Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ১ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 0/5 (0 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-১০-২০১৯

যে ৭ কারণে বাতিল হলো না ছাত্রলীগের কমিটি

যে ৭ কারণে বাতিল হলো না ছাত্রলীগের কমিটি

ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর - ছাত্রলীগের বর্তমান নেতৃত্বের ওপর ক্ষুব্ধ হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনি ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করেননি। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন হলো তিক্ত বিরক্ত আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কেন ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলো! আওয়ামী লীগের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট ৭টি কারণ। এই কারণগুলো হলো:

১. ছাত্রলীগের কমিটি এখনি যদি বাতিল করা হতো তাহলে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যে সমালোচনাগুলো বিভিন্ন মহল থেকে, বিশেষ করে বিরোধী শিবির থেকে করা হচ্ছিল তা সত্য বলে প্রমাণিত হতো। এতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ওপর তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলতো। আওয়ামী লীগ এই নেতিবাচক সমালোচনাগুলো গায়ে মাখতে চায়নি বলে এই মুহূর্তেই ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করা হয়নি।

২. ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বাতিল করলে সারাদেশে ছাত্রলীগের নামে যে চাঁদাবাজি, মাস্তানির অভিযোগ রয়েছে তা আরো বাড়তো। স্থানীয় পর্যায়ে ছাত্রলীগের কোন জবাবদিহিতা থাকতো না। তারা যে যার মতো স্থানীয় এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতো। ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যেত।

৩. ছাত্রলীগের নামধারীদের দৌড়ত্ব বাড়তো। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি বাদ দিলে ছাত্রলীগ অনুপ্রবেশের কোন ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেঞ্চ’ থাকতো না। যে কেউ নিজেকে ছাত্রলীগের বলে জাহির করতো। এরফলে ছাত্র শিবির ছাত্র দল থেকে অনুপ্রবেশের সংখ্যা বেড়ে যেত।

৪. সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি তার ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে এবং এই কাউন্সিল অনুষ্ঠানকে ছাত্রদলকে চাঙ্গা করার একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ছাত্রলীগৈর কমিটি বাদ দিলে দুর্বল হয়ে পড়তো। তা ছাত্রলীগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতো।

৫. ছাত্রলীগের বিভিন্ন স্থান, বিভিন্ন জেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে যে নেতৃত্বের কোন্দল এবং নেতৃত্বের কোন্দলের কারণে যে বিভিন্ন সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। এ সংঘাতের ঘটনা ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করলে আরো বেড়ে যেত। ফলে সারাদেশে ছাত্রলীগ তথা আওয়ামী লীগ সম্পর্কে একটি নেতিবাচক মনোভাব তৈরী হতো।

৬. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় বিশ্বাস করেন যে, মাথা ব্যাথার ওষুধ কখনো মাথা কেটে ফেলা নয়। বরং মাথা ব্যাথা সাড়ানো। ছাত্রলীগ থেকেই শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা এবং বিকাশ। তিনি সবসময় ছাত্রলীগকে তার নিজের সংগঠন হিসেবে মনে করেন। তার রাজনীতির আতুর ঘর মনে করেন।  এজন্য তিনি বর্তমান নেতৃত্বের ব্যর্থতার জন্য কমিটি বাতিল করার মতো কঠোর ব্যবস্থায় যেতে চাননি। বরং এই সময়ের মধ্যে তিনি ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব খুঁজে বের করা এবং ছাত্রলীগের মধ্যে যারা কাজ করছে ভালো মেধাবী কর্মী তাদেরকে খুঁজে বের করার কাজটি করতে চান।

৭. ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা মুষ্টিমেয় হাতেগোনা কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ। এই অভিযোগের জন্য পুরো ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করে ছাত্রলীগের বদনাম করার নীতিতে বিশ্বাসী ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্যই তিনি চাননি ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করতে। কারণ ছাত্রলীগে বহু নিবেদিত কর্মী আছে যারা আগামী দিনে আওয়ামী লীগের হাল ধরবে। এ কারণে এই বিবেচনা থেকেই তিনি ছাত্রলীগের কমিটি বাতিল করেননি।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করছে, ছাত্রলীগ কঠোর নজড়দারিতে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সমস্ত ব্যাপারগুলো সার্বক্ষণিকভাবে খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অতীতে যে সমস্ত চাঁদাবাজি, দলীয় মতবিরোধের কারণে ভাঙচুরসহ নানা অভিযোগ উঠেছে, সেইসব অভিযোগের ব্যাপারে এখন শুন্য সহিষ্ণুতা গ্রহণ করা হবে। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে তার বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে ছাত্রলীগকে আস্তে আস্তে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন।

সূত্র : বাংলা ইনসাইডার
এন এইচ, ১০ সেপ্টেম্বর

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে