Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ , ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (34 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৮-২০১৩

জয়পুরহাটে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থরা আজও সাহায্য পায়নি


	জয়পুরহাটে জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থরা আজও সাহায্য পায়নি

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট), ০৭ অক্টোবর- চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে এই গুজব ছড়িয়ে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত জয়পুরহাটের সদর উপজেলা ও পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ সমর্থিত নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা আজও কোন সরকারি সাহায্য পায়নি। দল থেকেও কোন আর্থিক অনুদান পায়নি ক্ষতিগ্রস্তরা। অপরদিকে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আন্দোলন করতে গিয়ে নিহত ও আহতদের পরিবার বিরোধী দল থেকে প্রচুর আর্থিক সাহায্য পেলেও ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যরা তাদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, দোকানপাট মেরামত করতে হিমশিম খাচ্ছে।
সহিংস ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষনা হলে জামায়াত শিবির ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জেলার সদর উপজেলা ও পাঁচবিবি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। গত ৩রা মার্চ চাঁদে সাঈদীকে দেখা গেছে এই গুজব তুলে জামায়াত শিবির ও বিএনপি’র নেতাকর্মীরা জেলা সদরের মাত্রাই ইউনিয়ন, আমদই ইউনিয়ন, বম্বু ইউনিয়ন ও পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়ন, কুসুম্বা ইউনিয়ন, বালিঘাটা ইউনিয়ন, আটাপুর ইউনিয়ন ও পাঁচবিবি শহরে ব্যাপক তান্ডব চালায়। জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা ঐ সকল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা, কর্মী, সমর্থক, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, দোকানপাটে হামলা চালায়। দুর্বৃত্তরা বাড়িঘর ও দোকানপাটের মালামাল লুট করে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা পাঁচবিবি শহরে দোকানপাটে হামলা চালিয়ে এক পর্যায়ে থানায় আক্রমণ চালায়। নিরাপত্তার স্বার্থে থানা পুলিশ গুলি চালালে সেদিন ৬ জন জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী নিহত হয়। ৩ মার্চ সহিংস ঘটনার পর ১৪ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোঃ নাসিম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, সরকারি উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারদের আর্থিক সহায়তা করার ঘোষনা দিলেও ৬ মাসেও কোন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার তা পায়নি। অপরদিকে সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে সহিংস ঘটনা চালাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত ও আহত পরিবারের সদস্যদের বিরোধী দলের নেত্রী পাঁচবিবি এসে জনসভার মাধ্যমে তাদেরকে এককালীন কয়েক লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দিয়েছেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নিহত ও আহতদের পরিবারকে মাসিক অর্থ সাহায্য দেয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সরকার ও দল থেকে কোন আর্থিক সাহায্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত জেলা পর্যায়ে নেতাদের নিকট সাহায্যের আবেদন নিয়ে ঘুরলেও জেলা পর্যায়ের নেতারা কোন গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সরকারের শেষ সময় এসে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা কোন আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় হতাশায় পড়েছে। অপরদিকে হামলার শিকার না হওয়া অন্য আওয়ামী লীগ সমর্থনকারী নেতা-কর্মী ও সংখ্যালঘু পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে হামলার আশঙ্কায় রয়েছে আতঙ্কে। সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সাবু চৌধুরী জানান, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা আমার বাড়িতে ব্যাপক হামলা ও অগ্নিসংযোগ করলেও সরকারী ভাবে কোন সাহায্য পায়নি। দলের নেতৃবৃন্দের নিকট এ বিষয়ে কথা বললে মনে হয় তাদেরকেই আর্থিক সাহায্য দেয়া প্রয়োজন। দলের সকল পর্যায়ের সুযোগ সুবিধা নিলেও দলের নেতারা আজ আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীদের পাশে এসে সাহায্যের হাত বাড়ায়নি। মাধাইনগর বাজারের ব্যবসায়ী নেপাল ও উত্তম কুমার জানান, সাঈদীর রায়ের পর এই বাজারে ৩৩ জন হিন্দু ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাংচুর অগ্নিসংযোগ করলেও সরকারিভাবে আমরা আজও কোন সাহায্য পাইনি। দলের নেতারা দেখে গেলেও এখন আর কেউ খোঁজ নেয় না। পাঁচবিবি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু তালেব চৌধুরী বাবু বলেন, দল করার কারণে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হলো। দলীয়  ও সরকারি ভাবে আমি কোন সাহায্য পাইনি। শুধু আবেদনই পাঠাতে হয়েছে। কুসুম্বা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের অরুন কবিরাজ ও রঞ্জন কুমার মহন্ত জানান হামলার পর থেকে আমরা এলাকা ছেড়ে শহরে বসবাস করছি। তারা জানায়, তাদের বাড়ি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলেও সরকারিভাবে আজও কোন সাহায্য আমরা পাইনি। নেতারা শুধু আশ্বাসের বাণীই শুনায়। পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম সেলিম জানান, সরকারি নির্দেশে সহিংস ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হলেও আজও কোন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অনুকূলে অর্থ সহায়তা পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইয়াছিন জানান, তাৎক্ষনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জি,আর চাল ও টিন দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে বরাদ্ধ না পাওয়ায় বড় ধরনের সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জেলা পরিষদের প্রশাসক এস,এম সোলায়মান আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দলীয়ভাবে সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নেতাকর্মীদের আর্থিক সহায়তা করা হবে।
 

জয়পুরহাট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে