Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯ , ৩ কার্তিক ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১০-২০১৯

লাইসেন্স নয়, টোকেনে চলে সিএনজি!

পলাশ বড়ুয়া


লাইসেন্স নয়, টোকেনে চলে সিএনজি!

কক্সবাজার, ১০ সেপ্টেম্বর- কক্সবাজারে সিএনজি চালিত ৮০ শতাংশ অটোরিকশার প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র নেই, চালকদের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। তবে তাতে থেমে নেই এসব সিএনজি চলাচল, মাসিক টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট টোকেনে চলে সেগুলো।

সড়কের শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাও লাইসেন্স ভালোভাবে দেখেন না। ফলে বছরের পর বছর চলছে সিএনজির টোকেন বাণিজ্য। আর এ অবৈধ সিএনজি চলাচলে সরকার প্রতিবছর কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উখিয়া ও কক্সবাজারের একাধিক সিএনজিচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাইসেন্স থাকার চাইতে না থাকাই ভালো। কারণ, যেসব চালকের লাইসেন্স নেই বা গাড়ির কাগজপত্রে সমস্যা আছে, তাদের মাসিক চাঁদার বিনিময়ে নির্দিষ্ট ‘টোকেন’ নিলে পুরো মাস চলে। কিন্তু যাদের সব কাগজপত্র ঠিক আছে, তাদের চেক করার নামে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখে পুলিশ। এ ছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি করে।

সিএনজিচালক নাজির হোছন বলেন, ‘দীর্ঘ এক বছর হচ্ছে বিআরটিএ অফিসে গাড়ির লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জন্য টাকা জমা দিয়েছি। কিন্তু কোনো কাগজ পাইনি। ফলে সরকার প্রতিবছর নবায়ন ফি যেমন পাচ্ছে না, তেমনি চাঁদাবাজিও বন্ধ হচ্ছে না।’

এই চালক আরও বলেন, ‘প্রতি মাসে লাইসেন্সবিহীন গাড়ির জন্য উখিয়া রুটের জন্য মাসিক ৩৫০ টাকার টোকেন নিতে হয়। আর কক্সবাজার শহরের জন্য ২ হাজার ২০০ টাকায় টোকেন। অন্যদিকে লাইসেন্সধারী গাড়ির জন্য দিতে হয় মাসিক ১০০ টাকা। এই চাঁদার হার কোথাও দৈনিক, আবার কোথাও মাসিক হারে দিতে হয়। চাঁদার জন্য রয়েছে আলাদা আলাদা টোকেন। এসব টোকেন সরবরাহ করে শ্রমিকনেতা নামধারী এক শ্রেণির দালালরা। তারাই টোকেন বিকিকিনির কাজ করেন। এ ছাড়া পুলিশের ডিউটির নামে হয়রানি তো আছেই।’

সিএনজিচালক আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রতি মাসের শুরুতে কক্সবাজার শহরের ট্রাফিক পুলিশের ঠিক করা দালাল মো. কবিরকে টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। এ ছাড়া লিংক রোড থেকে পালংখালী স্টেশন পর্যন্ত মাসিক চাঁদা দিয়ে ছৈয়দ হোছন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। তাদের মাসোহারা এবং দৈনিক চাঁদাবাজির কারণে আমাদের বাধ্য হয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করতে হয়। আর বাড়তি আদায় করতে গিয়ে প্রায় সময় যাত্রীদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়।’

চালকদের অভিযোগ, স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক নেতাদের যোগসাজসে, থানা ও হাইওয়ে পুলিশের ছত্রছায়ায় এসব টোকেন বাণিজ্য হচ্ছে।  টোকেন বাণিজ্যে টাকার একটি অংশ যায় পুলিশের পকেটে। তবে সবচেয়ে বড় অংশটি পান তথাকথিত শ্রমিক নেতারা। এসব টোকেন বিক্রি ও চাঁদা আদায়ের জন্য স্টেশনগুলোতে রয়েছে আলাদা লাঠিয়াল বাহিনী। প্রতিটি স্টেশনের এসব লাঠিয়াল বাহিনীকে প্রতিদিন গাড়ি প্রতি ১০-২০ টাকা দিতে হয়।’

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নামে এসব টোকেন দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা অটোরিকশা, সিএনজি, টেম্পো পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নামে উখিয়া থেকে কক্সবাজার যাওয়ার জন্য মো. কবির নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে টোকেন নিতে হয়। একই সংগঠনের আওতাধীন উখিয়া উপজেলা অটোরিকশা, সিএনজি ও টেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের নামে টোকেন বাণিজ্য করেন ছৈয়দ হোছন। মাসে প্রতিটি টোকেনের মূল্য কক্সবাজার কেন্দ্রিক ২ হাজার ২০০ টাকা ও উখিয়া কেন্দ্রিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এ ছাড়া কোটবাজার এলাকায় আবদুর রহমান নামে এক ব্যক্তি টোকেন বাণিজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টোকেন ব্যবসায়ী মো. কবির বলেন, ‘গত এক বছর ধরে লাইসেন্সবিহীন প্রতিটি সিএনজি থেকে মাসিক ২ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে চাঁদার বড় একটি অংশ টিআই নাসির ও নবী ভাইকে দিতে হয়।’ এ ছাড়া কয়েকজন সাংবাদিকের আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কথাও তিনি জানান।

মো. কবির আরও বলেন, ‘যেহেতু বেশিরভাগ গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকে না, এমনকি অনেক চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। কারও কারও আবার লাইন্সেসের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। ট্রাফিক পুলিশের আইনি জটিলতা থেকে রেহাই পেতে চালকরা মাসিক চাঁদা দেয়।’

উখিয়া বা কক্সবাজার কেন্দ্রিক মাসিক টোকেন বাণিজ্যের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন কোটবাজার ফোর স্ট্রোক সিএনজি চালক ও মালিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি রুহুল আমিন খাঁন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবহন সেক্টরে অনিয়মের প্রধান কারণ হলো মালিক-শ্রমিকদের নামে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলো। টোকেন নিয়ে যা হয় তার পেছনেও রয়েছে এসব নেতারা। তারাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যকে ম্যানেজ করে এ ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছে।’

সিএনজি’র টোকেন বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের জন্য পুলিশ ও পরিবহন নেতারা একে-অপরকে দুষছেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাক-পিকআপ মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি ইউনুছ চৌধুরী বলেন, ‘অনিয়ম যখন নিয়ম হয়, প্রতিরোধ তখন অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়।’

তাই পরিবহন খাতের এ ধরনের নৈরাজ্য দমনে দুদক, বিআরটিএ এবং প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) বাবুল চন্দ্র বণিক বলেন, ‘পুলিশ সরাসরি টোকেন বাণিজ্যে জড়িত, এ বিষয়টি সঠিক নয়। টোকেন দিয়ে অবৈধভাবে গাড়ি চলাচলে কেউ সহযোগিতা করে না। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আর/০৮:১৪/১০ সেপ্টেম্বর

কক্সবাজার

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে