Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৪-২০১৯

ফুলে ফুলে সাজছে সিলেট নগরী

ফুলে ফুলে সাজছে সিলেট নগরী

সিলেট, ০৪ অক্টোবর - সিলেট নগরীর রিকাবিবাজার-মিরের ময়দান সড়ক প্রশস্ত করার সময় শতাধিক গাছ কেটে ফেলেছিলো সিলেট সিটি করপোরেশন। এ নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়। তবে এবার এই সড়কের বিভাজকে লাগানো ফুলের গাছ প্রশংসা কুড়াচ্ছে নগরবাসী।

সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এই সড়কে রাধাচূড়া গাছ রোপণ করে বেসরকারি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে এসব গাছে ফুল ফুটেছে। যা নজর কেড়েছে নগরবাসীর। এই সড়ক ছাড়াও সুবিদবাজার-মদিনা মার্কেট সড়কের বিভাজকেও লাগানো হয়েছে রাধাচূড়া গাছ।

এ উদ্যোগ প্রশংসিত হওয়ায় নগরীর আরও কয়েকটি এলাকায় ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে একটি বহুজাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে সিটি করপোরেশনকে আড়াই হাজার কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া গাছের চারা উপহার প্রদান করা হয়েছে।

মিরের ময়দান-রিকাবিবাজার সড়কে গিয়ে দেখা যায়, লাল আর হলুদ রংয়ের ফুলে ফুলে চেয়ে আছে পুরো সড়ক। সড়ক বিভাজকে রোপণ করা চারায় বর্ষাকাল থেকে ফুল ফোটা শুরু হয়েছ। এই শরতে এসে ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে সড়ক বিভাজক। ব্যস্ততম সড়কের মাঝে ফুলের এমন শোভা  সবার নজর কাড়ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরের রিকাবিবাজার-পুলিশলাইন-মিরেরময়দান সড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে বেশ আগে। সড়ক প্রশস্তের পাশাপাশি এই এলাকার সড়ক বিভাজকের নকশায়ও আনা হয় বৈচিত্র্য। পরে এই সড়ক বিভাজকের শোভা বর্ধনের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে রাধাচূড়া গাছের চারা লাগায় নগরীর বেসরকারি বিদ্যাপীঠ আনন্দনিকেতন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। এরপর গত ৯ আগস্ট সিলেট নগরীর সাগরদিঘীর পাড় থেকে সুবিদবাজার পর্যন্ত সড়কের বিভাজকে ১০৮টি রাধাচূড়া গাছের চারা রোপণ করে আনন্দনিকেতন স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে সিলেট নগরের সৌন্দর্য বর্ধনে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  এর মধ্যে রয়েছে নগরের বিভিন্ন সড়ক বিভাজক, সুরমা নদীর দুই পাড়, মানিকপীর টিলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফুল গাছের চারা রোপণ।  

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে ফুলের গাছ লাগানো অন্যতম। তাই কিছু কিছু সড়ক বিভাজক থেকে ইতোমধ্যে বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড তুলে নেওয়া হয়েছে। কোন এলাকার সড়ক বিভাজকে কোন ধরনের গাছ লাগালে ভালো হবে সেজন্য সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিম কাজ করছে। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান শেভরন'র পক্ষ থেকেও প্রায় ২৫০০ কৃষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়া গাছের চারা দেওয়া হয়েছে। দুর্গা পূজার পরই গাছগুলো লাগানো হবে সিলেট নগরীর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য।

এ ব্যাপারে পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশরাফুল কবীর বলেন, নগরীর রিকাবিবাজার-মিরেরময়দান সড়ক বিভাজকের রাধাচূড়া গাছগুলোতে ফুল ফুটেছে। এখন এই সড়ক ব্যবহার করতেই অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ফুলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে খেয়াল রাখতে হবে পূর্বে রোপণ করা বড় হওয়া কোনও গাছ কেটে যেন ফুল গাছ না লাগানো হয়। যদি কোথাও ফুল গাছ লাগানোর প্রয়োজন হয় তবে যেন পূর্বের গাছটি রেখে লাগানো হয়। যেহেতু নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মেয়র গাছ লাগানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাহলে অবশ্যই এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। পরিকল্পনা-মাফিক গাছ লাগালে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশও ভালো থাকবে।

এ‌ ব্যাপারে সংস্কৃতিকর্মী আবু বকর আল আমিন বলেন, সড়কের বিভাজকে রাধাচূড়ার রঙিন ফুল দিনের শুরুতে পথে যাওয়া পথিকের মন সতেজ করে দেয়। রাঙিয়ে দেয় পুরো দিনটাকে। আবার ফেরার পথে ক্লান্ত পথিকের দিনের শত কাজের ক্লান্তিতে সতেজতা দিতে সক্ষম এই বাহারি রঙের ফুলগুলো। তবে সড়কের বিভাজকের পাশাপাশি যে সকল জায়গায় সড়কের পাশে লাগানোর সুযোগ আছে সেই জায়গাগুলোতে ফুল গাছ লাগানো ও গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা করা হবে আশা রাখি।     

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, রিকাবিবাজার-মিরেরময়দান সড়কের ফোটা ফুলগুলো আশাকরি ব্যস্ততার মাঝেও নগরবাসীর চোখ জুড়াবে। নগরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য সিসিকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে গাছ লাগানো একটি অংশ। তাই শুধু সড়ক বিভাজকে নয় নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা, সুরমা নদীর পাড়ে আমরা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করছি। এছাড়াও মানিকপীর টিলায় অনেক গাছ পুরনো হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। ওই পুরনো গাছগুলো কেটে নতুন করে কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগানো পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, গাছ লাগানোর জন্য পরিকল্পনা দরকার। কারণ কোন জায়গায় কোন গাছ লাগলে ভালো হবে সেটা আমি জানি না। তাই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি টিমের সাথে কথা হয়েছে। তারা পর্যবেক্ষণ করে কোন জায়গায় কি গাছ লাগাবো পরামর্শ দিবেন। ইতোমধ্যে সেভরন আমাদের কিছু রাধাচূড়া ও কৃষ্ণচূড়া গাছ দিয়েছে। দুর্গাপূজার পরই এই পরিকল্পনা অনুযায়ী এই গাছগুলো লাগানো হবে।

সূত্র : সিলেট টুডে
এন এইচ, ০৪ অক্টোবর

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে