Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ , ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৭-২০১৯

রিকশা চালকের সঙ্গেই শেষ কথা হয়েছিল রিফাতের (ভিডিও সংযুক্ত)

মনির হোসেন কামাল


রিকশা চালকের সঙ্গেই শেষ কথা হয়েছিল রিফাতের (ভিডিও সংযুক্ত)

বরগুনা, ১৮ সেপ্টেম্বর - ‘ওদিকে মারামারি হয়, কারে কে মারে আমি মাইনষের ভিড়ে দেখতে পারি নাই। একটা ছেলে গায়ে রক্তমাখা, রক্ত ঝইর‌্যা পড়তেছিল, সে হাইটা আইসা আমার রিকশায় উঠেই কইলো, চাচা আমারে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়া যান।’
 
রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রিকশাচালক দুলাল। দুলালের বাড়ি বরগুনা সদর ইউনিয়নের ফরাজীরপুল এলাকায়। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যাবার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগ তোলা হয়েছিল, মিন্নি তার স্বামী রিফাতকে নিয়ে হাসপাতালে যাননি, রিফাত একাই হাসপাতালে গিয়েছিল। কিন্তু হাসপাতালের সামনের সিসিটিভি ফুটেজে মিন্নিই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়েছিল বিষয়টি স্পষ্ট হয়। 

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুলালের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, তিনি ধান মাড়াইয়ের কাজে গিয়েছেন। বাড়ি থেকে একটু দূরেই ফরাজী বাড়ির সামনে রিকশা চালক দুলালকে পাওয়া যায়। তিনি এসময় ধান মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। পরিচয় জানার পর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হন তিনি।
 
ঘটনার বিবরণে দুলাল বলেন, ওইদিন কলেজ সড়কে ‘খ্যাপ’ নিয়ে গিয়েছিলাম। মানুষের ভিড়ের কারণে আর সামনের দিক যাইতে পারি নাই। শুনলাম সামনে কারা যেন কারে মারতেছে। প্যাসেঞ্জারকে নামিয়ে দিয়ে আমি রিকশা ঘুরাইয়া কেবল দাড়াইছি, এসময় একটা ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় হাইট্টা আইসা আমার রিকশায় উইঠাই কয়, চাচা আমারে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিয়া যান। আমি দেখলাম গলা ও বুকের বামপাশ কোপে কাইট্টা রক্ত বাইর হইতেছে। হের জামাডা টাইন্না আমি গলা ও বুকে চাইপ্পা ধইরা হেরে কইলাম আপনে চাইপ্পা ধরেন, আমি চালাই। আমি হাসপাতালে যাওনের জন্য কেবল সিটে বসছি, চালামু, টিক সেই মুহূর্তে একটা মেয়ে দৌড়ে রিকশায় উইঠা ওই পোলাডারে ধইর‌্যা বসে। আমি তাড়াতাড়ি রিকশা চালাইয়া হাসপাতালের দিকে যাই। দুলাল বলেন, এক মিনিটের মতো রিফাত ঘার সোজা করে বসে ছিল, কিন্তু এরপর সে মেয়েটির কাঁধে ঢলে পরে যায়। আর ঘার সোজা করতে পারেনি। আমাদের রিকশার পাশাপাশি একটা লাল পালসার মোটরসাইকেলে দুইটা ছেলে যাচ্ছিল। মিন্নি চিৎকার করে তাদের কাছে রক্ত থামানোর সাহায্য চাইছিল, ওরা সাড়া দেয়নি। আমার কাছে মিন্নি ফোন চায় তার বাড়িতে কল করে জানানোর জন্য, কিন্তু আমার ফোন নাই। পরে ওই মোটরসাইকেলের ছেলেদের কাছেও মিন্নি ফোন চায়, বলে ভাই আপনাদের একটা ফোন দেন, আমি একটু বাবার কাছে ফোন করবো। কিন্তু তারা বলে, আমাদের কাছে ফোন নাই, তুমি হাসপাতালে যাইতেছো যাও। হাসপাতালের গেট থেকে ঢোকার সময় মিন্নি একজন লোককে ডাক দেয়। রিকশা থামানের সঙ্গে সঙ্গে ওই লোক দৌড়ে এসে রিফাতের অবস্থা দেখেই আমায় নিয়ে স্ট্রেচার আনতে যায়। আমি আর সেই লোক স্ট্রেচার নিয়ে এসে রিফাতকে রিকশা থেকে নামিয়ে স্ট্রেচারে তুলে অপারেশন থিয়েটারে দিয়ে আসি। এরপর রিফাতকে অ্যাম্বুলেন্স করে বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশ এসে আমার রিকশার ছবি তুলে নেয় ও কাগজপত্র নিয়ে যায়। আমার কাগজপত্র এখনো পুলিশের কাছেই আছে।

মিন্নির ডাকে ছুটে এসেছিলেন যিনি: 
হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে ও রিকশাওয়ালা দুলালের বর্ণনামতে রিকশা থামতেই সাদা গেঞ্জি পড়া একজন লোক দৌড়ে এসে স্ট্রেচার এনে রিফাতকে দ্রুত ওটিতে নিয়ে যান। ওই ব্যক্তি ছিলেন আমিনুল ইসলাম মামুন। তিনি বরগুনা জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি একইসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসায়ী। 

মামুনের সঙ্গেও কথা হয় প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, মিন্নির ডাক শুনেই দ্রুত আমি ছুটে আসি। রিফাতের অবস্থা দেখে আমি দ্রুত রিকশাচালক ভাইকে নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে স্ট্রেচার নিয়ে আসি। এসময় রিফাত রিকশায় মিন্নির কাঁধে ভর করে বসেছিল। আমি, রিকশাচালক ও মিন্নি তিনজনে মিলে রিফাতকে ধরে স্ট্রেচারে তুলি। দ্রুত তাকে ওটিতে নিয়ে যাই। এসময় ডাক্তারের লিখে দেয়া স্লিপ নিয়ে আমি তিনবার ফার্মেসি থেকে এক হাজার চার’শ টাকার ওষুধ কিনে আনি। রিফাতের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। কিছুতেই রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যাচ্ছিল না। চিকিৎসক কোপের ক্ষতস্থানে গজ ও তুলো দিয়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে দ্রুত বরিশাল নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আমি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে গেটে নিয়ে আসি। এরমধ্যেই রিফাতের বন্ধু জনসহ অন্যরা সেখানে আসেন। মিন্নির চাচা সালেহ ও পরে মিন্নির বাবা কিশোরও চলে আসেন। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে বরিশাল নিয়ে যাওয়া হয়। মিন্নি বারবার যাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তার চাচা সালেহ ও বাবা কিশোর যেতে দেয়নি। 

মামুন বলেন, একজন মানুষকে বিপদে সহায়তা করা মানবিক দায়িত্ব, সে যেই হোক না কেন। আমিও সেটাই চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আফসোস রিফাতকে বাঁচানো যায়নি।

সুত্র : আরটিভি
এন এ/ ১৮ সেপ্টেম্বর

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে