Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 4.0/5 (2 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-১৭-২০১৯

বাবার উদ্দেশে মহিউদ্দীনকন্যা টুম্পার লেখা শেষ চিঠি ভাইরাল

বাবার উদ্দেশে মহিউদ্দীনকন্যা টুম্পার লেখা শেষ চিঠি ভাইরাল

চট্টগ্রাম, ১৭ অক্টোবর- ‘প্রিয় বাবা, তোমার শূন্যতা খুব বেশি অনুভব করছি। সকালে জেগে ওঠার জন্য এখন আর কেউ বকাবকি করে না। বাড়ির যে গাছগুলোতে রোজ পানি ছিটিয়ে সজীব করে রাখতে তুমি, তারাও এখন খুব বিষণ্ন, নির্জীব। ট্রাফিক সিগনালে লালবাতি জ্বলে উঠলে যে ভিখারীটি গাড়ির কাচের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে, সেও তোমার বেশ অভাববোধ করছে। আমি, আমরা সবাই তোমার অপেক্ষায় দিন গুনছি। বাবা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি। তুমি ফিরে এসো বাবা। একবার আমি তোমাকে ড্যাড বলে ডাকতে চাই’-ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা।

এই চিঠিটি লিখেছিলেন চট্টগ্রামের বারবার নির্বাচিত জনপ্রিয় মেয়র প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরীর মেয়ে ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পা। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দীন চৌধুরী ১/১১’র সময় গ্রেফতারের পর কারাগারে থাকাকালে চিঠিটি লিখেছিলেন টুম্পা। মহিউদ্দীন চৌধুরী আজ নেই। বেঁচে নেই টুম্পাও। তার মৃত্যুর ১০ বছর কেটে গেছে।

টুম্পার ১১ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার লেখা চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেছেন তার ভাই শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। প্রিয় বোনের লেখা চিঠিটি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তুলে ধরে বাবা ও বোনকে স্মরণ করেছেন। স্ট্যাটাসে নওফেল লিখেছেন-‘জনকের প্রতি আবেগঘন উষ্ণতা মেখে আমার আদরের ছোট বোন অভিমানী ফৌজিয়া সুলতানা টুম্পার জীবনের প্রথম এবং শেষ চিঠি’।

টুম্পার চিঠি দিয়ে দেয়া নওফেলের স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। অনেকেই লাইক দিয়েছেন। মন্তব্য করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।

জানা গেছে, মহিউদ্দীন চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী ছিলেন টুম্পা। ২০০৮ সালের ১৭ অক্টোবর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।

একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার মেয়ে হলেও টুম্পার জীবন ছিল সাদাসিদে। তার মধ্যে অহংবোধ ছিল না। তার শিক্ষক প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন এ বিষয়ে বলেন, টুম্পা অনেক সাধাসিধে ছিল। তার বাবা মেয়র- এই বিষয়টি আমরা অনেকেই জানতাম না। এক-এগারোর সময় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার হলে জানতে পারি টুম্পা তার মেয়ে।

ক্যান্সার আক্রান্ত টুম্পা তার মৃত্যুর আগে পিতার সঙ্গে শেষ দেখা করতে পারেনি। এমনকি টুম্পাকে মৃত্যুর আগে শেষ দেখার জন্য মহিউদ্দীনকে প্যারোলে মুক্তিও দেয়া হয়নি। পরে ছাড়া পেলেও তাকে ব্যাংককে যেতে সরকার তালবাহানা করে যাত্রা বিলম্বিত করেছিল। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসেই তিনি টুম্পার মৃত্যু সংবাদ পান। এ নিয়ে মহিউদ্দীন চৌধুরী আমৃত্যু আক্ষেপ করে গেছেন।

সূত্র: যুগান্তর

আর/০৮:১৪/১৭ অক্টোবর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে