Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২০ , ৮ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২৬-২০১৯

আরেকবার কাঁদলেন নুসরাতের মা বাবা ভাই

আবুল হোসেন রিপন


আরেকবার কাঁদলেন নুসরাতের মা বাবা ভাই

ফেনী, ২৬ অক্টোবর- ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে নৃশংসভাবে হত্যার পর বিচারের দাবিতে সোচ্চার ছিল দেশবাসী। আর দ্রুত বিচারের মাধ্যমে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কেঁদে ভাসান তার মা-বাবা-ভাই। বৃহস্পতিবার খুনিদের সর্বোচ্চ সাজার রায় হয়েছে। তাই আরেকবার কাঁদলেন পরিবারের সদস্যরা। গতকাল শুক্রবার দিনভর তারা নুসরাতকে স্মরণ করে কাঁদেন।

নুসরাতের প্রতিবেশীরা জানান, রায়ে সন্তুষ্ট হলেও মেয়ের শোকে পাথর ছিলেন তার বাবা একেএম মুসা। সকালে ছেলে মাহমুদুল হাসান নোমানসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নুসরাতের কবর জিয়ারত করেন। তার আত্মার শান্তির জন্য দোয়া করেন। নুসরাতের মা শিরীন আখতারও প্রায় সারাদিনই জায়নামাজে বসে মেয়ের জন্য দোয়া করেন।

কবর জিয়ারতের পর নুসরাতের বাবা একেএম মুসা সাংবাদিকদের বলেন, তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। রায় ঘোষণার পরও তার ছেলের মোবাইল ফোনে উল্টাপাল্টা কল এসেছে। প্রশাসনকে তা জানানো হয়েছে।

খুনিদের ধিক্কার নুসরাতের সহপাঠী ও শিক্ষকদের : নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে অধ্যক্ষসহ তিনজনই সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ১১ জন ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। ওই শিক্ষার্থীর অনেকেই নুসরাতের ঘনিষ্ঠ সহপাঠী ছিলেন। ফাঁসির রায়ের পর ওই মাদ্রাসার বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, এই রায়ে তারা কিছুটা অভিশাপমুক্ত হয়েছেন।

দ্রুত ফাঁসির রায় কার্যকর হলে তারা স্বস্তি পাবেন। এই মাদ্রাসার শিক্ষক ও বর্তমান পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ভাষ্য, এমন কুলাঙ্গার শিক্ষক যেন এখানে ঠাঁই না পায় আর এমন খুনি চরিত্রের শিক্ষার্থী যেন কখনও তৈরি না হয়, তারা সেই চেষ্টা করছেন।

নুসরাত হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত তিন শিক্ষক হলো- মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলা, শিক্ষক আবসার উদ্দিন ও আবদুল কাদের। অধ্যক্ষ সিরাজই যৌন হয়রানি করেছিলেন নুসরাতকে। অধ্যক্ষের অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় নৃশংসভাবে তাকে মাদ্রাসাতেই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।

অন্য আসামিদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, মহিউদ্দিন শাকিল, নুর উদ্দিন, মোহাম্মদ শামীম, আব্দুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, কামরুন নাহার মনি ও উম্মে সুলতানা পপি এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী।

এই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বলছেন, যাদের কারণে মাদ্রাসার বদনাম হয়েছে, যৌন হয়রানির প্রতিবাদকারী একজন ছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে, সেই রকম শিক্ষক-শিক্ষার্থী তারা আর দেখতে চান না।

মাদ্রাসার ফাজিলের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম ও আলিম শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতের রায়ে তারা সন্তুষ্ট। শিক্ষক হয়েও যারা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে পারে ও সহপাঠী হয়ে হত্যা করতে পারে তাদের মতো কুলাঙ্গার যেন দেশের কোনো মাদ্রাসায় সৃষ্টি না হয়।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী উম্মে সালমা ও সুরাইয়া বলছিল, নুসরাত হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক। ভবিষ্যতে মাদ্রাসায় যেন এমন নৃশংস কেউ তৈরি না হয়, সেদিকেও সবাইকে নজর দিতে হবে।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা হোসাইন আহমেদ বলেন, অতীতে কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রের কারণে মাদ্রাসার অনেক দুর্নাম হয়েছে। নুসরাতের ঘটনার পর তারা চেষ্টা করছেন তাদের মতো কোনো অপরাধী যেন আর মাদ্রাসায় সৃষ্টি না হয়। তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের প্রত্যাশা করেন।

সোনাগাজী মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির অভিভাবক সদস্য ইসমাইল হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় আগের মতো যাতে কোনো যৌন হয়রানির ঘটনা না ঘটে সেজন্য সচেষ্ট আছেন। মাদ্রাসায় সিরাজের মতো কুলাঙ্গার ঠেকাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সূত্র : সমকাল
এন কে / ২৬ অক্টোবর

ফেনী

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে