Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর, ২০১৯ , ৬ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-২১-২০১৯

শুদ্ধি অভিযানের পরিণতি নিয়ে আশা-সংশয়

শুদ্ধি অভিযানের পরিণতি নিয়ে আশা-সংশয়

ঢাকা, ২১ সেপ্টেম্বর- ‌আওয়ামী লীগ শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানালেও এর পরিণতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতা। তবে কেউই প্রকাশ্যে এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযানের পুরো ব্যাপারটিই আওয়ামী লীগকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সিনিয়র নেতারা হতবাক, স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা আতঙ্কে। তবে তৃণমূল এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

তৃণমূলের নেতারা মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগের ভেতরে সুবিধাবাদি চক্র, দানবের সৃষ্টি হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের ফলে সেই দানবদের পতন হবে। এতে আওয়ামী লীগের কোন ক্ষতি হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই আওয়ামী লীগের এই ভবিষ্যৎ পরিণতি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এবং এটি বিরাজনীতকরণের একটি অংশ কিনা তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন যে, এই উদ্যোগটি ভালো। শেষ পর্যন্ত এটি যদি এগিয়ে নেওয়া যায় তাহলে এটি একটি দৃষ্টান্ত হবে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এর সাফল্যের কথা বলে না। এই উদ্যোগ কতদিন চলবে? কারা কারা ধরা পরবে? এবং এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্থ হবে কিনা সেই প্রশ্ন তিনি করেছেন। তাঁর মতে খালেদ বা জিকে শামিম একদিনে সৃষ্টি হয়নি। তারা একা নন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে। তাহলে তাদের যে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলো, মদদ দেয়া হলো তাদের কি হবে? কাদের পৃষ্ঠপোষকতায় শামিম কিংবা খালেদ তৈরি হয় সেই প্রশ্নও করেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। তারমতে কেঁচো খুড়তে গিয়ে যদি সাপ বেরিয়ে যায় তাহলে আওয়ামী লীগের জন্য তা হবে বিপদজনক। তা আওয়ামী লীগের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে।

তবে আওয়ামী লীগের আরেকজন নেতা বলেছেন যে, পরিস্থিতি যে জায়গায় চলে গিয়েছিল তাতে এর লাগাম টেনে ধরা জরুরী। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একেবারে দুর্নীতিমুক্ত হবে এমনটি নয় কিন্তু টানা দশবছর ক্ষমতায় থাকার ফলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে স্বেচ্ছাচারীতা তৈরি হয়েছিল, ধরাকে সরাজ্ঞান করার যে প্রবণতা সৃষ্টি হয়েছিল তার লাগাম টেনে ধরার জন্য এর কোন বিকল্প ছিল না। এর মাধ্যমে একটি সুস্পষ্ট বার্তা আওয়ামী লীগে পৌঁছে গেছে যে, অন্যায় করলে শাস্তি পেতে হবে এবং অন্যায় করলে পার পাওয়া খুব কঠিন হবে।

অবশ্য এই মতামতের বিপরীত মতামতও পাওয়া গেছে আওয়ামী লীগে। একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন, যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা যাদের বিরুদ্ধে আঙুল তোলা হচ্ছে এর মাধ্যমে একটি ভুল বার্তাও যেতে পারে যে সংগঠন করে লাভ নেই, কর্মসুচি করে লাভ নেই। এসব না করে চুপচাপ বসে থাকাই ভালো। এরফলে দুর্দিনে বা দুঃসময়ে আওয়ামী লীগের কেউ দাঁড়াবে না।

তবে আওয়ামী লীগের এই নেতার বিপরীত বক্তব্যও পাওয়া গেছে। যারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অপকর্ম করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে তারা কখনও দুঃসময়ে থাকে না। আওয়ামী লীগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর যে তথাকথিত ক্যাডাররা ছিল বা অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছিল তারা কেউ দলের জন্য দাড়ায়নি বরং তারা পালিয়ে গেছে বা দলত্যাগ করেছে। ঠিক একইভাবে দেখা যায় যে, ২০০১ সালেও যারা তথাকথিত প্রবল প্রতাপশালী ক্ষমতাবান ছিল তারা দলের কোন কাজে লাগেনি। বরং তারা পালিয়ে গেছে। ওয়ান ইলেভেনের সময়ও যারা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াতো, ক্যাডার তাদের সহযোগিতা পায়নি আওয়ামী লীগ। সবসময়ই আওয়ামী লীগের বিপর্যয়ে তৃণমূলের নেতারাই সহযোগিতা করেছে। আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, তৃণমূলের নেতারা টেন্ডারবাজি বা চাঁদাবাজি করে না। তারা দলের জন্য কাজ করে।

এর মাধ্যমে রাজনীতির এই ধারাকে সমুন্নত করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটিই তাঁর রাজনৈতিক বিচক্ষণতা। শুদ্ধি অভিযান আওয়ামী লীগের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে নানারকম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটি অনেককে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে আওয়ামী লীগের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়াই হোক না কেন এইধরনের অভিযানের ফলে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত খুশি, সাধারণ মানুষ এটাকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে নিয়েছে।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার
এন কে / ২১ সেপ্টেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে