Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২০ , ১৬ চৈত্র ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (40 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-৩০-২০১১

মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ ১০ হাজার ভিক্ষুক খোঁজার জরিপ আজ

মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগ
১০ হাজার ভিক্ষুক খোঁজার জরিপ আজ

আজ সকালে শুরু হচ্ছে ভিক্ষুক জরিপ।
দেড় বছরের টানাপোড়েন শেষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আজ শুক্রবার রাজধানীতে ভিক্ষুক জরিপ করবে। গত অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ থাকা ছয় কোটি ৩২ লাখ টাকা ফেরত গেছে। চলতি অর্থবছরে একই খাতে বরাদ্দ আছে সাত কোটি টাকা।
রাজধানীর ১০ হাজার ভিক্ষুকের নাম-ঠিকানা ও ছবি জোগাড় করতে এই জরিপ চালাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এদের মধ্য থেকে দুই হাজার ভিক্ষুক নির্বাচন করে তাদের পুনর্বাসনের দায়িত্ব নেবে সরকার।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে দারিদ্র্য দূরীকরণের পাশাপাশি ভিক্ষাবৃত্তি নিরসন ও ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গত ২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের পুনর্বাসন করে চিরতরে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধের কথা বলেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে দেশে প্রায় সাত লাখ মানুষ ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। জরিপ শেষে ভিক্ষাবৃত্তি ছাড়িয়ে ভিক্ষুকদের সুপেয় পানি, স্যানিটেশন-সুবিধাসহ আবাসন, ভরণপোষণ ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার মাধ্যমে পুনর্বাসন করার চিন্তাভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে ভিক্ষুকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।
আজ ঢাকা শহরের ৪০০টি স্থানে সকাল আটটায় শুরু হবে ভিক্ষুক জরিপ। এ কাজের জন্য ১০টি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বেসরকারি সংস্থা এক হাজার ভিক্ষুকের ওপর জরিপ চালাবে। ভিক্ষুক চিহ্নিত করার মাথাপিছু খরচ ২৪০ টাকা। এই হিসাবে একটি সংস্থা এক হাজার ভিক্ষুক চিহ্নিত করার জন্য পাবে দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা। জরিপকাজে খরচ হবে মোট ২৪ লাখ টাকা। গত অর্থবছরে এনজিও নির্বাচনসংক্রান্ত জটিলতায় এ প্রকল্পের টাকা ফেরত যায়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, এটা পরীক্ষামূলক প্রকল্প। তাই রাজধানীর সব ভিক্ষুকের সংখ্যা এই জরিপের মাধ্যমে জানা যাবে না। আগামী অক্টোবরে জরিপের ফল পাওয়া যাবে। এরপর দেশজুড়ে ভিক্ষুক জরিপ পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভিক্ষুক সেলের প্রধান (যুগ্ম সচিব) গাজী মোহাম্মদ জুলহাস প্রথম আলোকে বলেন, ভিক্ষুকদের বিভিন্ন শ্রেণী, যেমন?মৌসুমি/অনিয়মিত, বিকলাঙ্গ, পেশাদার, নারী ও শিশু প্রভৃতি ভাগে চিহ্নিত করা হবে। এ ছাড়া ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের স্কুলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ১২ থেকে ৫০ বছর বয়স্কদের কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে উপার্জনের উপযোগী করা হবে। পঞ্চাশোর্ধ্ব ও অক্ষম প্রতিবন্ধীদের সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা রয়েছে। ওই সব কর্মসূচির সহায়তা যথেষ্ট না হলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আরও সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ অনুযায়ী ভিক্ষা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গত ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ ঢাকা মহানগরে ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করতে ডিএমপি কমিশনারকে সুয়োমোটো রুল জারি করেন। অবশ্য তার আগে থেকেই ভিক্ষুক জরিপের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে কয়েকটি সংগঠন ভিক্ষুক জরিপের প্রতিবাদ জানিয়ে তা বন্ধের দাবি তুলেছে। এসব সংগঠনের পক্ষ থেকে গত বুধবার মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাক, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), অ্যাকশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এবং নিজেরা করি এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশনের হস্তক্ষেপ চেয়ে বলেছে, এ ধরনের ভিক্ষুক জরিপ মানবাধিকার-পরিপন্থী।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো আরও বলছে, কোনো ব্যক্তি ভিক্ষুক হিসেবে স্বেচ্ছায় নিজের নাম ও ছবি দিলে আইন অনুযায়ী অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। তা ছাড়া তার মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে জীবনের অধিকার, ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার এবং নিজস্ব পেশা অবলম্বন করার অধিকারও লঙ্ঘিত হবে। এ প্রসঙ্গে ওই সংগঠনগুলো সংবিধানের ৩৫(৪) অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেছে, যাতে বলা হয়েছে, কাউকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়ানো যাবে না।
মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ?ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচি?বিষয়ক একটি রিট মামলা আদালতে বিচারাধীন। আগামী ২৩ অক্টোবর ওই মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, শুনানির আগে এ ধরনের জরিপ প্রশ্ন তৈরি করবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ?ভিক্ষুকের আইনগত সংজ্ঞা এখনো আমরা জানি না। কিসের ভিত্তিতে একজন ব্যক্তিকে ভিক্ষুক হিসেবে ধরা হবে, তা স্পষ্ট নয়। যে আইনটি রয়েছে, সেটিতে যথাযথভাবে ভিক্ষুককে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি।? আইনটির বিভিন্ন ধারায় বৈপরীত্য আছে মন্তব্য করে মিজানুর রহমান আরও বলেন, ?এ বিষয়গুলো ঠিক না করে ভিক্ষুক গণনার কাজ আগাম হয়ে যাচ্ছে। আইনটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করে, সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করে তারপর কার্যকর করলে ভালো হতো। এ ছাড়া ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের পুনর্বাসন-প্রক্রিয়া কেমন হবে, তাও আমরা জানি না।?
দেশের কর্মসংস্থানের প্রধান কেন্দ্র রাজধানী ঢাকার রাস্তায় ভিক্ষুকদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভিক্ষাবৃত্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সংগঠিত চক্র। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে উপার্জনের বিকল্প চেষ্টা না করে তুলনামূলক সহজ উপায় হিসেবে ভিক্ষা করেই জীবিকা নির্বাহ করছে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার ভিক্ষুক সাকিনা বেগম (৩৫) গতকাল রাতে প্রথম আলোকে বলেন, মাস কয়েক আগে শেরপুর থেকে দুই শিশুপুত্র নিয়ে তিনি ঢাকায় আসেন। তিনজন মিলে ভিক্ষা করছেন, এখন গ্রামের চেয়ে ভালো আছেন। তবে সাকিনা বলেন, গ্রামে ঘরবাড়ি পেলে ফিরে যাবেন। ভিক্ষুক জরিপ ও পুনর্বাসনে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানানোর পর সাকিনা বলেন, এসব সহায়তা তাঁর কাছে পৌঁছাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে