Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.2/5 (51 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৯-২০১১

আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল একটি গণযুদ্ধ -ডঃ নূরন নবী

আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল একটি গণযুদ্ধ -ডঃ নূরন নবী
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ নিয়ে এ-পর্যন্ত প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের কাতারে সম্প্রতি সামিল হয়েছে ইংরেজিতে অনুদিত ?বুলেটস অব সেভেনটি ওয়ান।? লেখক ডঃ নূরন নবী।

ডঃ নবী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রণাঙ্গন ও কূটনৈতিক প্রয়াসে যেমন নৈপূণ্য প্রদর্শন করেছেন, তেমনি নৈপূণ্য দেখিয়েছেন স্বাধীনতাযুদ্ধের পটভূমি-ইতিহাস রচনায়ও। গ্রন্থে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র-পর্বের পাশাপাশি রয়েছে যুদ্ধের প্রাক-পরিবেশের কথা।

ডঃ নবী তাঁর কালের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম ও জাতীয় স্পন্দনে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, রাজনৈতিক মতবাদে একই জায়গায় অবিচল রয়েছেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বহন করে অঙ্গিকার পালন করে যাচ্ছেন এখনো ? নিজের অবস্থানে থেকে, স্বদেশ থেকে অনেক দূরে বসেও। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে তাঁর গ্রন্থ ও অন্যান্য বিষয নিয়ে আলাপ হয়েছো। আলোচনার কিয়দংশ তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

?বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধ ছিল একটি গণযুদ্ধ, জনগণের যুদ্ধ, এই সত্য যারা অপকটে স্বীকার করেন ডঃ নূরান নবী তাদের অন্যতম। তাঁর উপলব্ধি হচ্ছে, মুষ্টিমেয় বিশ্বাসঘাতকত ছাড়া বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষ যুদ্ধ করেছে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। কেউ সশস্ত্র যুদ্ধ করেছেন, কেউ কেউ সাহায্য-সমর্থন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন যুদ্ধকে। সেই গণযুদ্ধে দলমত-ধর্মবর্ণ-নির্বিশেষে অংশ গ্রহণ করেছে গোটা জাতি; স্বীকার করেছে বলীয়ান আত্মত্যাগ।

তাঁর গ্রন্থে এসব লেখার পাশাপাশি তিনি বলেন, আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধে ভারত সাহায্য-সহায়তা করেছে। তাদের অবদান অতুলনীয়। এমনকি ভারত আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ সফল করতে আরেকটি বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি পর্যন্ত নিয়েছে। তাদের অবদান অস্বীকার করলে সত্যকে অস্বীকার করা হবে।

একাত্তরে আমাদের লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা অর্জন আর ভারতের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানকে পরাজিত করা। দু?টি লক্ষ্যের মিলন হয়েছিল তখন। আমরা দুই পক্ষই যার যার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছি।

তিনি তাঁর গ্রন্থে মুক্তিযুদ্ধে আওয়ামী লীগের সফল নেতৃত্বের কথা উল্লেখের পাশাপাশি মাওলানা ভাসানীসহ যুদ্ধে বামপন্থীদের ভুমিকার কথাও বিশদভাবে তুলে ধরেছেন যা সাধারণত কেউ কেউ করেন না।

তিনি বলেন, ষাটের দশক ছিল আমাদের উজ্জ্বল সময়। রাজনীতি, শিল্পসাহিত্য,সংস্কৃতি সবক্ষেত্রেই আমরা লাভ করেছিলাম চরম উৎকর্ষতা। সারা পৃথিবীতে তখন উপনিবেশ-বিরোধী, স্বৈরতন্ত্র-বিরোধী সংগ্রাম ও বিপ্লবের ঝড় বয়ে গেছে। সেই ঢেউ লেগেছিল আমাদের মধ্যেও। আমি প্রথম দিকে অনুপ্রাণিত হয়েছি জওহরলাল নেহরু, কর্ণেল নাসের, মার্শাল টিটো, হোচিমিন, চেগুয়েভারা প্রমুখের দ্বারা। ষাটের দ্বিতীয়ভাগে অবিসম্বাদিত নেতা হিসেবে উত্থান ঘটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। তার নেতৃত্বে ও আদর্শে নিজেকে সমর্পণ করেছি তখন।

?উনসত্তুরের মহান গণঅভ্যুত্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পর্যন্ত এদেশে প্রচলিত হয়েছিল জনতার স্বশাসন। পাকিস্তানী শাসকরা ব্যাপৃত ছিল হত্যাযজ্ঞ ও দমন-নিপীড়নে। মানুষ নিজেকে নিজে শাসন করেছে। দেশে চুরি-ডাকাতি ছিল না, জিসিপত্রের দাম বাড়েনি, দুর্বলের উপর সবলের অত্যাচার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার উদ্যোগে গণআদালত পর্যন্ত গঠিত হয়েছিল। বিশেষ করে টাঙ্গাইলে কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে যুদ্ধের পাশাপাশি মুক্তাঞ্চলে গণপ্রশাসন গড়ে উঠেছিল। যেসব প্রয়াসের মাধ্যমে জনগণ জানিয়ে দিয়েছিল তারা কেমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র-ব্যবস্থা চায়। কিন্তু স্বাধীনতার পর সেই গণপ্রত্যাশার সম্প্রসারণ কেন ঘটেনি? - এমন প্রশ্নের উত্তরে ডঃ নূরন নবী বলেন, পৃথিবীর দেশে দেশে বিপ্লব বা উপনিবেশবাদ-বিরোধী সংগ্রামে বিজয়ের পর মুক্তিযোদ্ধারাই সাধারণত ক্ষমতা পরিচালনা করেন। কিন্তু বাংলাদেশে যুদ্ধের পরপরই মুক্তিযোদ্ধাদের নিষ্ক্রিয় করে যার যার ক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ধরনের আরো কিছু ভুলের সুযোগ গ্রহণ করে স্বাধীনতা-বিরোধীরা। অবশ্য বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে ক্রমান্বয়ে স্বপ্ন পূরণের দিকে যাওযা যেত। কিন্তু তাঁকে হত্যার পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীত দিকে পরিচালিত হতে থাকে দেশ। বিশেষ করে সামরিক শাসন আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে। তবুও আমি বিশ্বাস করি আমাদের অসীম সম্ভাবনার বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলো নিয়ে অচিরেই উঠে দাড়াঁবে। আমাদের সব অর্জন স্বাধীনতা পেয়েছি বলেই। স্বাধীন না হলে আজ এ পর্যায়ে আসতে পারতামনা। আমাদের ধর্মনিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্র বজায় রাখতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে আইনের শাসন।

পরিশেষে ডঃ নবী প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরণা দিয়ে বলেন, এখানে সততা, নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মূল্য আছে। ধৈর্য্য ধরে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। সম্পৃক্ত হতে হবে মূলধারায়।

ডঃ নবী ও তাঁর গ্রন্থ সম্পর্কে

ডঃ নূরন নবী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। একাত্তরে তিনি ছিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর একান্তজন। টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া বাহিনী বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধ করেছে। ডঃ নবী তিন দফায় ভারতে গিয়ে ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেবিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। তিনি বিশিষ্ট বিজ্ঞানী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োকেমিস্ট্রিতে স্নাতক, জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর, কিয়োসো ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। পোস্ট ডক্টোরাল রিসার্চ করেছে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি থেকে। সত্তরের দশকের গোড়ার দিকে ঢাকা বিম্ববিুদ্যালয়ের লেকচারার ও সিনেট সদস্য ছিলেন। কোলগেট পালমলিভে ২২ বছর কাজ করেছেন, এবং কোলগেট টোটাল টুথপেস্ট টেকনোলজির কো-ইনভেন্টর তিনি। বর্তমানে আমেরিকার সুপার স্পেশিয়াল হসপিটালের বোর্ড মেম্বার। ডঃ নবী ছাত্র জীবনে ফজলুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। সে অবস্থায় অংশগ্রহণ করেন মুক্তিযুদ্ধে। ফার ইস্টার্ন ইকোনমিক রিভিউ তাকে টাঙ্গাইল যুদ্ধের ?দ্য ব্রেইন? বলে উল্লেখ করেছিল। আশির দশকে এরশাদ স্বৈরশাসনের বিরোধিতা করে গঠন করেন, ?কমিটি ফর এ ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ?। নব্বইয়ের দশকে গঠন করেন, ?কমিটি ফর দ্যা রিয়েলাইজেশন অব বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার, আইডিয়ালস এন্ড ট্রায়াল ফর বাংলাদেশ ওয়ার ক্রিমিনালস?।আমেরিকায় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি, বাংলাদেশ সোসাইটি নিউজার্সির সাবেক সভাপতি, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান, অধুনালুপ্ত সাপ্তাহিক প্রবাসীর সভাপতি ও সম্পাদক প্রভৃতিসহ অনেক সংগঠনের সঙ্গে রয়েছে তার সম্পৃক্ততা। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা ?বই স্বাধীনতার ২০ বছর? এর প্রকাশক। তিনি একজন কাউন্সিলম্যান । ১৯৮০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। স্ত্রী জিনাত নবীও বিজ্ঞানী। দুই ছেলে, মুশ নবী ও আদনান নবী। মুশ নবী গ্রন্থটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন।

ডঃ নবীর গ্রন্থ বুলেটস অব সেভেন্টিওয়ান ইতিমধ্যেই বেশ সাড়া জাগিয়েছে। গ্রন্থ সম্পর্কে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য ভুমিকা পালনকারী ভারতের অবসরপ্রাপ্ত লেঃ জেনারেল ওয়াই এম বাম্মী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের অবশ্যই এই বই পড়তে হবে।বিশিষ্ট লেখক ফিলিপ অশডেন বার্গ বলেছেন, এটি একটি মূল্যবান গ্রন্থ। নিউজার্সির দি প্রিন্সটন প্যাকেটের বিশেষ লেখক প্যাম হারেস লিখেছেন, ডঃ নবী নিজেকে নির্মোহভাবে দূরে সরিয়ে রেখে একটি বস্তুনিষ্ঠ ও বর্ণনা দিয়েছেন। গ্রন্থের ভুয়সী প্রশংসা করেছেন নিউইয়র্কের থমাস টি কিটিং ডঃ ফখরউদ্দিন আহমদ, আনোয়ারুল আলম শহীদ, প্রফেসর বেলায়েত হোসেন, বেলাল বেগ, ডঃ সৈয়দ আশরাদ আহমেদ, শ্যামন্তী ওয়াহেদ, ডঃ ইভান আহমেদ প্রমুখ।

গ্রন্থ সম্পর্কে বাংলাদেশের ডেইলি স্টার লিখেছে, ?ডঃ নূরন নবী?স বুক ইজ এ রেয়ার ডকুমেন্ট অব আওয়ার পলিটিক্যাল হিস্টোরি।?।

যূক্তরাষ্ট্র

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে