Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ , ৭ আশ্বিন ১৪২৭

গড় রেটিং: 2.4/5 (19 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২৩-২০১৩

দইয়ের প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ৬টি স্বাস্থ্য উপকারিতা!

ছোট বেলা থেকেই আমাদেরকে পাখি পড়া করে শেখানো হয় “জীবাণুমুক্ত থাকো”। যে কোনও রকমের জীবাণুর সংস্পর্শে এলেই ভালো করে হাত ধুতে হবে, গোসল করতে হবে, অমুক ওষুধ খেতে হবে বা তমুক ইনজেকশন নিতে হবে। কিন্তু কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে যেগুলো আমাদের সুস্থ জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ! ঠিক জায়গায় এবং ঠিক পরিমাণে থাকলে এসব ব্যাকটেরিয়া আমাদের কোনও ক্ষতি তো করেই না বরং উপকার করে। বিশেষ করে আমাদের পেটের ব্যাকটেরিয়া। সাধারণত আমাদের শরীরের সাথে মিলেমিশেই এসব ব্যাকটেরিয়া বাস করে। কিন্তু যখনই আমাদের খাবার দাবারে গণ্ডগোল হয় অথবা অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কড়া কোনও ওষুধ খাওয়া শুরু হয় তখন শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি এসব উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মারা যায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়।

দইয়ের প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ৬টি স্বাস্থ্য উপকারিতা!

ছোট বেলা থেকেই আমাদেরকে পাখি পড়া করে শেখানো হয় “জীবাণুমুক্ত থাকো”। যে কোনও রকমের জীবাণুর সংস্পর্শে এলেই ভালো করে হাত ধুতে হবে, গোসল করতে হবে, অমুক ওষুধ খেতে হবে বা তমুক ইনজেকশন নিতে হবে। কিন্তু কিছু ব্যাকটেরিয়া আছে যেগুলো আমাদের সুস্থ জীবনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ! ঠিক জায়গায় এবং ঠিক পরিমাণে থাকলে এসব ব্যাকটেরিয়া আমাদের কোনও ক্ষতি তো করেই না বরং উপকার করে। বিশেষ করে আমাদের পেটের ব্যাকটেরিয়া। সাধারণত আমাদের শরীরের সাথে মিলেমিশেই এসব ব্যাকটেরিয়া বাস করে। কিন্তু যখনই আমাদের খাবার দাবারে গণ্ডগোল হয় অথবা অ্যান্টিবায়োটিকের মতো কড়া কোনও ওষুধ খাওয়া শুরু হয় তখন শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি এসব উপকারী ব্যাকটেরিয়াও মারা যায়। ফলে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়।

দইয়ের প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার ৬টি স্বাস্থ্য উপকারিতা!
এ অবস্থা ঠেকাতে আপনি কি করতে পারেন? এসব ব্যাকটেরিয়া খেতে পারেন! অনেকেই ব্যাকটেরিয়া খাওয়ার নামে নাক কুঁচকাচ্ছেন, কিন্তু এই ধরণের ব্যাকটেরিয়া ভর্তি একটা খাবার আছে যেটা আপনি হয়তো বেশ শখ করেই খাচ্ছেন! সেই খাবারটা আর কিছু নয়, দই! পাউডার বা ট্যাবলেট/ক্যাপসুল হিসেবেও এদেরকে পাওয়া যায় বটে। “প্রোবায়োটিকস” নামে পরিচিত এই জীবাণুগুলো ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, প্রদাহ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দই খাওয়ার আরও কারণ চাই? দেখে নিন এই প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া প্রতিদিন গ্রহনে আপনার কি কি উপকার হতে পারে।
 
১) পেট খারাপের উপশমঃ
পেট খারাপ মানে সেটা হতে পারে ডায়রিয়া, আমাশয়, কোষ্ঠকাঠিন্য, ফুড পয়জনিং, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি। যে কোনও ধরণের পেট খারাপে প্রোবায়োটিক কাজে লাগতে পারে। Journal of the American Medical Association এ প্রকাশিত ৮২ টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কড়া অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে যে ডায়রিয়া হয়, ওষুধ ছাড়াই তার ৪২ শতাংশ কমিয়ে আনতে পারে প্রোবায়োটিকস। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায়, গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্যের মাত্রা কমিয়ে আনতেও এটি কার্যকর। আর পেটের কার্যক্ষমতা দ্বিগুণেরও বেশি বাড়িয়ে দেয় এসব উপকারী ব্যাকটেরিয়া।
 
২) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়ঃ
পেটে থাকা ব্যাকটেরিয়া হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ এবং ব্যবহারে সহায়তা করে। এ প্রক্রিয়াতেই শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কম থাকে। প্রতিদিন খাদ্যের সাথে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে রক্তের কোলেস্টেরলবাহী অণুর পরিমাণ কমে আসে। ২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব ব্যক্তি দিনে দুই বার খাদ্যের সাথে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করেছেন তাদের রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে আসে ১১.৬ শতাংশ। এখানে গবেষকরা ধারণা করেন, এসব প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া পিত্তরসে উপস্থিত লবণগুলোকে ভেঙ্গে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় যে সেগুলো পেটে কোলেস্টেরল শোষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
 
৩) পেটের চর্বি কমায়ঃ
হ্যাঁ, এসব ব্যাকটেরিয়া পেটের চর্বি কমিয়ে ঝরঝরে করে তুলতে পারে আপনার শরীর। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের শরীরে প্রোবায়োটিক ছিল না তাদের শরীরে চর্বি জমার পরিমাণ বেশি। পেটে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়। আরেকটা গবেষণায় জানা যায়, গর্ভাবস্থার প্রথম ভাগে প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার খেলে নারীদের মাঝে অতিরিক্ত মোটা হবার প্রবণতা কমে যায়। গর্ভাবস্থায় যে মোটা হবার প্রবণতা দেখা যায় সেটা হোল অ্যাডিপোসিটি যা কিনা ওবেসিটির সবচাইতে অস্বাস্থ্যকর রূপ।
 
৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
বছরের অর্ধেক সময়টাই যদি সর্দিকাশি আর ভাইরাস জ্বরে ভুগতে থাকেন আপনি, তাহলে আপনার সময় হয়েছে প্রোবায়োটিক খাবার। একদল গবেষক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ওপরে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা করেন। কলেজ পড়ুয়াদের ওপর গবেষণা করার কারণ হোল, তারা বেশিরভাগ সময়েই না ঘুমিয়ে কাটায়, স্ট্রেসে থাকে এবং খুব ছোট জায়গায় একসাথে থাকে। ফলে এদের মাঝে ঠাণ্ডাজ্বর জাতীয় হালকাপাতলা অসুস্থতা বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা যায়, একই সময়ে প্রায় সব শিক্ষার্থীর মধ্যে ঠাণ্ডা ছড়ালেও, যারা প্রোবায়োটিক খেয়েছিল তাদের ঠাণ্ডাজ্বর তুলনামুলকভাবে কম স্থায়ী হয় এবং জ্বরের উপসর্গ ৩৪ শতাংশ কম হয়। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চাইতে এদের উপস্থিতিও বেশি দেখা যায়। সুতরাং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে প্রতিদিন দই খাওয়া যেতে পারে।

৫) স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকে আপনার পেটঃ
স্ট্রেস কি শুধুই মনের ব্যাপার? তা কিন্তু নয়। শরীরেও পড়ে স্ট্রেসের নেতিবাচক প্রভাব আর যাদের পেট একটু স্পর্শকাতর, স্ট্রেসে থাকলে তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। মাঝারি মাত্রার স্ট্রেসেই তাদের হয় বারবার বাথরুমে ছুটতে হয় অথবা বেশ কিছুদিন ধরে স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসের ফলে দেখা দেওয়া উপসর্গের উপশম করতে পারে প্রোবায়োটিকস।
 
৬) ইস্ট থেকে হওয়া ইনফেকশন রোধ করেঃ
যখন আপনার বৃহদান্ত্রে উপকারী জীবাণুর পরিমাণ উল্টোপাল্টা হয়ে যায় তখন যেসব ঝামেলা হতে পারে তার মাঝে একটি হোল ইস্ট ইনফেকশন। এ সময়ে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে এরা অন্ত্রের ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অবস্থান করতে বাধা দেয় এবং পেটের ভেতরে সঠিক pH এর মাত্রা বজায় রাখে। ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস, ইস্ট ইনফেকশন এবং ইউরিন ইনফেকশন ঠেকাতে পারে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া।
 
প্রোবায়টিক এর উপকারিতা পেতে দই খেতে পারেন। বেশি স্বাস্থ্য সচেতন যারা, তারা নিজ নিজ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খেতে পারেন।

২) কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়ঃ
 
পেটে থাকা ব্যাকটেরিয়া হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান শোষণ এবং ব্যবহারে সহায়তা করে। এ প্রক্রিয়াতেই শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রাও কম থাকে। প্রতিদিন খাদ্যের সাথে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে রক্তের কোলেস্টেরলবাহী অণুর পরিমাণ কমে আসে। ২০১২ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব ব্যক্তি দিনে দুই বার খাদ্যের সাথে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করেছেন তাদের রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে আসে ১১.৬ শতাংশ। এখানে গবেষকরা ধারণা করেন, এসব প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া পিত্তরসে উপস্থিত লবণগুলোকে ভেঙ্গে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় যে সেগুলো পেটে কোলেস্টেরল শোষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়।
 
৩) পেটের চর্বি কমায়ঃ
 
হ্যাঁ, এসব ব্যাকটেরিয়া পেটের চর্বি কমিয়ে ঝরঝরে করে তুলতে পারে আপনার শরীর। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যেসব ইঁদুরের শরীরে প্রোবায়োটিক ছিল না তাদের শরীরে চর্বি জমার পরিমাণ বেশি। পেটে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলো অতিরিক্ত চর্বি জমতে বাধা দেয়। আরেকটা গবেষণায় জানা যায়, গর্ভাবস্থার প্রথম ভাগে প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার খেলে নারীদের মাঝে অতিরিক্ত মোটা হবার প্রবণতা কমে যায়। গর্ভাবস্থায় যে মোটা হবার প্রবণতা দেখা যায় সেটা হোল অ্যাডিপোসিটি যা কিনা ওবেসিটির সবচাইতে অস্বাস্থ্যকর রূপ।
 
৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ
 
বছরের অর্ধেক সময়টাই যদি সর্দিকাশি আর ভাইরাস জ্বরে ভুগতে থাকেন আপনি, তাহলে আপনার সময় হয়েছে প্রোবায়োটিক খাবার। একদল গবেষক কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ওপরে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা করেন। কলেজ পড়ুয়াদের ওপর গবেষণা করার কারণ হোল, তারা বেশিরভাগ সময়েই না ঘুমিয়ে কাটায়, স্ট্রেসে থাকে এবং খুব ছোট জায়গায় একসাথে থাকে। ফলে এদের মাঝে ঠাণ্ডাজ্বর জাতীয় হালকাপাতলা অসুস্থতা বেশি দেখা যায়। গবেষণায় দেখা যায়, একই সময়ে প্রায় সব শিক্ষার্থীর মধ্যে ঠাণ্ডা ছড়ালেও, যারা প্রোবায়োটিক খেয়েছিল তাদের ঠাণ্ডাজ্বর তুলনামুলকভাবে কম স্থায়ী হয় এবং জ্বরের উপসর্গ ৩৪ শতাংশ কম হয়। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চাইতে এদের উপস্থিতিও বেশি দেখা যায়। সুতরাং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে প্রতিদিন দই খাওয়া যেতে পারে।
 
 

৫) স্ট্রেস থেকে মুক্ত থাকে আপনার পেটঃ
 
স্ট্রেস কি শুধুই মনের ব্যাপার? তা কিন্তু নয়। শরীরেও পড়ে স্ট্রেসের নেতিবাচক প্রভাব আর যাদের পেট একটু স্পর্শকাতর, স্ট্রেসে থাকলে তাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। মাঝারি মাত্রার স্ট্রেসেই তাদের হয় বারবার বাথরুমে ছুটতে হয় অথবা বেশ কিছুদিন ধরে স্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য থাকে। দীর্ঘস্থায়ী স্ট্রেসের ফলে দেখা দেওয়া উপসর্গের উপশম করতে পারে প্রোবায়োটিকস।
 
৬) ইস্ট থেকে হওয়া ইনফেকশন রোধ করেঃ
 
যখন আপনার বৃহদান্ত্রে উপকারী জীবাণুর পরিমাণ উল্টোপাল্টা হয়ে যায় তখন যেসব ঝামেলা হতে পারে তার মাঝে একটি হোল ইস্ট ইনফেকশন। এ সময়ে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করলে এরা অন্ত্রের ভেতরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া অবস্থান করতে বাধা দেয় এবং পেটের ভেতরে সঠিক pH এর মাত্রা বজায় রাখে। ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজিনোসিস, ইস্ট ইনফেকশন এবং ইউরিন ইনফেকশন ঠেকাতে পারে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া।
 
প্রোবায়টিক এর উপকারিতা পেতে দই খেতে পারেন। বেশি স্বাস্থ্য সচেতন যারা, তারা নিজ নিজ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্রোবায়োটিক ক্যাপসুল খেতে পারেন।
 
 

গবেষণা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে