Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ , ৪ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৯-২০১৯

১২ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের শতাধিক ‘টর্চার সেল’

১২ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের শতাধিক ‘টর্চার সেল’

ঢাকা, ৯ অক্টোবর- দেশের ৪৪ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১২ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৫৮টি হলে ছাত্রলীগের ‘টর্চার সেল’ রয়েছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার এমন প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছেন।

এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী আজ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন যে, হলগুলোতে তল্লাশি করা হবে। যারা হলের ভিতরে অন্যায় এবং অনিয়ম করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা ছাত্রলীগের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে যে তথ্য পেয়েছে তা লোমহর্ষক বলে আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন যে, দেশের ৪৪ টি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃত্বের জন্য ১২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা টর্চার সেল করেছে। এইসব টর্চার সেলে অন্য মতের শিক্ষার্থী হলে তাদেরকে এনে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়। তাছাড়া কেউ যদি ছাত্রলীগের মিছিল বা সমাবেশে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে তাদের সেখানে নিয়ে নির্মমভাবে অত্যাচার করা হয়। এইসব টর্চার সেলে থাকে লাঠি, হকিস্টিক, চেইন, লোহার রড ছাড়াও ইলেকট্রিক শকের মতো ভয়ঙ্কর নির্যাতন সামগ্রী রাখা হয় বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে।

আবরারের ঘটনা নিত্যনৈমত্তিক একটি নির্যাতনের ঘটনা। এটা বুয়েটের মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মারা গিয়েছে বলে আজ আলোচনায় এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে নিরাপরাধ শিক্ষার্থী যারা কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়, শুধু পড়াশোনা করতে চায় তাদের জন্য মাঝে মাঝেই দু:সহ সময় আসে। তাদেরকে টর্চার সেলে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার স্বার্থে এসব বিষয়ে তারা মুখ খোলে না। যদি এটা প্রকাশিত হয় তাহলে তারা কোন না কোনভাবে নির্যাতিত হবে। ভবিষ্যতে ভয়ঙ্কর কিছু ঘটতে পারে এই শর্তে কেউ টর্চার সেলের কথা প্রকাশ করে না।

গোয়েন্দা অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটি এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রলীগ তাদের আধিপত্য এবং সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণে বাধ্য করার জন্য এই ধরণের টর্চার সেল রেখেছে। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এটাও উঠে এসেছে যে, ছাত্রলীগের এসব টর্চার সেলের কথা প্রভোস্ট এবং আবাসিক শিক্ষকরা জানেন এবং তারা এটা নিয়ে কোন প্রতিকার করেন না।

প্রতিবেদনে এটাও উঠে এসেছে যে, ছাত্রলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা হলভিত্তিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ঠিকাদারদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে এবং শিক্ষকরা এসব কর্মকাণ্ডে তাঁদেরকে সহযোগিতা করে। এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী নতুন করে ছাত্রলীগের ব্যাপারে নতুন করে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আর/০৮:১৪/৯ অক্টোবর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে