Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৩ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১২-২০১৯

জলজট-যানজটে দুর্ভোগ, চট্টগ্রামে ভূমিধসের শঙ্কা

জলজট-যানজটে দুর্ভোগ, চট্টগ্রামে ভূমিধসের শঙ্কা

চট্টগ্রাম, ১২ সেপ্টেম্বর - ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলজটে ডুবে গেছে সড়ক। হাঁটু কিংবা কোমর পানিতে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে যানবাহন। দীর্ঘ যানজটে অচল নগরে সীমাহীন ভোগান্তিকে সঙ্গী করেই বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টম্বর) সারাদিন পার করলেন চট্টগ্রামের মানুষ।

সকাল থেকে বৃষ্টি শুরু হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তা ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। বেলা ১১টার পর থেকে ডুবতে শুরু করে চট্টগ্রাম নগরের নিম্নাঞ্চল। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমর সমান পানিতে ডুবে যায় সড়ক, দোকান, বাসা-বাড়ি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েকঘণ্টার টানা বর্ষণ এবং জোয়ারের কারণে নগরের অক্সিজেন, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, মুরাদপুর, ষোলশহর, ওয়াসার মোড়, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ এবং হালিশহরের অধিকাংশ এলাকা ডুবে যায়।

নগরের নতুন ব্রিজ থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রধান সড়কের বেশ কয়েকটি এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানচলাচলে ধীরগতি নেমে আসে। নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। এতে আটকা পড়েন বিমানবন্দরের যাত্রী, রোগীসহ নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উত্তর চট্টগ্রাম থেকে নগরে প্রবেশের প্রধান দ্বার অক্সিজেন এলাকা পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুপুরে সেখানে প্রায় আধা কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পাড়েন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ফেরৎ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

অক্সিজেন থেকে মুরাদপুরমুখী সড়কে যান চলাচল থেমে থেমে চললেও বহাদ্দারহাট থেকে ষোলশহর পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার কারণে দেওয়ান হাট, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বেশ কয়েকটি সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

বৃষ্টির কারণে জোয়ারের পানিতে আগ্রাবাদ মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় হাঁটু পানি জমে। এতে হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্র, জেনারেল ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয় বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পতেঙ্গা আবহাওয়া কার্যালয়ের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা রিকান্ত কুমার বসাক জানান, বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৯৪.৪ মিলি মিটার বৃষ্টির রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টা জুড়েও চট্টগ্রামজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও ভারী বর্ষণের কারণে ভূমিধসের সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা লোকজনকে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভারী বর্ষণে ভুমিধসের শঙ্কা থাকায় নগরে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন ১৭ পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা লোকজনকে সরাতে কার্যক্রম চালিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেলোয়ার হোসেন জানান, ভারী বর্ষণে ভূমিধসের সম্ভাবনা থাকায় নগরের বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা লোকজনকে সরিয়ে নিতে মাইকিং কার্যক্রমসহ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন।

তিনি বলেন, সেখান থেকে লোকজনকে সরে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে উদ্বুদ্ধ করছেন আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেরা। ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা এসব লোকজনের জন্য ৮টি আশ্রয়কেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরে বর্ষার আগেই টানা অভিযান চালিয়ে নগরের ১৭ পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা ৮৩৫টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে ওইসব পাহাড় সংশ্লিষ্ট মালিক ও সংস্থাকে বুঝিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন। তবে সংস্থাগুলোর তদারকির অভাবে ফের সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করতে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী স্থানীয় কিছু ব্যক্তি সেবা সংস্থাগুলোকে ম্যানেজ করে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ দিয়েছে। সেখানে অবৈধভাবে ঘর তৈরি করে ঘর প্রতি দেড়-দুই হাজারে ভাড়া দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে স্থায়ীভাবে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা লোকজনকে সরানো সম্ভব হচ্ছে না।

জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামের পুরানো ‘দুঃখ’ হলেও সরকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নেয়। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। যদিও প্রকল্প হাতে নেওয়ার বেশ কয়েক বছর পার হতে চললেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধা সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসবে।

সূত্র : বাংলানিউজ
এন এইচ, ১২ সেপ্টেম্বর

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে