Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৬-২০১৯

তিনযুগ পর উদ্ধার হচ্ছে ‘খোয়াই নদী’!

তিনযুগ পর উদ্ধার হচ্ছে ‘খোয়াই নদী’!

হবিগঞ্জ, ১৬ সেপ্টেম্বর- দীর্ঘ তিনযুগ পর অবশেষে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে হবিগঞ্জের পুরাতন খোয়াই নদীর অবৈধ দখল উচ্ছেদ কাজ শুরু হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ।

তিনি বলেন- ‘অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদের সকল প্রকৃয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরী করে মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য মালিকদের বলা হয়েছে।

জানা যায়, প্রায় ৩ যুগ আগে নদী শাসনের মাধ্যমে খোয়াই নদীর গতিপথ পরিবর্তন করায় শহরের ভেতরের ৫ কিলোমিটার অংশ পুরাতন নদীতে পরিণত হয়। মুলত এরপর থেকেই সেখানে নজর পরে প্রভাবশালীদের। অব্যহত দখলের ফলে দুইশ’ ফুট প্রশস্ত নদীটি এখন নালায় পরিনত হয়েছে। আর এসব দখলদারকের তালিকায় রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরাও। এমনকি সরকারিভাবেও নদী ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে জেলা পরিষদ ভবন, মেজর জেনারেল এম এ রব স্মৃতি পাঠাগার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ। কিন্তু বারবার উচ্ছেদ প্রকৃয়া শুরু হলেও কিছুই দৃশ্যমান হয়নি। বিভিন্ন অপ-শক্তির কারণে বারবারই স্থগিত হয়েছে উচ্ছেদ প্রকৃয়া।

এদিকে, ইতোমধ্য খোয়াই নদীর অবৈধ স্থাপনার তালিকা তৈরী করা হয়েছে। পরে সেগুলোতে লাল রং দিয়ে ক্রস চিহ্ন দিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। একই সাথে ওই সব অবৈধ দখলদারদের রোববারের মধ্যে মালামাল সরিয়ে নেয়ার জন্য জানিয়ে দেয়া হয়। ইতোমধ্যে অনেকই মালামাল সরি নিয়েছে। এমনকি অনেকে আবার নিজ উদ্যোগেই নিজেদের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নিচ্ছেন।

প্রশাসনের এমন উদ্যোগে খুশি হবিগঞ্জবাসী। এই সাথে পরিবেশবাদীরা মনে করছেন তাদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল পেতে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার বাসিন্দা মো. ইমরান চৌধুরী বলেন- ‘দীর্ঘ তিনযুগ পরে হলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হচ্ছে। এটা হবিগঞ্জবাসীর জন্য অনেক পাওয়ার।’

শ্যামলী এলাকার রমজান মিয়া বলেন- ‘অবৈধ দখলদারদের কারণে শহরের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে। পুরাতন খোয়াই নদী দখলের কারণে অল্প বৃষ্টিতেই শহরের জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এখন উচ্ছেদ শুরু হচ্ছে শুনে খুব ভালো লাগল।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল বলেন- ‘দীর্ঘদিন ধরে বাপাসহ বিভিন্ন পরিবেশবাদি সংগঠনগুলো পুরাতন খোয়াই নদী উদ্ধারের জন্য আন্দোলন করে যাচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমান এমপি মহোদয় ও জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টা অবশেষে তিন যুগ পরে হলেও উদ্ধার হচ্ছে নদীটি। এটি হবিগঞ্জবাসীর জন্য অনেক আনন্দের বিষয়।

জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ বলেন- ‘সোমবার সকাল থেকে উচ্ছেদ প্রকৃয়া শুরু করা হবে। তিন/চার দিন লাগতে পারে। পরে পুরাতন খোয়াই নদীর দু’পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এখানে একটি দৃষ্টিনন্দন পার্ক নির্মাণেরও প্রকল্প রয়েছে।’

সূত্র: সিলেটভিউ

আর/০৮:১৪/১৬ সেপ্টেম্বর

হবিগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে