Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (58 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-১৪-২০১৩

ইউপি মেম্বারের বাংকারে ৬ তরুণী


	ইউপি মেম্বারের বাংকারে ৬ তরুণী

জয়পুরহাট, ১৫ অক্টোবর- ওদের রাখা হয়েছিল বাংকারে। সুবিধাজনক সময়ে পাচার করে দেয়া হতো, কিন্তু তার আগেই ডিবি পুলিশের হাতে উদ্ধার হলো এই ৬ তরুণী। সেকেন্দার আলী নামে এক ইউপি সদস্যের গোপন বাংকারে রাখা হয়েছিল তাদের। বিভিন্ন স্থান থেকে নানা প্রলোভনে তাদের নিয়ে আসা হয় কালাইয়ের হারুঞ্জা গ্রামে। তরুণীদের উদ্ধারের সময় ইউপি সদস্যকে আটক করতে না পারলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তার কথিত ৪ স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। 

এলাকাবাসী জানায়, কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের প্রভাবশালী ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী দালালদের মাধ্যমে ফুঁসলিয়ে আনতো সুন্দরী মেয়েদের। তারপর তাদেরকে দিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি করিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে কোটিপতি বনে গেছে সে। 
রোববার রাতে পুলিশি অভিযানে তার বাড়ির গোপন বাংকার থেকে উদ্ধার হওয়া দেশের বিভিন্ন এলাকার ৬ তরুণীর জবানবন্দিতে এ বর্বরতার কাহিনী প্রকাশ পায়। 
উদ্ধারকৃত তরুণীরা হলো- ঢাকার মতিঝিল এলাকার কাসেম শেখের মেয়ে মুক্তি খাতুন নদী (২০), রাজশাহীর বাঘমারা উপজেলার মোহনগঞ্জ গ্রামের মজিবর প্রামাণিকের মেয়ে সাথী খাতুন (১৯), জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার উত্তর দরিয়াবাদ গ্রামের শরমি শেখের মেয়ে মনোয়ারা খাতুন (১৬), জয়পুরহাট শহরের সোনারপট্টি এলাকার গোপাল চন্দ্রের মেয়ে শিখা রানী (১৮), জয়পুরহাট সদর উপজেলার ঘাসুরিয়া গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে নাজমা খাতুন (১৭) ও ক্ষেতলাল উপজেলার শাখারুঞ্জ গ্রামের আবদুস সাত্তারের মেয়ে শাপলা খাতুন (১৪)।  
উদ্ধার হওয়া নদী জানায়, এক খদ্দেরের সহযোগিতায় সে তার বাড়িতে মোবাইলের মাধ্যমে সব ঘটনা জানালে ডিবির ওসি মুনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে উপ-পরিদর্শক কাইয়ুম ডিবি পুলিশ ফোর্সসহ সেকেন্দারের বাড়িটি ঘিরে ফেলে রোববার রাত ৯টার দিকে তাকেসহ মোট ৬ তরুণীকে উদ্ধার করে। মনোয়ারা জানায়, বাড়ি থেকে রাগ করে সে কাজের সন্ধানে গাজিপুরে যায়। সেখানে বাবু নামের এক লোকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তার বাড়ি জয়পুরহাটে। বাবু তার বাড়িতে কাজ দেয়ার কথা বলে কালাই উপজেলার আহমেদাবাদ ইউপি সদস্য সেকেন্দারের নিকট দু’বছর আগে তাকে বিক্রি করে দেয়। এরপর  থেকে তাকে ওই বাড়িতে আটকে রেখে দিনের পর দিন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এ অনৈতিক কাজ করাতো। 
শিখা জানায়, জয়পুরহাটের নতুনহাটের কাওছার ইউপি সদস্য সেকেন্দারের কাছে তাকে বিক্রি করে দেয়।
রাজশাহীর সাথী জানায়, জয়পুরহাটে তার নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে ৬ মাস আগে নতুনহাটের মালেকার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। মালেকা তাকে তার ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সেকেন্দারের বাড়িতে নিয়ে যায়। তারপর তাকে সেখানে বিক্রি করে দেয়া হয়। 
নাজমা জানায়, নতুন হাটের কল্পনা তাকে তার ভাইয়ের বাড়িতে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সেকেন্দারের কাছে বিক্রি করে দেয়। তারা আরও জানায়, ইউপি সদস্য সেকেন্দার তার বাড়ির ভিতরে গোপন একটি বাংকার করে সেখানে তাদের আটকে রাখতো। বাইরের কেউ ওই বাড়িতে গেলে দ্রুত তাদের ওই বাংকারে লুকিয়ে রাখতো। দিন-রাত তাদেরকে দিয়ে করানো হতো দেহ ব্যবসা। প্রতিদিন নতুন নতুন খদ্দেরকে মনোরঞ্জন করতে হতো তাদের। তাদের ছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে আরও মেয়েদের এনে একই কাজ করানো হতো। এ কাজের বিনিময়ে শুধু দু’বেলার খাবার জুটতো, আর কিছু না। 
জয়পুরহাট ডিবি পুলিশের ওসি মুনিরুজ্জামান জানান, নদীর অভিভাবকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কালাই উপজেলার হারুঞ্জা গ্রামের ইউপি সদস্য সেকেন্দারের বাড়িতে অভিযান চালাই। সেখানে তল্লাশি করতে গিয়ে ঘরের ভিতর গুপ্ত বাংকার আবিষ্কার করি। সেখান থেকে নদীসহ ৬ তরুণীকে উদ্ধার করি। উদ্ধারকৃতরা জানায়, তাদেরকে পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়েছে। পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল জেলার কালাই উপজেলার আহমেদাবাদ ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলীর গ্রামের বাড়ি হারুঞ্জাতে অভিযান চালিয়ে তার ঘরের ভিতর একটি বাংকার থেকে ওই ৬ তরুণীকে উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত তরুণীদের পাচারের উদ্দেশ্যেই ওই গোপন বাংকারে রাখা হয়েছিল। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে ওই ইউপি সদস্য সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত ৪জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

জয়পুরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে