Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ , ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৬-২০১৯

‘নিজে ধর্ষিত হয়েছি, ভয় পাচ্ছি মেয়েদের নিয়েও’

‘নিজে ধর্ষিত হয়েছি, ভয় পাচ্ছি মেয়েদের নিয়েও’

প্রিটোরিয়া, ১৬ সেপ্টেম্বর - দক্ষিণ আফ্রিকার ৩৭ বছর বয়সী ফটোসাংবাদিক সারাহ মিডগ্লে দুই সন্তানের জননী। তিনি দেশটির প্রধান শহর জোহানেসবার্গে বাস করেন। এক দশক আগে ধর্ষণের শিকার হয়ে যে মানসিক আঘাত তিনি পেয়েছেন, সেটি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেননি।

নিজের সঙ্গে ঘটা সেই কঠিন ও দুঃসহ অভিজ্ঞতা নিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সঙ্গে কথা বলেছেন সারাহ মিডগ্লে।

২০১০ সালের নিজের সাবেক প্রেমিকের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন সারাহ মিডগ্লে। আঠারো মাস ধরে সেই প্রেমিক তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, ‘অনেকবার আমি তাকে ছেড়ে আসার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সে আরও সহিংস আচরণ করেছে।’

সারাহ জানান, তাকে লাথি মারা, গলা টিপে ধরা ও কামড় দেওয়া হতো। তিনি বলেন, ‘যদি তাকে ছেড়ে যাই, তাহলে সে আমার কন্যাদের ধর্ষণ ও আমার সামনেই তাদের খুন করবে বলে হুমকি দিতো। এমনকি একবার আমাকে ইলেকট্রিক শক পর্যন্ত দিয়েছিলো সে।’

সারাহ জানান, এসব ঘটনা তিনি কারও কাছে বলেননি কারণ এটি ছিল তার জন্য লজ্জার ও বিব্রতকর। তিনি বলেন, ‘আমি পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। আমি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলাম যে, সে আমার সন্তানদেরও ক্ষতি করবে।’

বিবিসিকে সাহারা বলেন, ‘একবার বের হয়ে যাওয়ার দশ দিন পর সে আমার বাড়ি এলো। বললো যে, সে শেষবারের মতো সহযোগিতা চায়। সে বললো, ২৫ কিলোমিটার দূরে তার চাচার খামারে যাওয়ার মতো পয়সাও তার হাতে নেই। তবে আমার কাছে সে অঙ্গীকার করে যে, তাকে পৌঁছে দিলে সে আর আমাদের জীবনে থাকবে না।’

সারাহ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করেছিলাম, আমাকে সে যন্ত্রণামুক্ত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু গাড়িতে করে তাকে দিয়ে আসার সময়ই খেয়াল করলাম যে, সে চুপ হয়ে আছে। আমি আবারও বুঝতে পারলাম, সে আসলে হেরোইন সেবন করে।’

বিবিসিকে ওই নারী ফটোসাংবাদিক বলেন, ‘তার সঙ্গে আমার কথা ছিল, তাকে খামার বাড়ির গেটে নামিয়ে দিয়ে আমি চলে আসব। কিন্তু যখন খামারে পৌঁছলাম সে দৌঁড়ে আমার দিকে এসে দরজা খুলে চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে বের করার চেষ্টা করে। আমি গাড়িতে পড়ে গেলে সে আমার মাথায় লাথি মারে। এতে আমি জ্ঞান হারাই। যখন জ্ঞান ফিরল তখন খামারের বাইরে একটি কোয়ার্টারে আমার ওপরে তাকে দেখতে পেলাম। তার এক বন্ধুও তার সাথে যোগ দিলো। আমি আবার জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফেরার পর দেখি তারা চলে গেছে, আর খামারের পরিচ্ছন্নতা কর্মী এলো সেখানে।’

ছোট সার্জারিও করাতে হয়েছে

সারাহর পাশে দাঁড়ানো পরিচ্ছন্নতা কর্মীর হাতে এক বালতি পানি ছিল। নিজের কিছু কাপড় দিয়ে তিনি সারাহকে পরিষ্কার করে দিতে উদ্যত হন। সারাহ তাকে থামতে বলেন এবং পুলিশ বা অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে বলেন। এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্স এসে সারাহকে হাসপাতাল নিয়ে যায়। কিন্তু ওই ঘটনায় সারাহর শারীরিক ক্ষত বেশ গভীর ছিল এবং তাকে একটি ছোটো অপারেশনও করতে হয়।

এসবের মধ্যে সারাহ দেখতে পান তার ওপর হামলাকারী জামিন পেয়ে শহর ছেড়েছে। পরে অবশ্য সে আবারও গ্রেপ্তার হন এবং তার আট বছরের জেলও হয়। তিনি সাত বছর জেল খাটার পর প্রস্টেট ও ব্লাডার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৭ সালে মারা যান।

সারাহর ভাষায়, ‘সত্যিকার অর্থে সাত বছরের মধ্যে তখনি প্রথম আমি শান্তিতে নিঃশ্বাস নিলাম। কিন্তু আমি স্বপ্নেও দেখতাম যে, আমার সাবেক বয়ফ্রেন্ড ফিরে আসছে এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের ওপর আক্রমণ করছে। একপর্যায়ে একা থাকতে না পেরে বাবা-মায়ের কাছে চলে যাই। আমি মানুষকে ভয় পেতে শুরু করলাম। চেষ্টা করলাম যাতে কেউ না বোঝে।’

সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ছোট বেলায় একবার যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার পর থেরাপি নেওয়ার অভিজ্ঞতাও ছিল সারাহর। তবে ভয়ঙ্কর বিষয় ছিল যে ধর্ষণের শিকার এক মাকে এই যন্ত্রণার ভেতর দিয়ে যেতে হবে, যার দুটি সন্তান রয়েছে।

সারাহ বলেন, ‘আমি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম এই ভেবে যে, আমি যে ঘটনার শিকার হয়েছিলাম, তেমনটি যদি তাদের ক্ষেত্রেও হয়!’

সারাহ নিজের মেয়েদের বোঝাতে শুরু করেন যে, তিনি সবসময়ই তাদের জন্য নিরাপদ জায়গা। তারা যেন তাকে সবসময় বিশ্বাস করে এবং মা হিসেবে তিনিও সন্তানদের বিশ্বাস করবেন।

সারাহ সন্তানদের নিরাপত্তা বিষয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি সন্তানদের ফোন কিনে দিলেন ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করলেন। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় খুব বেশি কোনো ব্যবস্থা নেই।

এন এইচ, ১৬ সেপ্টেম্বর

আফ্রিকা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে