Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১১-০২-২০১৯

দিনাজপুরে পুনর্ভবা নদী দখলের মহোৎসব

সুলতান মাহমুদ চৌধুরী


দিনাজপুরে পুনর্ভবা নদী দখলের মহোৎসব

দিনাজপুর, ০২ নভেম্বর - দিনাজপুর পুনর্ভবা নদীর তীরে অবস্থিত। এক সময় বড় বড় বনিকেরা নদীপথে নৌকা কিংবা জাহাজ নিয়ে দিনাজপুরে বাণিজ্য করতে আসতেন। কালের বিবর্তনে পুনর্ভবা নদী আজ মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুনর্ভবা নদী দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। দিনাজপুর শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পুনর্ভবা নদী দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতবাড়ি। নদীর একটি বিশাল অংশ দখল করে বসবাস করছে হাজার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ওইসব বসতিতে কেউ কেউ করেছেন পাকা ভবনসহ স্থাপনা।

এক সময়ের খরস্রোতা পুনর্ভবা দখলবাজদের কারণে এখন হারাচ্ছে স্বকীয়তা। নদীর জমি বিক্রি না হলেও নদীর ওপর ঘরের ‘পজেশন’ বিক্রি করে কেউ কেউ হাতিয়ে নিয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

সম্প্রতি দিনাজপুর জেলা প্রশাসন নদী দখলদারদের তালিকা তৈরী করেছে। সেই সূত্র ধরে দেখা গেছে , সদর উপজেলায় পুনর্ভবা দখল করে পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা বাড়ির সংখ্যা ৮৩৮টি। দীর্ঘদিন ধরে নদী দখল করে বসতি স্থাপন করা অনেকেই জমির মালিকানা ছাড়াই কিনেছেন এসব ঘরের ‘পজেশন’।

অপরদিকে উপজেলা সদর ভূমি অফিসের তথ্যানুযায়ী, পুনর্ভবা নদীতে অবৈধভাবে স্থাপনা তৈরি হয়েছে ৮৩৯টি। এছাড়া সদর উপজেলায় আত্রাই নদীর কিছু অংশ দখল করে ২৫টি পাকা, আধাপাকা ও কাঁচা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা যায়।

একাধিক হাত বদল করে বিক্রি হয় এসব ‘পজেশন’। সদরের পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা হঠাৎপাড়ার পুনর্ভবা নদী দখল করে ঘরের ‘পজেশন’ কিনেছেন সুজন ইসলাম। তিনি বলেন, এই ঘরের ‘পজেশন’ পেয়েছি আমার বাবার কাছ থেকে। আমার বাবা কিনেছেন মো. সুলতানের কাছ থেকে। সুলতান কিনেছেন আবদুল হাইয়ের কাছ থেকে। আবার আবদুল হাই কিনেছেন মো. বারেক ইসলামের কাছ থেকে এবং সর্বপ্রথম মো. বারেক ইসলাম কয়েকটি ঘরের ‘পজেশন’ কিনেছেন মো. সামাদের কাছ থেকে।

এ ভাবেই হাত বদল হয়েছে অন্ধ হাফেজ মোড়স্থ বাধ পাড়স্থ হঠাৎপাড়ায়। হঠাৎপাড়ার প্রায় ১৮/২০ হাজার লোকের বসবাস। এখানে অধিকাংশ বসবাসকারী ব্যক্তি দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের। পুনর্ভবা নদীর একটি অংশ দখল করেই এ সব লোকালয় গড়ে উঠেছে।

সদরের কাঞ্চন এলাকায় ৪ শতক জমির ‘পজেশন’ কিনেছেন নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমি ‘পজেশন’ কিনেছি বাদল নামের একজনের কাছ থেকে। ৪ লাখ টাকা দিয়ে এই ‘পজেশন’ কিনেছি। তিনি আরও বলেন, এই ‘পজেশন’র লিখিত দলিলও করেছি।

চাইপাড়া এলাকার বিউটি বেগম বলেন, ২০ বছর আগে এখানে কয়েকটি ঘরের ‘পজেশন’ কিনেছি। আমরা নিয়মিত পৌরসভাকে কর প্রদান করে থাকি।

পুনর্ভবা নদীতে যারা অবৈধ দখলদারিত্ব নিয়ে আছেন তারা নিয়মিত পৌরসভাকে কর প্রদান করে আসেন বলেও জানান তিনি।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, নদী দখল করে ‘প্রমোদতরী’ নামে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন জাহিদ কামাল সৌদ নামে এক ব্যক্তি। এছাড়া নদীর জায়গায় রয়েছে সুইমিং পুল ও ‘বাগান বিলাস’ নামে আরও দুটি বিনোদন কেন্দ্র।

প্রমোদতরীর স্বত্বাধিকারী জাহিদ কামাল সৌদ বলেন, একটি স্থাপনার অল্প একটু জায়গা নদীর অংশে পড়েছে। আমরা জেলা প্রশাসক ও পানি উন্নয়ন বোর্ডে লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছি।

সুইমিং পুলের স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম ডলার বলেন, এক সময় সুইমিং পুলের জায়গাটা আমাদের ছিল। সেটা নদীতে গিয়ে খাস জমি হয়ে যায়। সুইমিং পুলটি দিয়ে লোকসান গুনতেছি।

দিনাজপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওর্য়াডের কাউন্সিলর সিদ্রাতুল ইসলাম বাবুও এক সময় নদীর ‘পজেশন’ বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেকেই। এ বিষয়ে সিদ্রাতুল বাবু বলেন, ২০-২৫ বছর আগে নদীর অল্প একটু জায়গা নিয়েছিলাম। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই মসজিদে দান করেছি। মাত্র কয়েকটা ঘর ২ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলাম।

নদীর অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, আমাদের কাছে নদী দখলের একটা তালিকা এসেছে। উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করার বরাদ্দ চেয়েছি। বরাদ্দ পেলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করব।

সূত্র : বাংলাদেশ জার্নাল
এন এইচ, ০২ নভেম্বর

দিনাজপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে