Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ , ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১৩-২০১৯

পীযুষকে ঘিরে বিতর্কের পাহাড়!

পীযুষকে ঘিরে বিতর্কের পাহাড়!

সিলেট, ১৩ সেপ্টেম্বর - তার বিরুদ্ধে আগেও মামলা ছিল। তবে পীযুষ কান্তি দে’র চূড়ান্তভাবে সমালোচনায় আসেন ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মহড়া দিয়েছিলেন তিনি। বর্তমানে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই সিনিয়র সহসভাপতি এর আগে মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন।

পীযুষকে ঘিরে সেই যে বিতর্কের শুরু, তা চলছে এখনও। সর্বশেষ তিনি তিন সহযোগীসহ বিদেশি রিভলবার, গুলি, রামদা ও ইয়াবাসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

পীযুষ কান্তি দে সিলেট নগরীর ভাঙ্গাটিকর শেখঘাট এলাকার মৃত ননী গোপাল দে’র ছেলে।

সিলেটে নানা কারণে বিতর্কিত পীযুষ কান্তি দে। তার বিরুদ্ধে অপহরণ, ছিনতাই, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মারধরসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।

র‌্যাব-৯ এর সংবাদমাধ্যম কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, পীযুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা আছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর তালতলাস্থ হোটেল ইস্ট এন্ড-এ চাঁদা না পেয়ে কক্ষ দখল করে রাখার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৩১ আগস্টে গ্রেফতার হয়েছিলেন পীযুষ। ওই বছরের ১৭ জুলাই চাঁদাবাজির অভিযোগে এবং ২৮ আগস্ট ছিনতাইয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা (নং-১৬ এবং ৩৫) হয়।

এছাড়াও পীযুষের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালের ১৩ আগস্ট চাঁদাবাজির অভিযোগে (মামলা নং-৪১), মারামারির ঘটনায় ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি (নং-৯), একই বছরের ১৪ মে অস্ত্র আইনে (নং-৭), ২০১৪ সালের ১৯ মে মারামারির ঘটনায় (নং-১২), একই বছরের ২৯ জুন অপহরণের অভিযোগে (নং-৩৫) মামলা হয়।

অপহরণের অভিযোগে পীযুষের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দগঞ্জের গুমগুমিয়া গ্রামের আবদুল ওয়াহাবের ছেলে হারুনুর রশিদ ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেছিলেন। একই দিনে চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় আরেকটি মামলা (নং-২৫) হয়েছিল। মারামারির ঘটনায় ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল (নং-১০) তার বিরুদ্ধে মামলা হয় আরেকটি।

গেল বছরের (২০১৮) ফেব্রুয়ারিতে ফের অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে সমালোচিত হন পীযুষ কান্তি দে।

গত ৬ আগস্ট নগরীর জিন্দাবাজারে পীযুষের অনুসারীরা তিন প্রবাসীকে মারধর করে। পরে ভুক্তভোগীরা কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।

অভিযোগ আছে, নগরীর মির্জাজাঙ্গালে আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন পীযুষ কান্তি দে। তবে প্রবাসীদের ওপর হামলার ওই ঘটনার পর এ আস্তানায় যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। গত বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে সেখানে গিয়েই গ্রেফতার হন পীযুষ। তার সাথে আরো তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন মনিপুর রাজবাড়ীর মৃত আশ্বিনী কুমার পালের ছেলে বাপ্পা পাল (৪২), মির্জাজাঙ্গালের মৃত পরেশ রায়ের ছেলে মন্টি রায় (৪০) ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার রানী খাইলের রুস্তুম খানের ছেলে রায়হান খান (২৫)।

র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান জানান, পীযুষ ও তার সহযোগীদের একটি বিদেশী রিভলবার, ২ রাউন্ড গুলি, ৩টি রামদা ও পাঁচ হাজার ৫৪০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

সিলেট নগরীর কোতোয়ালী থানার ওসি মো. সেলিম মিয়া জানান, অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পীযুষসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে র‌্যাব তাদেরকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর সিলেট মহানগর বিচারিক আদালতের তাদেরকে হাজির করা হলে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) সময় দেশ ছাড়েন পীযুষ কান্তি দে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশে ফিরেন তিনি। এরপর থেকে নানা বিতর্কিত কর্মকা- চালিয়ে বিতর্কের পাহাড় জমিয়ে ফেলেছেন এই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা।

সুত্র ; সিলেটভিউ২৪
এন এ/ ১৩ সেপ্টেম্বর

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে