Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯ , ১০ আষাঢ় ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.1/5 (124 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১২-০৯-২০১১

লন্ডনে `বিয়ে ব্যবসায়ী' বাঙালি দোষী সাব্যস্ত    

সৈয়দ নাহাস পাশা


লন্ডনে `বিয়ে ব্যবসায়ী' বাঙালি দোষী সাব্যস্ত    
লন্ডন, ডিসেম্বর ০৯ - ৪৭ বছরের এক পর্তুগিজ নারীকে বিয়ে করে যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে স্বদেশী চার যুবকের জন্য সাজানো বিয়ের `ব্যবসা' শুরুর অভিযোগে এক বাঙালি শিক্ষার্থী দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

মোহাম্মদ তানিন (২৫) নামের এই বাঙালি যুবকের সঙ্গে তার চেয়ে বয়সে ২২ বছরের বড় তার স্ত্রী মারিয়া মার্কেসকেও দোষী সাব্যস্ত করেছে লন্ডনের ক্রাউন কোর্ট।

আগামী ৯ জানুয়ারি দুজনের সাজা ঘোষণা করা হবে। তার আগ পর্যন্ত এই দম্পতি পুলিশি হেফাজতে থাকবে।

তানিন লন্ডন গিয়েছিলেন শিক্ষার্থী ভিসায়। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাস আগে ২০০৯ সালের ২৪ নভেম্বর পূর্ব লন্ডনের বো ম্যারেজ রেজিস্ট্রারে মারিয়াকে বিয়ে করেন তিনি। সদ্য শিক্ষাজীবন শেষ করা এ যুবক প্রৌঢ়া মারিয়াকে বিয়ে করে পেয়ে যান যুক্তরাজ্যে বসবাসের ছাড়পত্র।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশের নাগরিকের যুক্তরাজ্যে বসবাসের অনুমতি আছে। তাদের স্বামী বা স্ত্রীও সে সুযোগ পান।

তানিন নিজে বিয়ে করার পর এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি আরো চার যুবককে বৈধ করার উদ্যোগ নেন।

স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ শেষের মুখে থাকা ওই যুবকের জন্য স্বামী-স্ত্রী মিলে বন্দোবস্ত করেন অর্থের বিনিময়ে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২২০০ পাউন্ড করে নেন তানিন।

চার যুবকের জন্য মারিয়া তার স্বদেশী চার নারীকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসেন, যাদের সঙ্গে বিয়ের প্রস্তুতি চলে চার বাঙালির।

পূর্ব লন্ডনের পপলার এলাকায় বাসিন্দা তানিনের ব্যবসার ?শিকার? হিসেবে বেছে নেওয়া বাঙালি শিক্ষার্থীরা সবাই তার ভাড়াটে।

চার শিক্ষার্থীর এক জন ওমর হাসান আদালতে বলেন, তানিন ছলচাতুরির মাধ্যমে তাকে পর্তুগিজ মেয়ে বিয়ে করতে প্রলুব্ধ করে।

?তানিন একসময় আমার কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ পাউন্ড ধার নিয়েছিলো। কিন্তু পরে ফেরত না দিয়ে যে চার জন মহিলাকে পর্তুগাল থেকে এনেছে, তাদের একজনকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়।?

তানিন ওমরকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে, বিয়ে হলে সহজেই ওমর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পাবে।

ওমরসহ তিন শিক্ষার্থী এবং লন্ডন চিড়িয়াখানার এক কর্মীর জন্য বিয়ের আয়োজন করেন তানিন ও তার স্ত্রী।

মারিয়ার ব্যবস্থাপনায় পর্তুগাল থেকে চার নারী একটি ইজি জেট ফ্লাইটে ২০১০ সালের জুনে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। সরাসরি তারা তানিনের বাসায় ওঠেন। তারা যুক্তরাজ্যে পৌঁছার এক সপ্তাহের মধ্যেই চার বাঙালির সঙ্গে বিয়ের অনুমতি চেয়ে হোম অফিসে আবেদন করা হয়।

এক সঙ্গে এ ধরনের চারটি আবেদন পেয়ে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। চারটি আবেদনই বাতিল করে হোম অফিস। এরপর তদন্তে ধরা পড়েন তানিন ও মারিয়া।

প্রসিকিউটর পল রড্রিগেজ আদালতে বলেন, বিয়ের অনুমতি চাওয়া চার ?হবু বরকে? গ্রেপ্তার করা হলে তারা সঙ্গে সঙ্গেই সাজানো বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করে।

?তারা বলে, এজন্য তানিন তাদের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে ২৮০০ পাউন্ড পর্যন্ত নিয়েছেন।?

তানিন ও মারিয়া আদালতে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করলেও তাদের সর্বসম্মতভাবে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারকরা।

এছাড়া পর্তুগাল থেকে যুক্তরাজ্যে উড়ে যাওয়া চার নারীর মধ্যে তামা পারপেটুয়া ও আনা কুনহা আদালতে নিজেদের দোষ স্বীকার করায় তাদেরও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে