Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.0/5 (25 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)


আপডেট : ১০-১৬-২০১৩

কটন বাডেও মৃত্যু হতে পারে!

কটন বাডেও মৃত্যু হতে পারে!
 অনেকেই কান পরিষ্কার করতে কটনবাড ব্যবহার করেন। কিন্তু বিরল হলেও এই কটন বাড ব্যবহারের কারণেও কারো মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রকাশিত একটিরিপোর্ট থেকে জানা যায়, এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল কানাডার মন্ট্রিলে। ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডা. জেসক রামসে শেষমেশ কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগকে বলেছেন যে, কটনবাডের প্যাকেটের ওপর সতর্কবাণী লিখে দিতে।
 
মন্ট্রিল শহরের অধিবাসী ৪০ বছর বয়সী মি. ডেনিয়েল সেন্ট পিয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর কারণ ছিল বহিঃকর্ণের ইনফেকশন, যা কানের পর্দা ছিদ্র করে মেনিনজাইটিস করেছে। মি. সেন্ট পিয়ে একজন কানে মাত্রাতিরিক্ত কটনবাড ব্যবহারকারী। যে কারণে প্রতিদিন বারবার ব্যবহারের ফলে তার বহিঃকর্ণে ইনফেকশন হয় এবং পরে তিনি আরো বেশি কটনবাড ব্যবহার করাতে তার বহিঃকর্ণের ইনফেকশন মধ্যকর্ণ থেকে অন্তঃকর্ণে বিস্তৃতি লাভ করে। অন্তঃকর্ণ থেকে মস্তিস্ক এবং মস্তিস্কের আবরণ মাত্র কয়েক মিলিমিটার দূরে। যার ফলে ইনফেকশন অতি সহজেই মস্তিষ্ক এবং তার আবরণে সংক্রমিত হয়ে হতে পারে মেনিনজাইটিস বা স্পাইনাল কর্ডের চার পাশের প্রদাহ, যা কানের ইনফেকশনের জটিলতা হিসেবে দেখা দেয়।

 

মি. সেন্ট পিয়ে কান ব্যথা ওকান থেকে রক্তপাতের জন্য হাসপাতালে গিয়েছিলেন। তার কানের পর্দা এত বেশি ফুলেছিল এবং তার কানে এত বেশি রক্ত জমেছিল যে, ডাক্তার কানের পর্দা ভালো করে দেখতেও পারেননি। চিকিৎসক তাকে একটি কানের ড্রপ দিয়ে ছেড়ে দেন। সে দিনরাতে বাড়িতে তার অবস্থার আরো অবনতি হয়। তার স্ত্রী তখন জরুরি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে তাকে মন্ট্রিল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান এবং ভর্তি করেন। ডাক্তারদের শত চেষ্টার পরও সেখানে তার মস্তিষ্ক এবং মস্তিষ্কের আবরণের প্রদাহজনিত কারণে জীবনাবসান ঘটে, যা কিনা কটনবাড ব্যবহারের জন্য হয়েছিল। ডা. রামসে বলেছেন, অতিরিক্ত কটনবাড ব্যবহার করলে বহিঃকর্ণ ফুলে যায় এবং তা ব্যবহারকারীকে কান বন্ধ থাকার একটি অনুভূতি দেয়। এরপর ডা. জেকস কানাডার স্বাস্থ্য বিভাগকে কটনবাডের প্যাকেটের গায়ে ‘রেড’ দিয়ে সতর্ক চিহ্ন দিতে প্রস্তাব করেন।
 
কানের পর্দা ছিড়ে যাওয়ার কারণ
  • কোনো কিছু দিয়ে কান খোঁচালে
  • কোনো কিছু ঢুকলে, তা অদক্ষ হাতে বের করার চেষ্টা করলে
  • হঠাৎ বাতাসের চাপজনিত কারণে যেমন-কানে থাপ্পড় দিলে, কোনো বিস্ফোরণ ঘটলে
  • হঠাৎ পানির চাপ, যেমন-পানির নিচে সাঁতার কাটলে, ওয়াটারপোলো, ডাইভিংয়ে মাথায় আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে।
 
উপসর্গ
  • কানে ব্যথা। প্রথমে তীব্র ও পরে অল্প ব্যথা।
  • কানে কম শুনতে পাওয়া। অল্প ছিঁড়ে গেলে অল্প কম শুনবে, বেশি ছিঁড়ে গেলে বধিরতা বেশি হবে।
  • কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হতে পারে। মাথা ঘোরাতে পারে, যদিও তা সল্পকালীন।
  • কান পরীক্ষা করলে দেখা যাবে, কানের পর্দায় ছিদ্র আছে এবং ছিদ্রের চার পাশে এলোমেলো এবং লাল হয়ে আছে।
  • বহিঃকর্ণে রক্ত জমাট থাকতে পারে।
 
চিকিৎসা
  • কানে কোনো ইনফেকশন না হওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ মতে।
  • ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামাল খেতে হবে।
  • কানে কোনো পানি দেয়া যাবে না।
  • কান খোঁচানো যাবে না।
  • কানে কোনো ড্রপ দেয়া যাবে না।
  • সাতাঁর কাটা যাবে না।
  • দুই সপ্তাহ পরও রক্ত জমা থাকলে তা বের করতে হবে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দিয়ে।
  • সাধারণত উপরোউক্ত চিকিৎসায় রোগী ভালো হয়ে যায়।
  • যদি রোগী দেরিতে চিকিৎসার জন্য কান থেকে পুঁজ পড়া বা ইনফেকশন নিয়ে আসেন, তখন তা কানের বহিঃকর্ণ ও মধ্যকর্ণের প্রদাহ হিসেবে চিকিৎসা করতে হবে।
  • যদি কানের পর্দার ছিদ্র থেকে যায় তাহলে তিন মাস পর কানের মাইক্রোসার্জারির মাধ্যমে কানের পর্দা জোড়া লাগাতে হবে যা এখন বাংলাদেশে নিয়মিত করা হয়।
  • সাধারণত কানের পর্দা ছিঁড়ে গেলে যে কোনো ফার্মেসি থেকে কানের ড্রপ নিয়ে অনেকেই তা ব্যবহার করে, যা একেবারেই উচিত নয়। এক্ষেত্রে কানে কিছুই ব্যবহার করা যাবে না এবং নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে বা নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

সচেতনতা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে