Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ , ৮ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৪-২০১৯

নদীর পিছনে কোটি কোটি টাকা ব্যায়, তবুও অস্তিত্ব সংকটে

নদীর পিছনে কোটি কোটি টাকা ব্যায়, তবুও অস্তিত্ব সংকটে

বরগুনা, ১৪ সেপ্টেম্বর - বরগুনা নদী বন্দর সচল রাখতে প্রায় প্রতি বছর সরকার লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে খাকদোন নদ খনন করে। কিন্তু অব্যাহত দখলের আর দূষণের কারণে খাকদোন নদের নাব্যতা ধরে রাখা যাচ্ছে না।এতে নাব্যতা ও অস্তিত্ব সংকটের মুখে পরেছে নদীটি ।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, এক সময় নদীটি প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার প্রশস্ত ছিল। বিশখালী থেকে উঠে আসা এই নদীটি পূবে পায়রা নদীর সঙ্গে মিশেছে। এক সময় এই নৌ পথ দিয়ে পাশ্ববতী জেলা পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় নৌযান চলাচল করতো বলে জানান তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,এ নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে ২০১০ সাল থেকে২০১৫ পর্যন্ত তিনবার খনন করা হয়। খননের কয়েক মাসের যেতে না যেতে আবার জোয়ারে-পলি পড়ে নদ ভরাট হয়ে যায়। এছাড়া নদের দুই পাশ দখলের কারণে নদটি সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এছাড়া খাকদোন নদের সঙ্গে শাখা খাল গুলোর প্রবেশদ্বারে স্লুইজ গেট নিমাণ করায় জোয়ারের পানির প্রবাহ কম থাকায় পলি পরে নদী ভরাট হয়ে যায়।

সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে,খাকদোন নদের দুইপাড় খাজুরতলা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। ভূমি অফিসের জরিপ মতে, পোটকাখালী এলাকা থেকে মাছ বাজার ব্রীজ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় জুড়ে নদীর দক্ষিন পাড়ে জরিপ (সার্ভে)করে সীমানা চিহ্তি করা হয়েছে। তবে সেখানে বর্তমানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে স্থাপনা রয়েছে দুই হাজারের বেশি।খাকদোন নদীর দক্ষিণ পাড়ের পিলার স্থাপনের (সীমানানিধারণ) কাজ শুরু হয়।

উপজেলা ভূমি কার্যালয়ের ভূমি জরিপকারী (সার্ভেয়ার) জতিরনাথ কীত্তনীয়া বলেন খাকদোন নদের দক্ষিণপাড়ের পোটকাখালী এলাকা থেকে এলাকা থেকে মাছ বাজার ব্রীজ পর্যন্ত সীমানা এলাকায়র মধ্যে অগণিত অবৈধ স্থাপনা রয়েছে।এতে নদটি সংকুচিত হয়ে হচ্ছে। এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রক্রিয়া চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয় গেছে বিশখালী নদী থেকে উৎপত্তি ২৪ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই নদীটি পুব পয়রা নদীতে মিলিত হয়েছে।চলতি মাসের ৭ তারিখ নদীটির পুণখনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।কেওড়াবুনিয়া এলাকা থেকে ১০০ ফুট চওড়া এবং ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য পয়রা নদী সংযোগস্থল পর্যন্ত নদীটি পুন খনন করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে,পোটকা খালী এলাকা থেকে চরকলোনি ব্রীজ পর্যন্ত নদীর দু,পাড় অবৈধভাবে দখল করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর এসব অবৈধ ভাবে দখল করা জমি স্থায়ী দখলের জন্য বিভিন্ন স্থানে পাকা স্থাপনা করা হয়েছে।এছাড়া দখলদারা দখল করা জমির আয়তন বাড়াতে বাড়াতে প্রায় মাঝনদী পর্যন্ত চলে এসেছেন।দখল হওয়ায় কারণে নাব্যতা ও অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে নদীটি।নদীটি বিপন্ন হলে পরিবেশ ও ব্যবসা বানিজ্য হুমকির মুখে পড়বে।

এদিকে নদের পূব দিকে ৪ নং চরকলোনী , ভুতমারা,সোনাখালী, কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের, শিংড়াবুনিয়া,রোডপাড়া, ঘটবাড়িয়া বাজারে মধ্যে দিয়ে উত্তর দিকে প্রবাহিত চান্দখালী বাজারের দক্ষিন পাশ দিয়ে পুব দিকে বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে এলাকা পায়রা নদীর সঙ্গে মিলিছে। ঘটবাড়িয়া বাজার এলাকা দিয়ে নদী অব্যাহত দখল ও ভরাট করার কারনে কোথাও ২০ ফুট কোথাও ৩০ ফুট আবার কোথাও ১০ ফুট নদী প্রবাহমান রয়েছে। বাদামতলা বাজার এ্রলাকায় নদীটি প্রায় নিচিহ্ন হয়ে গেছে। ভূতমারা এলাকায় নদীর উত্তর পাড়ে একটি ইটভাটার অব্যাহত ভরাটের কারণে ওই এলাকায় নদীর প্রস্থ ১০০ থেকে ১৫০ ফুটের মত প্রবাহ রয়েছে। কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের রোডপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. মতিউর রহমার হাওলাদার বলেন আমরা ছোট বেলায় দেথেছি এই নদী দিয়ে লঞ্চ চলাচল করতো।দিনের বেলায় একা নদীর পাড়ে আসতে ভয় পেতাম, আর সেই নদী এখনা মরা নালায় পরিণত হয়েছে। এই নদী দিয়ে বাবা- চাচারা লঞ্চ যোগে পটুয়াখালীতে যাতাযাত করতেন। শুনছি সরকার আবার এই নদীটিকে তার আগের রুপে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

একই ইউনিয়নের হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশ্রাব আলী(৬০)বলেন এই এলাকা দিয়ে নদী টি এখন ১০ পুটের মত চওড়া আছে ।এটি খনন করা দরকার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কাযালয়ের উপ- বিভাগীয় প্রকৌশলী আবদুল হান্নান প্রধান বলেন ২৪ কিলোমিটারদৈর্ঘ্যের খাকদোন নদীর ১৫ কিলোমিটার নদী পুন খননের জন্য আমরা একটি প্রস্তাবনা তৈরি করে কেন্দ্রীয় দফতরে পাঠিয়েছি।

বরগুনা সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি)ও নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট রুবাইয়াত তাসনিম বলেন ‘খাকদোন নদীর তীরে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো দ্রুত উচ্ছেদে করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এন এইচ, ১৪ সেপ্টেম্বর

পরিবেশ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে