Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.8/5 (9 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২৬-২০১৯

সবুজ-বিপ্লবের নগরভবন!

সবুজ-বিপ্লবের নগরভবন!

ঢাকা, ২৬ সেপ্টেম্বর- ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) চলছে অলিখিত সবুজ-বিপ্লবের শাসন। নিয়োগ-বদলি, টেন্ডার, তদবিরসহ সব কাজেই হস্তক্ষেপ তাদের। মেয়র সাঈদ খোকনের বন্ধু পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন পুরো নগরভবন। বিএনপিপন্থিদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন ঠিকাদারি সিন্ডিকেট। বড় অঙ্কের কমিশন পেলেই খুশি জসিমউদ্দিন সবুজ ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। তাদের দাপটে কোনো কাজই পাচ্ছেন না সাধারণ ঠিকাদাররা।

ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নোয়াব এন্টারপ্রাইজের মালিক আমিনুল ইসলাম বিপ্লব কোতোয়ালি থানা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। একই থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন জিহান কনস্ট্রাকশন ও এইচপিজে ঠিকাদারি ফার্মের মালিক জসিমউদ্দিন সবুজ। নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামেই কেবল নয়, বিএনপিপন্থি ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মুকিতের ইইডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মাধ্যমেও কাজ করেন সবুজ। আর বিপ্লব কাজ নেন বিএনপি নেতা

পারভেজের প্রতিষ্ঠানের নামে। এ দুই ঠিকাদারের কয়েকশ কোটি টাকার কাজ বর্তমানে চলমান।

অন্য ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ডিএসসিসিতে মেয়র সাঈদ খোকন দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামীপন্থি ঠিকাদার কাজ করতেন। তবে কমিশনের পরিমাণ কম আসায় ধীরে ধীরে তাদের কাজ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে করপোরেশন থেকে নিজেদের গুটিয়েও নেন ওইসব ঠিকাদার। ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী সভাপতি লিয়াকত সিকদার জেএসএমসিডব্লিউ বিডি কনস্ট্রাকশনের মাধ্যমে করপোরেশনের নতুন চার ইউনিয়নে উন্নয়ন প্রকল্প, ত্রিমুখী প্রকল্প, ফাইভ জোন প্রজেক্ট, ফ্লাইওভারের নিচে বিশেষ প্রকল্পসহ আনুমানিক দেড়শ থেকে দু’শ কোটি টাকার কাজ করেছেন। তবে দেড় বছর ধরে আর নতুন কাজ পাচ্ছেন না তিনি।

প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত যুবলীগের প্রেসিডিয়াম মেম্বার ও সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন এক সময় ডিএসসিসিতে অনেক কাজ করলেও এখন নিজেকে অনেকটাই গুটিয়ে নিয়েছেন। তবে গত চার বছরে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার কাজ করেছেন তিনি। আওয়ামী ঘরানার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তাপস কুন্ড, গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও কামরাঙ্গীরচর থানার একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা সরকারই কেবল নিয়মিত কাজ করেন। সবুজ-বিপ্লবের প্রভাবে সরকারদলীয় ছোট ঠিকাদাররা ডিএসসিসির কোনো প্রকল্পের টেন্ডারেই অংশ নিতে পারেন না বলে অভিযোগ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেয়র খোকনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জসিমউদ্দিন সবুজ নিজের লাইসেন্সের বাইরে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মুকিতের লাইসেন্সেও কাজ করেন। রাজধানীর বেশিরভাগ খেলার মাঠ, পার্ক এবং যাত্রীছাউনি, ফোর ইউনিয়ন ও কেইস প্রকল্পের কাজগুলো তিনিই করেন। বেশকিছু রাস্তার কাজও করেছেন তিনি। বর্তমানে তার চলমান কাজ প্রায় ২০০ কোটি টাকার। সম্প্রতি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ডিএসসিসির ঘরে ঘরে অ্যারোসলের ক্যান দেওয়ার উদ্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এ কাজটিও করছেন জসিমউদ্দিন সবুজ। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা মশার ওষুধের কাজের দায়িত্বও পেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে আমিনুল হক বিপ্লব উত্তর সিটি করপোরেশনের বড় ঠিকাদার বিএনপিপন্থি পারভেজের লাইসেন্সে কাজ করেন। বর্তমানে সিক্কাটুলী, জিন্দাবাহার, মালিটোলা ও বংশাল পার্ক ও ফোর ইউনিয়ন প্রকল্পে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার কাজ করছেন। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের একটি তেলের পাম্প রয়েছে, যেটির ইজারার দায়িত্বে আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। যদিও তিনি এটি ভিন্ন নামে নিয়েছেন। এ পাম্প থেকে কেবল সিটি করপোরেশনেই মাসিক ৩ কোটি টাকার তেল দেওয়া হয়।

এর বাইরে সবুজ-বিপ্লব সিন্ডিকেটে কাজ করছেন বিএনপিপন্থি ঠিকাদার জিকে এন্টারপ্রাইজের গোফরান, ভূঁইয়া এন্টারপ্রাইজের নুরু ভূঁইয়া। এ ছাড়া ভান্ডারের বেশিরভাগ কাজ করেছেন হালিম নামের একজন ঠিকাদার, যিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। হালিম এক সময় সাদেক হোসেন খোকারও বিশ্বস্ত ছিলেন। মূলত সরকারদলীয় ঠিকাদাররা কাজের বিনিময়ে কম কমিশন দিতে চান। কিন্তু বিএনপিপন্থিদের কাছ থেকে কমিশন আদায় করা যায় ইচ্ছেমতো।

করপোরেশন সূত্র অবশ্য বলছে, বর্তমানে সিটি করপোরেশনে সবচেয়ে বেশি কাজ করে মামিকো এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এলইডি বাতি স্থাপন, বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক সার্কেলের বেশিরভাগ কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে কেউ এর মালিকের নাম প্রকাশ করতে চাননি। অনুসন্ধানে জানা যায়, এ কোম্পানির সব বিষয়ে তদারকি করেন সবুজ ও বিপ্লব। করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের নেপথ্যে প্রভাবশালী একজন রয়েছেন।

দুই মাস ধরে সবুজ ও বিপ্লবকে অনুসরণ করে দেখা যায়, নগরভবনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সমীহ করেন তাদের। নগরভবনের মধ্যে চলাফেরার সময়ও তাদের প্রটোকলে থাকে বিশেষ লোকজন। এ-সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণও রয়েছে। করপোরেশনের বড় বড় কর্মকর্তার রুমে বসে আড্ডা দেন তারা। বিভিন্ন কাজের তদবির করতেও দেখা যায়। আবার অন্য ঠিকাদাররা করপোরেশনের ঊর্ধ্বতনদের স্যার বলে সম্বোধন করলেও তাদের সঙ্গে সবুজ ও বিপ্লবের অন্তরঙ্গ সম্পর্ক। তাদের অনৈতিক কাজে বাধা মনে করায় সম্প্রতি ভা-ার বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয় বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জসিমউদ্দিন সবুজ বলেন, ‘আমি নিজেই ঠিকাদারি করি। অন্য কারও কাজ করি না। অনেক আগে মুকিতের সঙ্গে একটি কাজ করেছিলাম। এর বাইরে আর কিছুই নেই।’ তবে বক্তব্য নিতে আমিনুল হক বিপ্লবকে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। নাম প্রকাশ করে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি নগরভবনের কোনো কর্মকর্তাও।

আর/০৮:১৪/২৬ সেপ্টেম্বর

অপরাধ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে