Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ , ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-২১-২০১৯

মাছশিকারি থেকে সিরিয়াল কিলার

মাছশিকারি থেকে সিরিয়াল কিলার

নাটোর, ২১ অক্টোবর- সবাই জানতেন তিনি সাধারণ এক মাছশিকারি। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভালোই কাটছিল সাদামাটা জীবন। কিন্তু টাকার লোভে একের পর এক মানুষ হত্যার নেশা পেয়ে বসে তাকে। বিভিন্ন এলাকা থেকে হত্যার ‘কন্ট্রাক্ট’ আসতে থাকে। এভাবে ক্রমেই ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার হয়ে ওঠেন আনোয়ার ওরফে বাবু শেখ ওরফে কালু (৪৫)। ২০১৩ সাল থেকে সাত বছরে মোট আটজনকে হত্যার কথা নিজেই স্বীকার করেছেন তিনি।

তবে পুলিশের ধারণা, তিনি আরও বেশি মানুষ হত্যা করেছেন। হত্যার আগে স্কুলছাত্রীসহ দুজনকে ধর্ষণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গতকাল রবিবার বেলা ১১টায় নাটোর রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আকতার এসব তথ্য জানান। বাবু শেখ নওগাঁ জেলার রানীনগর এলাকার বাসিন্দা।

প্রেসব্রিফিংয়ে ডিআইজি একেএম হাফিজ আকতার বলেন, বাবু শেখ একজন সিরিয়াল কিলার। তিনি নারীদের ওপর কোনো কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে থাকতে পারেন। তবে যতগুলো হত্যাকা- ঘটিয়েছে, প্রায় সবগুলোর ধরন একই। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সে মধ্যবিত্ত এবং একা থাকা নারীদের হত্যার জন্য বেছে নিয়েছেন। একের পর এক হত্যা করতে করতে তিনি মানসিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছেন।

নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকরাম হোসেন বলেন, বাবু আরও বেশি মানুষ হত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার (আজ) আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে। আশা করছি, জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ্য বেরিয়ে আসবে।

পুলিশ জানায়, ২০১৩ সালে নলডাঙ্গার বাসুদেবপুর এলাকার রোকেয়া বেগম (৪৫) হত্যার মধ্য দিয়ে রক্তখেলায় মেতে ওঠেন তিনি। ওই মামলায় চার্জভুক্ত আসামি হলেও পুলিশ তাকে ধরতে পারেনি।

পুলিশ জানায়, গত ৮ অক্টোবর রাতে লালপুর উপজেলার চংধুপইল এলাকার আনসার সদস্য সাহেরা খাতুন শারদীয় দুর্গাপূজার দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফিরে যান। বাড়িতে একা থাকায় ওই রাতেই আনসার সদস্যকে হত্যা করেন বাবু। হত্যার পর আনসার সদস্যের কানের দুল এবং গলার স্বর্ণের চেন নিয়ে যান বাবু ও তার সহযোগীরা। এর পর ওই রাতেই বাগাতিপাড়ার জয়ন্তীপুর এলাকায় ৬০ বছরের বৃদ্ধা রেহেনা বেগমকে হত্যা করে তারা। এরপর সেখানেও লুটপাট চালায়। এই দুটি হত্যাকা-ের সূত্র ধরেই শনিবার সন্ধ্যায় নাটোর রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কিলার বাবুকে।

পুলিশের সূত্র জানায়, আনসার সদস্যকে হত্যার পর মোবাইল ফোনে বাবু শেখের সঙ্গে অন্য একজনের কথোপকথন হয়। এ ছাড়া গলায় স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল বিক্রি করা হয় নাটোর শহরের দুইটি স্বর্ণের দোকানে। মোবাইলের কথোপকথন ও স্বর্ণ উদ্ধারের সূত্র ধরেই এই জোড়া খুনের রহস্য বেরিয়ে আসে।

রহস্য উদ্ঘাটনে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, জিজ্ঞাসাবাদে বাবু এখন পর্যন্ত আটটি হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করেছেন। ৮ অক্টোবরের এই হত্যাকা- ছাড়াও নলডাঙ্গা উপজেলার তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন তিনি। নিহতরা হলেন বাশিঁলা পূর্বপাড়ার আমেনা বেওয়া (৫৮), বাসুদেবপুর এলাকার রোকেয়া বেগম (৪৫) ও খাজুরা গ্রামের স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন লাবনী। হত্যার আগে ধর্ষণ করেন লাবণীকে। এ ছাড়া টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর বাঁশতৈল গ্রামের রূপবানু (৪৫), টাঙ্গাইল জেলার সফিপুর থানার তক্তারচালা এলাকার সমলা (৬০) ও নওগাঁ জেলায় এক নারীকে হত্যা করেন।

তবে ওই কর্মকর্তা জানান, বাবু নলডাঙ্গা উপজেলার হালিমা খাতুন ওরফে শারমিন (২০) ও তার প্রতিবন্ধী শিশু আব্দুল্লাহ (২) হত্যাকান্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারেন।

নাটোরের পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা বলেন, বিভিন্ন সময় নাটোর অঞ্চলে হত্যাকা- ঘটে আসছে। কিন্তু কোনো মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করা যাচ্ছিল না। বাবু শেখ বিভিন্ন স্টেশনে যাযাবরের মতো রাত যাপন করতেন। কিন্তু আমরা তাকে গ্রেপ্তার করার পর তিনি সব হত্যাকান্ডের বিষয় স্বীকার করেছেন।

বাবু শেখ দাবি করেন, স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। মাছ শিকার করে সংসার চলত তার। কিন্তু তার সহযোগীরা তাকে টাকার লোভ দেখিয়ে ২০১৩ সালে নলডাঙ্গার বাসুদেবপুর এলাকার রোকেয়া বেগমকে (৪৫) হত্যা করায়। এর পর ঢাকায় চা বিক্রির জন্য চলে যান। আবার কোনো হত্যার পরিকল্পনা হলে সহযোগীরা তাকে ফোন দিলে তিনি চলে আসতেন। এভাবে একের পর এক হত্যাকা- ঘটিয়ে গেছেন।

হত্যার সময় কখনো খারাপ বা ভয় লাগত না-এমন প্রশ্নের জবাবে বাবু শেখ জানান, টাঙ্গাইলের এক নারীকে হত্যার সময় তার ভয় লাগে। এর পর তিন মাস অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে ছিলেন।

আর/০৮:১৪/২১ অক্টোবর

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে