Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-৩১-২০১৯

সন্তানকে বেঁধে রেখে কাজে যান মা!

মাহফুজুর রহমান পারভেজ


সন্তানকে বেঁধে রেখে কাজে যান মা!

নারায়ণগঞ্জ, ৩১ অক্টোবর- নারায়ণগঞ্জে নদীপথে মুন্সিগঞ্জ ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মানুষ প্রায় সময়ই দেখতে পান একটি হৃদয় নাড়া দেওয়া দৃশ্য। আর সেটি হচ্ছে টার্মিনাল ঘাটে চলাচলের রাস্তার পাশে নিজের সন্তানকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে কাজে যান অসহায় এক মা। ক্লান্ত শরীরে বা বৈরী আবহাওয়া সবকিছুকেই সহ্য করে মানিয়ে নিতে হয় এ বাচ্চাটিকে। প্রায় সময় এমন অনেক ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল করেন অনেকে।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) এমন একটি ছবি পাওয়া যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। ছবির সত্যতাও পাওয়া যায় টার্মিনাল ঘাটে গিয়ে। সেখানে দেখা যায় একটি ছেলেকে তার মা শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে কাজে চলে গেছেন।

সেখানে অস্থায়ী কয়েক দোকানি জানান, মূলত ছেলে যেন হারিয়ে না যায় বা কোথাও না যায় সেজন্যই মা এই কাজ করেন। আবার অনেকে ভিক্ষা করতে বিভিন্ন স্থান থেকে শহরে আসেন তখন তাদের সন্তানকেও এখানে বেঁধে রেখে যান।

টার্মিনাল ঘাটের অস্থায়ী আচার বিক্রেতা রবিউল জানান, এরকম দৃশ্য তিনি মাঝে মাঝেই দেখেন। অনেক সময় রাত অবধি এভাবেই বাঁধা থাকে শিশুটি। মূলত মা সঙ্গে করে বাচ্চাটিকে নিয়ে যেতে পারেন না বলেই  এখানে বেঁধে রেখে তারপর কাজে যান। আবার কাজ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় নিয়ে যান। তবে কখন বাঁধেন আর কখন খোলেন সেটি অনেক সময় দেখেন না কেউ।

রবিউলের কথার প্রমাণও পাওয়া যায়। ওই মায়ের সঙ্গে কথা বলার জন্য দুপুরের পর থেকে সেখানে থাকলেও বিকেলে হঠাৎ করেই দেখা যায় শিশুটি সেখানে নেই। পরে সেখানে অবস্থান করা জয়নাল নামে একজন জানান, একটু আগেই দেখেছেন এখন অর্ধ বয়স্ক নারী তালা খুলে নিয়ে যাচ্ছেন বাচ্চাটিকে। তার বাচ্চাই হবে এমনটাই জানান তিনি।

এমন মানবিক দৃশ্য দেখে অনেকেই শিশুটিকে খাবার কিনে দেন আবার অনেকেই রোদ বৃষ্টিতে তাকে ছাতা কিংবা পানি কিনে দেন। তবে শিশুটিকে এমন বন্দি অবস্থায় দেখে মায়া হলেও কর্মব্যস্ত এ জীবনে কেউ বেশি সময় নিয়ে দেখার সময়ও পান না।

এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি এই সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হতো তাহলে হয়তো তাদের এভাবে সড়কে শিকলে বাঁধা থাকতে হতো না। অথবা যদি সবার কাজের স্থানেই শিশুদের রাখার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকতো তাহলেও সমস্যা হতো না।

সূত্র : বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর
এন কে / ৩১ অক্টোবর

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে