Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২১-২০১৯

নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগার হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্র

শাহীন খন্দকার


নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগার হচ্ছে বিনোদন কেন্দ্র

ঢাকা, ২১ অক্টোবর- রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগার পুরান ঢাকার ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে মিল রেখে বর্তমান সরকার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন। এই কারাগার দেশের প্রাচীনতম কারাগার। প্রায় ২২৮ বছরের পুরোনো এই কারাগারের সঙ্গে অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি ও ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, মোগল সুবাদার ইব্রাহিম খান ঢাকার চকবাজারে (নাজিমুদ্দিন রোড) একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলে ১৭৮৮ সালে ওই দুর্গের ভেতরে অপরাধী রাখার জন্য একটি ক্রিমিনাল ওয়ার্ড নির্মাণ করে।সেই দুর্গ-ই একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তর হয়। কারাগারটি ৩১ একর জমিতে নির্মিত এবং ৪৫৯০ জন বন্দী এতে থাকতে পারতো । জুলাই ২০১৬ সালে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এই নতুন কারাগারে কারাবন্দীদের স্থানান্তরিত করা হয়।

জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার কারাস্মৃতিজড়িত স্থাপনা জাদুঘর হিসাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।এ ছাড়া নাগরিকদের জন্য থাকছে পার্ক, মাঠ, কমিউনিটি সেন্টারসহ নানান নাগরিক সুবিধা। বর্তমানে কাজ এগিয়ে চলেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় আগামী বছরের ডিসেম্বর সর্বস্তরের মানুষের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের ‘পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ইতিহাস, ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ ও পারিপার্শ্বিক উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এই সংরক্ষণ ও রূপান্তরের কাজ চলছে।

গত বছর নভেম্বরে কারা অধিদপ্তর ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।চলতি বছরের ২৮ জুন এই প্রকল্প বাস্তবায়নকাজের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৭ কোটি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা। ১০ এপ্রিল ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির উদ্বোধন করেন। এটি পুরনো ঢাকার চানখাঁরপুলে অবস্থিত। ঢাকা বিভাগের এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামীদের এখানে দন্ডপ্রদানের জন্য আটক রাখা হত। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বার এই কারাগারে আটক জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়।

কারা অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এক এম মোস্তফা কামাল জানালেন, পুরান ঢাকার এই কারাগার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতার বহু স্মৃতি বহন করছে। নগর ওপ্রত্নতত্ত্বের দিক দিয়েও কারাগারটি তাৎপর্য মণ্ডিত ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এখন পুরোদমে কারাগারের সংস্কারকাজ চলছে। শেষ হলেই কারাগারটিকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, কারাগারের সীমানার ভেতর ছোট-বড় অনেকগুলো টিনশেড স্থাপনা (স্টাফ কোয়ার্টার) ভাঙার কাজ প্রায় শেষ করছেন শ্রমিকেরা। তবে পদ্মা, মেঘনা, সুরমা নামের তিনটি ভবন, কারা হাসপাতাল, পুরোনো প্রধান ফটক, ফাঁসির মঞ্চসহ ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে সেলে কারাবন্দী ছিলেন এবং জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে যে কক্ষে হত্যা করা হয়েছিল, সেটি জাদুঘর হিসেবে সংরক্ষণের জন্য কাজ চলছে।কারাগারটি সংরক্ষণ ও সবুজ উদ্যান করার কাজ চলায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন পুরান ঢাকার খোদা বক্স(৬০)সহ বাসিন্দারা। সম্পাদনা : মুসবা

সূত্র : আমাদের সময়
এন কে / ২১ অক্টোবর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে