Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ , ২৮ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২২-২০১৯

সাহসী র‌্যাব ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের গল্প

সাহসী র‌্যাব ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের গল্প

ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর- মো. সারওয়ার আলম র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে দেশজুড়ে হচ্ছেন প্রশংসিত। এবার রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনোতে অভিযান পরিচালনা করে প্রশংসায় ভাসছেন কিশোরগঞ্জের এই কৃতী সন্তান।

প্রতিদিনই ঢাকার কোনো না কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা কিংবা খাবারের দোকানে অভিযান চালাচ্ছেন মো. সারওয়ার আলম। একই সঙ্গে কিশোরদের মাদকসেবন থেকে শুরু করে রাজধানীতে ঘটা নানান অপরাধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও সমানতালে অভিযান চালাচ্ছেন তিনি। প্রতিদিন রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় এসব অভিযানের ছবিসহ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও সচেতনতামূলক পোস্ট দেন তিনি।

ছয় ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় মো. সারওয়ার আলম। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার গর্বিত সন্তান তিনি। পাকুন্দিয়া বড়বাড়ির ব্যবসায়ী বাবা বোরহান উদ্দিন এবং ‘গরবিনী মা’ মোছাম্মদ আমেনা খাতুনের একমাত্র ছেলে। বাবা ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, আমি খুব ভাগ্যবান আমি দাদার সান্নিধ্য বেশি পেয়েছি। আমার তিন বছর বয়স থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পড়া পর্যন্ত দাদা আমাকে গাইড করতেন।’  সারওয়ার আলমের স্কুল এবং কলেজ কিশোরগঞ্জে। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে মো. সারওয়ার আলম যোগ দেন প্রশাসনে। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ফোর্সেসের আইন কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে।

নিজের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কাজ নিয়ে বলেন, আমাদের এইখানে যে কাজগুলো করছি আপনারা জানেন যে আগামী দিনের জন্য আমাদের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নিরাপদ খাদ্য। পাশাপাশি ঔষধ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিরাপদ করা পাশাপাশি সমাজে যে অনিয়মগুলো রয়েছে এগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ন বিষয়। এখানে একটি অসুবিধা হচ্ছে যে এই অপরাধের সাথে যারা যুক্ত তারা সমাজের বেশি প্রভাবশালী মানুষ। কিছু রয়েছে যারা ইচ্ছাকৃত ভাবে অপরাধগুলো করেন বা ভেজালগুলো করেন তারা কোন না কোন পাওয়ার স্ট্যাকচারের সাথে লিংক রাখতে চান।

তারা তাদের ছত্রছায়ায় কাজ করতে চান সুতরাং এখানেই যখন হাত দিই বা কাজ করতে চাই একধরনের প্রতিকূলতা থাকবেই এটাই স্বাভাবিক আমরা সেটা মাথায় নিয়েই কাজ করি। কারন এই জায়গাটা এমন একটি জায়গা যেখানে কম্প্রমাইজ করার সুযোগ নেই। এই বিষয়ে সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষথেকে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে তিনি স্পষ্ট বলে দিয়েছেন ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে’

নিজের সফলতার মূলমন্ত্র নিয়ে বলেন, সফলতার মূলমন্ত্র হচ্ছে কয়েকটি বিষয়। প্রথমত কমিটমেন্ট, এটি একটি বড় বিষয়। সততা, সিরিয়াসনেস, সিনসিয়ারিটি। যদি কোন কাজে সফল হতে চাই তাহলে প্রথমে একটি প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে আমি এটা করতে চাই বা করবো এই ধরনের প্রতিশ্রুতি যদি আপনার না থাকে তাহলে আপনি কখনও সফল হতে পারবেন না। এটা আমরা কেউ পারিনা সহজে। প্রথমত আমি সফল হতে চাই এই কাজটি করতে চাই এই ধরনের প্রতিজ্ঞা বা প্রতিশ্রুতি থাকতে হবে। সেটির ক্ষেত্রে সিনসিয়ারিটি, ডেডিকেশন, ডিভোশন,অনেষ্টলি থাকতে হবে। অসৎভাবে বেশিদূর পর্যন্ত আগানো যায়না।

পাশাপাশি কখনও হতাশ হতে নেই যে কোন কাজ করতে গিয়ে হোচট খেলেই বা কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে পিছপা হয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ আমরা মনে করি যে সঠিক পথে যারা থাকে যাদের সততা থাকে সিরিয়াসনেস থাকে তাহলে অবশ্যই কাঙ্খিত লক্ষে পৌছাতে পারবো আমরা। একশর মধ্যে একশতে না পৌছালেও নব্বইয়ের উপরে থাকবো বলে আশা করতে পারি।’

বিসিএস যাদের স্বপ্ন বা বিসিএস যাদের ধ্যান জ্ঞান তাদের উদ্দেশ্য বলেন, কেউ যদি মনে করে বিসিএস’র মাধ্যমে সিভিল সার্জনে আসবে তাহলে তার একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রস্তুতির দরকার আছে। হুট করে দুমাস কিংবা তিন মাসের প্রস্তুতির মাধ্যমে বিসিএস-এ বা সিভিল সার্ভিসে প্রবেশ করাটা মুশকিল। তিনি নিজে যে বিষয়ে পড়েন বা অনার্স করলেন বা মাস্টার্স করলেন সেই বিষয়ের উপর দক্ষতা থাকতে হবে। বিসিএস-এ যে প্রশ্ন গুলো আসে বাংলা থেকে শুরু করে সব বিষয়ে গভীর জ্ঞান থাকতে হবে।

আর বিসিএস-এ ধৈর্য্য থাকতে হবে যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা হয়। আমাদের এখানে যেটা হযেছে পরীক্ষায় পাশ করার পর পর সবাই চাকরি করতে চায়। তাহলে একাডেমী পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগেই একটা প্রস্তুতি থাকতে হবে। আমি আসলে ক্যারিয়ার কোন লাইনে গড়তে চাই সেখানে কী কী বিষয়ে যাচাই বাছাই হয় সে বিষয়ে খেয়াল রাখাতে হবে। পাশাপাশি উন্নত নৈতিকতার একজন মানুষ হতে হবে। আমি মনে করি একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা থাকা দরকার পাশাপাশি সেই অনুযায়ী পড়াশোনা করা দরকার। এবং বাংলাদেশের সাধারণ জ্ঞান বা সাধারণ বিষয়গুলোর তার গভীর জ্ঞান থাকতে হবে। আমি মনে করি এটি শুধু বিসিএস পাশ করার জন্য না একজন নাগরিক হিসাবে কিছু মূল ভিত্তি বা মূল বিষয় সম্পর্কে জানা দরকার। ’

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

আর/০৮:১৪/২২ সেপ্টেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে