয়া করে।

কারিমার পরিবারে একাধিক প্রতিবন্ধী রয়েছে। তবে সবাই পড়া-লেখা করে। তাদের অভাবী সংসারে এমন একাধিক প্রতিবন্ধী থাকায় তাদের অনেক বেগ পেতে হয়। তবুও প্রতিবন্ধী মেয়েদের আগ্রহের লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে পরীক্ষা ছিল। সেখানে প্রতিবন্ধী কারিমাকে কোলে নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছিলেন কারিমার মা আমেনা বেগম।

কেন্দ্রে কথা হয় কারিমার মা আমেনা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ২ কিলোমিটার। প্রতিদিনই প্রতিবন্ধী মেয়েকে কোলে নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করেন তিনি। কারিমা এবার জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। আমনুরা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে মুন্ডুমালা কেন্দ্রে নিয়ে আসেন তিনি। ব্যাটারিচালিত অটোগাড়ি অথবা বাসে করে তাকে আনতে হয়।

আমেনা বেগম আরও জানান, আমার পাঁচ মেয়ের মধ্যে তিন মেয়েই জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী। তারা সবাই লেখা-পড়া করে। অভাবি সংসারে তিন প্রতিবন্ধী মেয়েকে পড়াশুনা করানো অনেক কষ্ট হয়ে যায়। আমাদের এমন কষ্টের সংসারে বিশেষ করে আমার তিন প্রতিবন্ধী মেয়ের লেখা-পড়ার খরচ দিতে বিত্তবানরা এগিয়ে আসলে প্রতিবন্ধীদের লেখা-পড়া আরও সহজ হতো।

মুন্ডুমালা জেএসসির ভেনু কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কেন্দ্র সচিব আলতাব হোসেন জানান, চলমান জেএসসি পরীক্ষার শুরু দিনেই কারিমা তার মায়ের কোলে এসে পরীক্ষা হলের ২১ নম্বর কক্ষে বসেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা কক্ষে পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও কারিমা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসেই পরীক্ষা দিতে আগ্রহী।

তিনি আরও জানান, কারিমা উচ্চতা একেবারে কম। তাকে তার মা পরীক্ষা শুরুর আগে এসে নির্দিষ্ট পরীক্ষার আসনে বসিয়ে দিয়ে যান। আবার পরীক্ষা শেষে তাকে কোলে নিয়ে বের হন। কারিমার হাতের আঙ্গুল না থাকায় দুই হাত এক সঙ্গে করে কলম ধরে লিখছে বলেও জানান তিনি।

সূত্র : যুগান্তর
এন কে / ০৬ নভেম্বর

চাপাইনবাবগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে