Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২৫-২০১৯

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় না পেয়ে মসজিদে 'আত্মহত্যা' বাংলাদেশির

অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় না পেয়ে মসজিদে 'আত্মহত্যা' বাংলাদেশির

ক্যানবেরা, ২৬ অক্টোবর - নদী পথে বিদেশ পাড়ি এ এক নির্মম বাস্তবতা অভিবাসন প্রত্যাশীরদের। আর এই বাস্তবতার অন্যতম রুট ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা মালয়েশিয়া।

উন্নত জীবন আর অর্থ-বিত্তের মোহে এ পথে পা বাড়াতে একটু কার্পণ্য করেন না বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মতো বাংলাদেশিরাও। অথচ এই গন্তব্যে পৌঁছাতে পথের বাঁকে বাঁকে থাকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাতছানি।

ইউরোপ যেতে ভূমধ্যসাগরে ডুবে বাংলাদেশির মৃত্যর গল্প প্রায়শ শোনা গেলেও, নদী পথে অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন বাংলাদেশিদের জন্য নতুন পথ। কিন্তু সে পথ ধরে গন্তব্যে পৌঁছাতে গিয়ে অনেকে প্রাণ হারান। আবার অনেকে পৌঁছানোর পর অনুকূল পরিবেশ না পেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। তাদের একজন বাংলাদেশি মোহাম্মদ মহসিন মিয়া (৩৩)।

গত রোববার (২০ অক্টোবর) সিডনির বাংলাভাষী অধ্যুষিত সাবার্ব লাকেম্বার( ৫৮-৬০ নম্বর কুইগ স্ট্রিটের দারুল উলুম মসজিদ) একটি মসজিদের পাশে ওই বাংলাদেশির ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম এসবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে মহসিনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে, মহসিনের পরিচিতরা বলছেন, মহসিন রাজনৈতিক আশ্রয় না পেয়ে মানসিক যন্ত্রণায় আত্মহত্যা করেছেন। 

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার বিকেলে আসরের নামাজ পড়তে এসে মুসল্লিদের অনেকে মসজিদের পিছনে অন্ধকার স্থানে একটি লাশ ঝুলতে দেখেন।এর পর পুলিশে খবর দেন তারা, পরে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।

মহসিন মিয়ার বাড়ি বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার মধুখালীর মথুরাপুর গ্রামে। তারা চার বোন ও তিন ভাই বলে জানান তার পরিচিতজনেরা। পাঁচ বছর আগে তার বাবা মারা যাওয়ার পর পরিবারের হাল ফেরাতে প্রথমে তিনি মালয়েশিয়া

সিএসবি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, মহসিন ২০১৩ সালে নৌকায় করে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান। সম্প্রতি তিনি শরণার্থী ভিসার আবেদন করেছিলেন। তবে, তার প্রাথমিক আবেদন অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এরপর তিনি ফেডারেল সার্কিট কোর্টে আপিল করেন। সেই আপিলের পর থেকে অস্ট্রেলিয়াতে তিনি ‘ব্রিজিং ভিসা’(বৈধ কাজের অনুমতিপত্র নয় এমন ভিসা) নিয়ে বসবাস ছিলেন।

ব্রিজিং ভিসায় বসবাসকারী অন্য দেশের নাগরিকদের মতোই মহসিন মিয়ারও কোনো উপার্জন ছিল না। তাছাড়া তার কোমরে সমস্যা থাকায় তিনি বেশি সময় কাজ করতে পারতেন না। বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সহায়তায় তিনি সেখানে জীবনযাপন করতেন।

মহসিনের বন্ধুদের বরাত দিয়ে ‘দ্য রিফিউজি অ্যাকশন কোয়ালিশন’ একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দুর্বিষহ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে কয়েক মাস আগেই মহসিন আত্মহত্যা করবেন বলে জানিয়েছিলেন। অপরের সাহায্য নিয়ে চলার জন্য তিনি সবসময় অপরাধবোধে ভুগতেন।

রিফিউজি অ্যাকশন কোয়ালিশনের মুখপাত্র ইয়ান রিন্টুল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘মোহাম্মদের (মহসিন মিয়া) মৃত্যু এখন পর্যন্ত আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা, যার মাধ্যমে সরকারের ব্যর্থ অ্যাসাইলাম প্রসেসের চিত্র ফুটে ওঠে।’

এর আগে মহসিন রকডেল মসজিদে থাকতেন। মাস খানেক আগে লাকেম্বার দারুল উলুম মসজিদে বসবাস করা শুরু করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেখানে তিনি মসজিদ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। বাংলা ভাষাভাষী কমিউনিটির মুসল্লিরা মাঝে মাঝে অনিয়মিতভাবে তাকে আর্থিক সহায়তা দিতেন।

রিফিউজি অ্যাকশন কোয়ালিশন বলছে, লিম্বতে প্রায় হাজার খানেক শরণার্থী রয়েছে, যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ের আশায় ব্রিজিং ভিসা নিয়ে বসবাস করছেন। তারা তাদের বন্ধু-বান্ধব ও সেখানে তাদের কমিউনিটির সহযোগিতা নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছেন।

গত জুলাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার হিউম্যান রাইটস কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০১৩ সালের আগ থেকে এভাবে নৌকায় করে প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছে। যারা দেশটিতে আসার পর অস্থায়ী ভিসা নিয়ে অনিশ্চিতভাবে দেশটিতে জীবনযাপন করছে।

হিউম্যান রাইটস কমিশন আরও জানিয়েছে, তারা সন্ধান করে জানতে পেরেছে, যারা এভাবে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে তাদের বেশিরভাগ গৃহহীন ছিলেন এবং তাদের বেশিরভাগই দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করতেন।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার তাদের দেশে বৈধভাবে বসবাস করার জন্য একটি আইন প্রণয়ন করেছে, যেখানে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বসবাসের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কিভাবে এসব রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা কমিয়ে আনা যায় সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

এদিকে,মহসিন আলীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের বাংলাভাষী কাউন্সিলর মোহাম্মদ শাহে জামান টিটু।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমাদের কমিউনিটির পক্ষ থেকে আরেকটু অ্যাক্টিভ হওয়া উচিত, আরেকটু সোশ্যাল কাজে সময় দেওয়া উচিত।’

‘এই যে আত্মহত্যার প্রবণতা,এটা কিন্তু একদিনে হয়নি, এটা দীর্ঘ দিনের ব্যাপার।’

তিনি বলেন,‘মোহাম্মদ মহসিন আলীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর তার বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিরা এবং দারুল উলুম সিডনি কর্তৃপক্ষ তার সঙ্গে দেখা করেন এবং মৃত মহসিন আলী সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য দেন।

মোহাম্মদ মহসিন মিয়ার লাশের ময়না তদন্ত ও করোনারের রিপোর্ট সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। তাই জানাজা কবে হবে,কোথায় হবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। তার লাশ দেশে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ সম্পর্কে কাউন্সিলর টিটু বলেন, ‘ফরেনসিক, করোনার রিপোর্ট ইত্যাদির জন্য আরও ৮-১০ দিন লাগতে পারে।’

‘তার পরিবার যদি আমাদেরকে অথরিটি দেয়, তাহলে দেশে মরদেহ পাঠানোর জন্য কাল-পরশুর মধ্যেই আমরা ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়াতে আপিল করার ও ফান্ড রেইজ করার কাজ শুরু করবো।’

অষ্ট্রেলিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে