Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-১৭-২০১৯

সম্রাটে বিব্রত আওয়ামী লীগ

সম্রাটে বিব্রত আওয়ামী লীগ

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর- ঢাকা দক্ষিণ মহানগরের সদ্য বহিস্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট এখন ১০ দিনের রিমান্ডে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। কিন্তু সম্রাটের গ্রেপ্তার নিয়ে পুরো আওয়ামী লীগ বিব্রত। আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট নেতাই আতঙ্কিত বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। কারণ গত ১০ বছরে সম্রাটের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযোগীতা নেননি, এমন নেতার সংখ্যা হাতেগোনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, সম্রাট কেবল কর্মীদেরই টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করেননি। তিনি বড়সড় নেতাদেরও সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। রিমান্ডে সম্রাট এরকম ধারণাও দিয়েছেন যে শুধু দক্ষিণ নয়, উত্তর যুবলীগসহ পুরো যুবলীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সম্রাট দেখাশোনা করতেন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে পরিচালনার জন্য সম্রাট মাসে মাসে টাকা দিতেন।

শুধু যুবলীগ নয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে এমন তথ্যও রয়েছে যে, অন্য অঙ্গ সহযোগী সংগঠন এমনকি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকেও সম্রাট নানারকম উপহার উপঢৌকনসহ টাকাপয়সা দিতেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, সিঙ্গাপুরে সম্রাটের খুব বড় নেটওয়ার্ক ছিল। সিঙ্গাপুরে যেসব নেতারা বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসা বা অন্য কারণে গেছে তাদের অনেকেই সম্রাটের সহায়তা নিয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গাপুরে সম্রাটের শুধু ক্যাসিনোই নয়, বাড়ি এবং একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতারা সেদেশে গেলেই সেই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অঢেল টাকাপয়সা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল সম্রাটের। এছাড়া সম্রাট হুন্ডির ব্যবসা করতেন বলেও জানা গেছে।

কিন্তু এতসব অপরাধ সত্ত্বেও দলের কর্মীদের মধ্যে সম্রাটের বিপুল জনপ্রিয়তা রয়েছে। বিশেষ করে সম্রাটকে যেদিন আদালতে হাজির করা হয়, সেদিন সম্রাটের লোকজন আদালতে শো-ডাউন করেছে। শুধু তাই নয়, সম্রাটের মুক্তির দাবিতে পুরো ঢাকা শহর সম্রাটের পোস্টারে ছেয়ে গেছিলো। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, সম্রাটের গ্রেপ্তারে দলের কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কিছু কিছু কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সম্রাট অনেক বিতর্কিত এবং অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়ালেও কর্মীদের মধ্যে সে ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। এ কারণে আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতাকে কর্মীদের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কর্মীরা নেতাদের প্রশ্ন করছে যে আজকে কেন সম্রাটকে ধরা হলো। যখন সম্রাট ক্যাসিনো বাণিজ্য শুরু করেছিল, তখন তাকে কেন ধরা হলো না?

আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, সম্রাটের মুক্তির বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অস্বস্তি এবং উত্তেজনার পারদ আস্তে আস্তে বাড়ছে। ভবিষ্যতে সম্রাটের মুক্তির জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এরকম কর্মসূচি যদি গ্রহণ করা হয়, তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের জন্য বিব্রতকর হতেই পারে।

আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন যে, সম্রাট একটা আলাদা আওয়ামী লীগ গড়ে তুলেছিল। তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী ছিল। এরা যদি এখন সম্রাটের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করে বা কর্মসূচি দেয় তাহলে সেটা আওয়ামী বিপক্ষে হয়ে যাবে। সম্রাট তখন আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হিসেবেই দাঁড়াবে। এই অবস্থা আওয়ামী লীগের জন্য হবে অত্যন্ত বিব্রতকর। তবে আওয়ামী লীগের অন্য একজন নেতা বলেছেন যে মোস্তফা মহসীন মন্টু একসময় ঢাকায় আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র কর্তা ছিলেন। যখন তাকে বহিস্কার করা হয়, তখন তার পক্ষেও তার কর্মীবাহিনী অনেক আন্দোলন সংগ্রামের হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু রাজনীতির মূল নেতৃত্বের সঙ্গে না থাকলে সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে সাময়িক জনপ্রিয়তা অর্জন করা যায়, বড় নেতা হওয়া যায় না। কাজেই কিছুদিনের মধ্যে সম্রাটকে নিয়ে কর্মীদের যে আবেগ, উত্তেজনা- তা স্তিমিত হয়ে যাবে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আর/০৮:১৪/১৭ অক্টোবর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে