Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২৩-২০১৯

ক্যাসিনোকাণ্ডে মোল্লা কাওছার কি গ্রেফতার হচ্ছেন?

ক্যাসিনোকাণ্ডে মোল্লা কাওছার কি গ্রেফতার হচ্ছেন?

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর - যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর পরিণতি বরণ করতে হলো ক্ষমতাসীন দলের অপর সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারের। তাকেও আজ স্বেচ্ছাসেবক লীগের শীর্ষ নেতার পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোকাণ্ডে নাম আসায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হলো।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা মোল্লা আবু কাওছারকে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে বাদ দিয়েছেন বলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।

বুধবার ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের একটি বিশেষ বর্ধিতসভায় তিনি বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিকেও তার পদ থেকে নেত্রী অব্যাহতি দিয়েছেন। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি, বিষয়টি তাকে জানিয়েছি।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে বাদ দেয়ার পর মোল্লা কাওছারকেও যে পদচ্যুত করা হবে সেটি অনুমিতই ছিল সংগঠনটির নেতাকর্মীদের কাছে। তবে মোল্লা কাওছার পদচ্যুতি থেকে বাঁচতে মরিয়া ছিলেন। গত কয়েক দিন তিনি ক্ষমতাসীন দলের কয়েক নেতার কাছে ধরনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তার চাওয়া ছিল সম্মানজনক বিদায়। স্বেচ্ছাসেবক লীগের আসন্ন কাউন্সিলে সভাপতিত্ব করার সুযোগ চেয়ে দেনদরবার করে যাচ্ছিলেন মোল্লা কাওছার। কিন্তু তার সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলো।

মোল্লা কাওছারের 'শাস্তি' পদচ্যুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি আর বেশি হয়ে সেটি নিয়ে আলোচনা চলছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে। অনেকের অনুমান মোল্লা কাওছারের 'শাস্তি' সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তাকে গ্রেফতারও করা হবে। যেমনটি করা হয়েছে ক্যাসিনোর মূলহোতা সম্রাট, খালেদ ভূঁইয়া ও আরমানকে। এরা প্রত্যেকেই রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাসিনোর সুবিধাভোগী হিসেবে মোল্লা কাওছারের নাম বলেছেন।

এ ছাড়া ঢাকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনোর কারবারের সঙ্গে যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর একেএম মমিনুল হক ওরফে সাঈদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোল্লা কাওছারেরও নাম এসেছে সংবাদমাধ্যমে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর মতিঝিলের ওই ক্লাবে অভিযান চালিয়ে মদ, নগদ টাকা এবং ক্যাসিনোর সরঞ্জাম জব্দ করে র্যা ব। মোল্লা কাওছার ছিলেন এ ক্লাবের সভাপতি।

যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি ব্যবসা চালিয়ে আসা আরেক যুবলীগ নেতা জিকে শামীমের সঙ্গেও সখ্য ছিল মোল্লা কাওছারের।

ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আড়ালে চলে যান মোল্লা কাওছার। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হলেও এই সম্মেলনে আয়োজন নিয়ে তার কোনো তোড়জোড় নেই। যাচ্ছেন না কোনো সভা-সমাবেশে। কিছু দিন বিদেশে কাটিয়ে এখন ঢাকায়ই অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তবে নেতাকর্মীরা তাকে পাচ্ছেন না।

এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল ইতিমধ্যে কাওছার ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দেরও নির্দেশ দিয়েছে। সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি) থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে কাওছারসহ স্ত্রী পারভীন লুনা, মেয়ে নুজহাত নাদিয়া নীলা এবং তাদের প্রতিষ্ঠান ফাইন পাওয়ার সল্যুয়েশন লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়।

মোল্লা মো. আবু কাওছারকে সভাপতি এবং পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে সর্বশেষ ২০১২ সালে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি হয়েছিল। মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও ওই কমিটিই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল।

আগামী ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন হওয়ার কথা। তার আগে ১১ ও ১২ নভেম্বর হবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সম্মেলন। তার আগেই দায়িত্ব থেকে বাদ পড়লেন সভাপতি মোল্লা কাওছর।

ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনো চালানোর বিষয়টি ধরা পড়ার পর তাতে যুবলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে।

এর সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ উঠে আসে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতার বিরুদ্ধে।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী শুরুতে এই অভিযানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেও পরে সুর নরম করেন। তার বিরুদ্ধেও অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্যাসিনোসংশ্লিষ্ট যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ ওঠে।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যে গত রোববার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে ওমর ফারুককে যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী সেদিনও বলেন, অন্যায়কারীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে এবং তাতে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

বুধবার ধানমণ্ডির হোয়াইট হলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিতসভায় সবাইকে সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও নজরদারিতে আছেন। তিনি বলেন, নিজের ঘরের লোকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সৎসাহস দেখিয়ে এই দেশে শাসক হিসেবে পচাত্তর-পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনাই কেবল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটা অন্য কোনো সরকার করতে পারেনি। নিজের ঘরের মধ্য থেকে তিনি শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছেন।… টেন্ডারবাজির সঙ্গে, চাঁদাবাজির সঙ্গে, মাদকের সঙ্গে যারা যুক্ত থাকবে, তাদের কেউ ছাড় পাবে না।

প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা ও দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সতর্কতার থেকে অনেকেই অনুমান করছেন মোল্লা কাওছার বাঁচতে পারবেন না। তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার তথ্য স্বীকার করে মোল্লা কাওছার গণমাধ্যমকে বলেন, শুনলাম সংগঠন থেকে আমাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে, আর অব্যাহতি দেয়া হলে আমার কিইবা করার থাকতে পারে।

প্রসঙ্গত ১৪ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে অপসারণের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের বিষয়েও চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, যুবলীগের এক নেতা অস্ত্র উঁচিয়ে চলে। আরেকজন প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে বেড়ায়।

এর পর গণমাধ্যমে যুবলীগ নেতাদের সংশ্লিষ্টতায় ঢাকার ৬০টি জায়গায় ক্যাসিনো পরিচালনার খবর প্রকাশ হয়। ১৮ নভেম্বর ফকিরাপুলের ইয়াংমেনস, ওয়ান্ডারার্স এবং গুলিস্তানে মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া সংসদে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ মদ ও ৪০ লাখের বেশি টাকা উদ্ধার করে র্যা ব। ক্যাসিনো পরিচালনার অভিযোগে ওই দিনই যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি ইয়াংমেনস ক্লাবের সভাপতি ছিলেন।

পাশের ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকেও জুয়ার সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ক্লাব পরিচালনার নেতৃত্বে ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার। এর পর ধানমণ্ডির কলাবাগান ক্রীড়াচক্রে অভিযান চালিয়েও ক্যাসিনো চালানোর প্রমাণ পায় র্যা ব। অস্ত্র-গুলি ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয় ক্লাবের সভাপতি কৃষক লীগের সহসভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজকে।

এর মধ্যে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে ঠিকাদারি করা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় মোহামেডান ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ ও বিসিবির পরিচালক লোকমান ভূঁইয়াকে।

দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয় শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে। পরে গ্রেফতার করা হয়েছে ক্যাসিনো সম্রাট যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে।

সূত্র : যুগান্তর
এন এইচ, ২৩ অক্টোবর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে