Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৯ , ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৯

সত্তরে শাহাবুদ্দিন আহমেদ সোনার বাংলার যোদ্ধা শিল্পী

আশফাকুর রহমান


সত্তরে শাহাবুদ্দিন আহমেদ সোনার বাংলার যোদ্ধা শিল্পী

শিল্পকে যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্র বলেছেন পাবলো পিকাসো। আর শাহাবুদ্দিন অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন বাংলাদেশের জন্ম দিতে। তুলিতে-কালিতে-কাগজে যুদ্ধক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকে এঁকেছেন এই শিল্পী। হাতে একইসঙ্গে তুলি ও অস্ত্র তাঁকে করে তুলেছে অনবদ্য। এ অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশের চিত্রকলার ইতিহাসে ক্রমেই তাঁকে সবার থেকে আলাদাভাবে একদমই স্বতন্ত্র করে তুলেছে।

মেঘনা পাড়ের সেই ছেলে আজকের শাহাবুদ্দিনের এই জীবন শুরু হলো কীভাবে? শৈশবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম, সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতিকৃতি আঁকতে আঁকতেই তৈরি হলো তাঁর আঁকার দক্ষতা আর পেলেন জীবনবোধের দীক্ষা। জানলেন তাঁর পূর্বসুরীরা দিয়েছেন এই বাংলার নিজস্ব এক চেহারা। তবে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে সৃষ্টি এ বাংলা যেন হাজির হয়েছে আরেক চেহারায়।


ঢাকায় আর্ট কলেজে ভর্তি হয়ে শুনলেন এক শ্লোগান, ‘তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা’। শুনে তিনি মুগ্ধ হলেন, অবাক হলেন, হয়ে গেলেন বিমোহিত। এভাবেই তিনি হয়ে গেলেন ‘জয় বাংলা’ শ্লোগানের আজীবন সঙ্গী। তিনি যখন আজও ‘জয় বাংলা’ বলেন সবার সঙ্গে বুক ফাঁটিয়ে, তখন আমরা বারবার নতুন করে লাখ লাখ শহীদের প্রাণের বিনিময়ের আমাদের এই বাংলাদেশকেই খুঁজে পাই। তাঁর নিজস্ব শিল্পভাষা বিশ্ব শিল্প ঐতিহ্যের অনুসারী হলেও এর শেঁকড় এই বাংলাদেশে, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এবং মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধার বীরত্ব গাঁথায়।

জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার সংগ্রামের ডাকে মুক্তির লড়াই করেছেন শাহাবুদ্দিন। বাংলার প্রকৃতির অসীমতা এবং মানুষের অদ্ভুত ক্ষমতা তিনি নিবিড়ভাবে জেনে নিয়েছিলেন যুদ্ধের ময়দানে। শিল্পী হিসেবে এ অভিজ্ঞতা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে, ‘কবি, সাহিত্যিক বা শিল্পীরা যখন যুদ্ধে যায়, সেটা সাধারণ মানুষের চেয়ে একটু আলাদা মাত্রার হয়ে থাকে। এটা সাধারণত হয় না। এটা শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ থেকে আজ পর্যন্ত এ রকম নজির খুব কম পাওয়া যায়’।


একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে শাহাবুদ্দিনের শিল্পী হওয়ার একাগ্রতা যেন সময়ের ক্ষিপ্রতাকে জয় করারই নামান্তর। তাঁর ছবিতে সময়ের গতির সঙ্গে মানুষের শরীর-মনের গতির একাত্মতা আসলে মানব সভ্যতার এগিয়ে যাওয়ার যাত্রা। আবার উদ্বাস্তু শরনার্থীদের আঁকতে গিয়ে দিকহীন মানুষের আর্তনাদের কথা দুনিয়াকে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন প্রত্যয়ের সঙ্গে দ্বিধাহীনভাবে।

শাহাবুদ্দিনের ছবি আসলে মানুষের প্রতিনিয়ত জীবন্তভাবে বেঁচে থাকার পক্ষের দিনলিপি। যদিও মুক্তিযুদ্ধ তাঁকে দিয়েছিল শিল্পী সত্তা থেকে যোদ্ধা সত্তায় রূপান্তরিত হওয়ার উপায়। তিনি বলেছেন, ‘তখন আর ছবি নয়, দেশকে বাঁচানোর তাগিদটাই বড় মনে হয়েছিল। আর এই চেতনা তো আরোপ করে ধারণ করা যায় না। এটা আমার ভেতর থেকেই কাজ করেছে, আমরা বাঙালি হিসেবে বাঁচতে চাই। ঘরে বসে চুপচাপ ছবি আঁকা আমার হবে না।

সেটা আমি বুঝে গেছি তখন’। তাই ‘মুক্তিযুদ্ধের চিত্রকলা’ ধারণায় এক নতুন ধারা ও বিকাশ হয়েছে তাঁর তুলিতেই। এ কথা তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধ একটা জাতির জন্য একবারই হয়। বারবার হয় না। শিল্পী হিসেবে আমি হয়তো ভাগ্যবান যে আমি ধীরে ধীরে হলেও স্বাধীনতার প্রসঙ্গকে আমার ছবির বিষয় করতে পেরেছি। অন্যান্য জাতির মানুষের কাছে আমি আমার দেশের একটা বিশাল গৌরবময় অধ্যায়ের গল্প ছবিতে ব্যক্ত করতে পেরেছি। মুক্তিযুদ্ধ আমার জন্য অহংকার তো বটেই, আমার জীবনও বটে। এটার জন্যই বেঁচে আছি আমি’।


শাহাবুদ্দিনের আঁকা মুক্তিযোদ্ধা থেকে বঙ্গবন্ধু, গান্ধী, রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি যেন নতুন করে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতা, নতুন প্রাণের আকুতি নিয়ে প্রতি মুহূর্তে জয়ী হওয়ার ইতিহাস লেখা। বাংলার জয়গানের এমন সৃষ্টি সমকালীন চিত্রভাষায় এক অনবদ্য তরঙ্গ।

মুক্তিযুদ্ধই এ তরঙ্গের স্রষ্টা। মুক্তিযুদ্ধই সোনার বাংলার ভিত্তি। শাহাবুদ্দিনের ছবিতে আছে মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণা। আছে প্রতিনিয়ত চিরনতুন হওয়ার বাসনা। আর আছে সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার। শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে (জন্ম: ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৫০) ৭০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা। জয় বাংলা।

আর/০৮:১৪/১৩ সেপ্টেম্বর

সাহিত্য সংবাদ

আরও সাহিত্য সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে