Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২৬-২০১৯

ন্যাম: কী, কেন, কীভাবে?

ন্যাম: কী, কেন, কীভাবে?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে দেশে দেশে যখন ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামো ভেঙে পড়ছিল, আফ্রিকা, এশিয়া আর লাতিন আমেরিকায় যখন ছড়িয়ে পড়ছিল স্বাধীনতার সংগ্রাম, বিশ্ব যখন স্নায়ুযুদ্ধে আক্রান্ত হয়ে পড়ছিল ঠিক সেই সময়টাতেই শুরু হয়েছিল নতুন এক আন্দোলন। যার নাম ‘নন অ্যালাইনড মুভমেন্ট’ বা ‘ন্যাম’। বাংলায় যাকে বলা হয় জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন। গত শতাব্দীর বিশ্ব রাজনীতি ছিল আপাদমস্তক ঘটনাবহুল। ওই সময়টাতে দুটো বিশ্বযুদ্ধসহ আরও বেশকিছু ঘটনা ঘটেছিল যা ভবিষ্যত বিশ্বের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এই পট পরিবর্তনের মধ্যেই ন্যাম অনেক দেশের ঔপনিবেশিক কাঠামো ভাঙতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল। এই আন্দোলনের প্রাথমিক সাফল্য ছিল ১০টির অধিক দেশের স্বাধীনতা। আর বিশ্ব শান্তি রক্ষায়ও এই আন্দোলনের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

১৯৫৫ সালের ১৮-২৪ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার বান্দুংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘বান্দুং এশিয়ান আফ্রিকা কনফারেন্স’ নামে একটি কনফারেন্স। সেই কনফারেন্সে অংশ নিয়েছিলেন ঔপনিবেশিক যুগ পরবর্তী ২ মহাদেশের ২৯টি স্বাধীন দেশের নেতারা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন বিশ্ব রাজনীতির অবস্থা বিবেচনা করে করণীয় ঠিক করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা। বান্দুংয়ের এই সভাটি থেকেই ন্যাম গঠনের প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৬০ সালের শুরুর দিকে ন্যাম গঠন আরো একধাপ এগিয়ে যায় জাতিসংঘের ১৫তম সাধারণ অধিবেশনে। সেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্ত ১৭টি দেশকে নিয়মিত অধিবেশনে যোগদানের অনুমতি দেয়া হয়। এসবের নেপথ্যে কাজ করছিলেন মিশরের প্রেসিডেন্ট গামাল আবদুল নাসের, যুগোস্লাভিয়ার কমিউনিস্ট আন্দোলনের নেতা জোসেফ ব্রোজ টিটো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু, ঘানার কাওয়ামে ক্রুমাহ এবং ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি আহমেদ সুকর্ণ। এই পাঁচজন নেতার হাত ধরেই মূলত গড়ে ওঠে ন্যাম। পরবর্তীতে ন্যামকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কিউবার ফিদেল কাস্ত্রোর মতো নেতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত হয় ন্যামের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন যেখানে অংশ নেয় ২৫টি দেশ। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এড়াতে ন্যামকে কোনো সংগঠনের বদলে একটি আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জোট নিরপেক্ষ দেশগুলো পরস্পরকে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ধরে রাখায়, দেশ হিসেবে শক্তিশালী হওয়ায়, জাতিবিদ্বেষ দূরীকরণ, বৃহৎ শক্তির চাপে পরে বহুপক্ষীয় সামরিক চুক্তি করায় বাধ্য হওয়া থেকে রক্ষা করা, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, আন্তর্জাতিক সম্পর্কে যেকোনো ধরনের অবরোধ হুমকি এড়ানো, জাতিসংঘকে শক্তিশালী করা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ইত্যাদি ছিল ন্যামের প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে ন্যামের সর্বপ্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে আপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী সদস্য দেশগুলোকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শেখানো, বহির্শক্তির প্রভাব থেকে রক্ষা করা এবং দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে অন্যদেশের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।

তৃতীয় বিশ্বের যেসব দেশ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে যাচ্ছিল, তাদের প্রতি প্রথম থেকেই সমর্থন প্রকাশ করে গেছে ন্যাম। পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর অধিকার নিয়েও সবসময় মুখর থেকেছে। সে কারণে ৮০’র দশকে এসে এশিয়া আর আফ্রিকার বহু দেশই ‘জোট নিরপেক্ষ’ দেশে পরিণত হয়। নব্বই পরবর্তী সময়ে ন্যাম কিছুটা ঝিমিয়েই পড়ে। এর অস্তিত্ব টিকবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে। তবে বিশ্লেষকরা বলেন, কিছু বাধা বিপত্তি আর সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন আজকের দিনেও যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক এবং কার্যকর। আজারবাইজান বর্তমানে এই ন্যামের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন চলছে। বিশ্ব রাজনীতিকে শক্তিশালী দেশগুলোর স্বার্থোদ্ধারের হাতিয়ার হওয়া থেকে বিরত রাখতে ন্যাম নতুন করে আবারও জেগে উঠবে বলে আশা করছেন এর নেতারা।

এন এইচ, ২৬ অক্টোবর

জানা-অজানা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে