Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০২-২০১৯

নিষিদ্ধ পলিথিনে ভরে গেছে সুনামগঞ্জ

নিষিদ্ধ পলিথিনে ভরে গেছে সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ, ০২ নভেম্বর - সরকার দেশে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও সুনামগঞ্জে প্রতিটি দোকানে অবাধে তা ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশাসনের নজদারি না থাকায় জেলার বড় বড় বাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশ বিপন্নকারী পলিথিন। যার কারণে শহরের ছোট বড় খাল, জলাশয় সব জায়গা পলিথিনে ভরে গেছে।

অভিযোগ আছে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই বাজারে প্রকাশ্যে পলিথিন বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। লাখ লাখ টাকার পলিথিন ব্যাগ কিনে পুরো সুনামগঞ্জে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তারা। যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরজমিনে, শহরের কিচেন মার্কেট, জেল রোড এলাকা এবং বিভিন্ন পাড়া মহল্লার দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ক্রেতারা দোকানে কিছু কিনতে আসলে তা দেয়া হচ্ছে পলিথিনে ভরে। কোনো দোকানে নেই পাট বা পরিবেশবান্ধব ব্যাগ। চাল থেকে সবজি, অথবা মাছের বাজার সব জায়গায়ই ব্যবহার হচ্ছে পলিথিন।

সরকারের নিয়মনুযায়ী পলিথিন ব্যবহার, বহন, ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না কোনো ব্যবসায়ী। তাই ক্রেতাদেরও বাধ্য হয়েই নিতে হচ্ছে পলিথিনের ব্যাগ।

জেলরোড এলাকার সবজি বিক্রেতা আলাউর মিয়া বলেন, ‘পলিথিন ছাড়া সবজি কিসে দিমু। কাস্টমারতো ব্যাগ নিয়ে আসে না। পলিথিনের দাম কম এবং আমাদের মত স্বল্প আয়ের ব্যবসায় পলিথিন ব্যবহার না করলে হয় না। আমাদের যদি পলিথিন ব্যাগের দামে বিকল্প কিছু দেয়া হয় তাহলে অবশ্যই তা কেনব’।

মাছ বিক্রেতা রজব আলী বলেন, কাস্টমারদের আমারা মাছ কেনার পর টাকা নিয়ে তা পলিথিনের ব্যাগে ভরে দেই। আমরা জানি পলিথিনের ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ, কিন্তু বিকল্প কিছু না থাকায় সবাই এটা ব্যবহার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সালমান ইসলাম শান্ত বলেন, বাজার করতে আসলেই দোকনিরা আমাদের হাতে পলিথিন ব্যাগ ধরিয়ে দিচ্ছেন। আমরাও সেগুলো বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। পরে সেই ব্যাগ ড্রেন বা ময়লার স্তূপে ফেলে দিচ্ছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা পেটের দায়ে পলিথিন বিক্রি করি। আর সুনামগঞ্জে এর চাহিদা অনেক, তাই বিক্রি করা হয়। আমরা রাস্তায় নিয়ে ঘুরি না, যার দরকার পরে সেই এসে নিয়ে যায়।

এভাবে জেলার সর্বত্র ড্রেনেজ লাইন ও পানি নিষ্কাশনের খালগুলো পলিথিনে ভরে গেছে। পানি চলাচলে বাধা প্রদানকারী এসব পলিথিনের ব্যাগ না পচে জমে থাকায় বর্ষা বা বৃষ্টির মৌসুমে হালকা বৃষ্টি হলেই ড্রেন বা খালের পানি উপচে রাস্তায় পানি জমে যায়।

সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ভূগল ও পরিবেশ বিভাগের প্রভাষক দিবাকর চক্রবর্তী বলেন, আমরা কৃষি প্রধান দেশ কিন্তু পলিথিন আমাদের জীববৈচিত্র এবং আমাদের কৃষি জমিকে নষ্ট করে ফেলে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ নিয়মিত অভিযানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, যদিও পলিথিনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারপরও কোনো ব্যবসায়ী যদি পলিথিন মজুদ অথবা এর বহারের মাধ্যমে পরিবেশ বিপন্নে উৎসাহ দেয়, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : জাগো নিউজ
এন এইচ, ০২ নভেম্বর

সুনামগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে