Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯ , ২ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৯

কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাস শুরু সিলেটের পীযূষের

সজল ছত্রী


কাশ্মীর থেকে সন্ত্রাস শুরু সিলেটের পীযূষের

সিলেট, ১৪ সেপ্টেম্বর- অস্ত্র, ইয়াবাসহ গত বুধবার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সিলেটের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পীযূষ কান্তি দে। এর আগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দাপটের সঙ্গে ফিরে এসে নিজের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছিলেন তিনি। এবারও তেমনটিই ঘটবে কিনা তা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে সিলেটের বিভিন্ন মহলে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্র জানায়, এক সময় সিলেটে আলোচিত কাশ্মীর গ্রুপের সদস্য হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকা- শুরু করা পীযূষ পরবর্তীতে নিজেই গড়ে তুলেছিলেন তার বাহিনী। এই বাহিনীর সদস্যরা সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, মীর্জাজাঙ্গাল, তালতলা এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত। তাদের গ্রুপে যুক্ত হয়েছে কয়েকটি কিশোর গ্যাংও। সম্প্রতি জিন্দাবাজারে একটি রেস্টুরেন্টে খেতে এসে এই গ্রুপের হামলার শিকার হন কয়েকজন প্রবাসী। হামলায়

তারা গুরুতর আহত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অবশেষে গত বুধবার তিন সহযোগীসহ র‌্যাব গ্রেপ্তার করে পীযূষকে। উদ্ধার করা হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবা।

স্থানীয়রা জানান, অস্ত্র নিয়ে মহড়া, জায়গা দখল, বিভিন্ন হোটেলে মাদকসেবীদের গ্রুপ পরিচালনাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত পীযূষ প্রথম আলোচনায় আসেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়ানোর মধ্য দিয়ে। ২০০০ সালের দিকে সিলেটের কাশ্মীর গ্রুপের সন্ত্রাসী হিসেবে শুরু হয় পীযূষের তৎপরতা। পরে মদনমোহন কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে নিয়ে বেপোরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। ২০০৩ সালে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পান পীযূষ।

সিলেটের আরেক আলোচিত নেতা বিধান সাহার গ্রুপ ছেড়ে এ সময় তিনি দখল, ছিনতাই, চাঁদাবাজির নেতৃত্ব দিয়ে গড়ে তোলেন নিজের বাহিনী। কিন্তু ওয়ান ইলিভেনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গেলে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান পীযূষ। পরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আবার ফিরে আসেন ২০১০ সালে। ত্রাস সৃষ্টি করতে শুরু করেন প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া। এর পর প্রায় প্রতিবছরই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হন পীযূষ। কিন্তু কখনই তাকে বেশিদিন জেলে থাকতে হয়নি; বরং রাজনৈতিক ছাত্রছায়ায় সহজেই জামিনে বেরিয়ে আসেন তিনি।

পীযূষ ও তার দলের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি সিলেটের আদালত এলাকায় বিএনপির মিছিলে প্রকাশ্যে গুলি চালানোরও অভিযোগ আছে। সেবারও তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। চলতি বছর জানুয়ারিতে চাঁদাবাজি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু অচিরেই জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৭টি মামলা আছে বলে জানায় সিলেট মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

সিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) জেদান আল মুসা বলেন, পীযূষ একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কিন্তু সে জামিনে বেরিয়ে আসে। সর্বশেষ তাকে র‌্যাব ইয়াবা ও অস্ত্রসহ আটক করেছে। তার বিরুদ্ধে মামলাগুলো তদন্ত ও বিচারাধীন রয়েছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি কীভাবে সংগঠনের পদে থাকতে পারেন, জানতে চাইলে সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফসার আজিজ বলেন, পীযূষ কান্তি দের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য কাল (শনিবার) স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা এখানে আসবেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী পীযূষের ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আর/০৮:১৪/১৪ সেপ্টেম্বর

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে