Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-০৯-২০১৯

পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেয়া রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর

পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেয়া রোগীর মৃত্যু, ক্লিনিক ভাঙচুর

নারায়ণগঞ্জ, ০৯ সেপ্টেম্বর- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ভুল চিকিৎসায় আমান্তিকা নামের এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিক ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা। সোমবার দুপুরে উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি ক্লিনিকে এ ঘটনা ঘটে।

এসময় বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, গ্লাস, দরজা জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘটনার পর ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. পিন্টু মিয়া বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়েরর প্রস্তুতি চলছে। সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বড় সাদিপুর গ্রামের পিন্টু মিয়ার স্ত্রী আমান্তিকা গর্ভবতী হলে সিজার নিয়মিত চিকিৎসার জন্য শুক্রবার বিকেলে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। ওই ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. নূরজাহান বেগম ওইদিন রোগীকে সিজার করার পরামর্শ দেন। তিনি নিজেই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তার সিজার করান। এসময় আমান্তিকার একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়।

তাড়াহুড়া করে সিজারের পর ওই রোগীর পেটে গজ কাপড় রেখেই ডা. নূরজাহান কাটাস্থান সেলাই করে দেন। সিজারের পর রোগীর অনবরত বমি ও পেটে অস্বস্তি তৈরি হয়ে পেট ফুলে যায়। পুনরায় ওই ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি নারায়ণগঞ্জ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। ডাক্তার নূরজাহান কেয়ার হাসপাতালে গিয়ে পুনরায় ওই রোগীর সিজার করিয়ে জরায়ু কেটে ফেলেন। সেখানে রোগীর অবস্থা অবনতি হলে কেয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে ঢাকার গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে পাঠানো হলে সোমবার ভোরে রোগী মারা যায়।


এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা বিক্ষুদ্ধ হয়ে দুপুরে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে এসে ক্লিনিকের পরীক্ষাগার, মেশিনপত্র, গ্লাস, দরজা জানালাসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। ঘটনার পর ওই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের বিচারের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিহত আমান্তিকার লাশ একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে আসে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে। এসময় রোগীর বিক্ষুদ্ধ স্বজনরা ক্লিনিকে গিয়ে হাসপাতালে ভাঙচুর করে।

নিহত আমান্তিকার স্বামী মো. পিন্টু মিয়া জানান, বন্দর উপজেলার কল্যাণদী গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে আমান্তিকার সঙ্গে ২০১৮ সালের ৩ আগস্ট তার বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় তাকে স্ত্রীকে হারাতে হয়েছে। তিনদিনের মাথায় তার কন্যা সন্তান এতিম হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন তিনি।

নিহতের বাবা সোহেল মিয়া জানান, শুক্রবার আমার মেয়েকে সোনারগাঁ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসার পর ডাক্তার সিজার করার পরামর্শ দেন। জরুরি সিজার না করলে মা ও পেটের সন্তান মারা যাবে বলে জানিয়েছেন। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী আমরা সিজারের সিদ্ধান্ত নেই। ওইদিন ডাক্তার নূরজাহান আরও ৪টি সিজার করেছেন। পাশাপাশি রোগীর দীর্ঘলাইন। ডাক্তার তাড়াহুড়া করে সিজারের পর পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করায় আমার মেয়ের মৃত্যু হয়। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীকে গ্রেফতার করে বিচার দাবি করি।

সোনারগাঁ থানা পুলিশের ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল ভাঙচুর হয়েছে। বিক্ষুদ্ধ স্বজনদের পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/০৯ সেপ্টেম্বর

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে