Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (10 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-০৮-২০১৯

যে নারীর সাহসিকতায় আফগানিস্তানে আলো ছড়াচ্ছে ‘রেডিও রোশনি’

যে নারীর সাহসিকতায় আফগানিস্তানে আলো ছড়াচ্ছে ‘রেডিও রোশনি’

বুলেটের বদলে অনর্গল কথোপকথন। না, কোনো সমঝোতা বা আলোচনার কথা নয়। সন্ত্রাসবাদীদের রক্তচক্ষু, খুনের হুমকি উপেক্ষা করে বুকে অদম্য সাহস নিয়ে টানা দশ বছরের সংগ্রাম এক আফগান তরুণীর।

পর্দাপ্রথার বাইরে বেরিয়ে শুধু পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজই নয়, একটি রেডিও স্টেশন তৈরি করে ফেলেছেন সাদিকা শারজাই। তার হাতে তৈরি ‘রেডিও রোশনি’ এখন আলো ছড়াচ্ছে উত্তর আফগানিস্তানের তালেবান অধ্যুষিত কুন্দুজ শহরে।
২০০৮ সালে তালেবান সন্ত্রাসের ভয়ে কাঁটা গোটা আফগানিস্তান। এমনকী প্রশাসনও তাদের সমঝে চলে। নারীদের বাড়ির বাইরে যাওয়া নিষেধ। নিজের মতামত ব্যক্ত করাও প্রায় একটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। পুরুষের হাতের পুতুল হয়ে নরকে দিন কাটানোর মতো অবস্থা আফগান নারীদের। এমনই সময়ে যেন সমস্ত শিকল ছিঁড়ে আবির্ভূত হলেন সাদিকা শারজাই।

নারীদের চিরবঞ্চনার কথা প্রকাশ করে তাদের মুক্তিপথের সন্ধান দেবে বলে তৈরি করলেন একটি রেডিও স্টেশন। নাম রাখলেন-‘রেডিও রোশনি’। সেখানে নারীদের অধিকারের কথা প্রচার করতেন তিনি।

একাজ যে সহজ হবে না, সে বিষয়ে ধারণা ছিল সাদিকার। তাই রেডিও স্টেশন সম্প্রচার হওয়ার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তালেবান জঙ্গিরা তাকে প্রথম রেডিও স্টেশন বন্ধ, তারপর হত্যার হুমকি দিতে থাকে। এমনও বলা হয় যে সাদিকা এতটাই খারাপ কাজ করছেন যে আমেরিকা ধ্বংস করার আগেও জঙ্গিদের কর্তব্য তাকে খুন করা। সাদিকা নিরাপত্তার জন্য আফগান সরকারের দ্বারস্থ হন এবং ফেরেন ব্যর্থ হয়ে। বুঝতে পারেন, সরকার তাকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না।

এক বছরের মধ্যেই বিপর্যয়টা নেমে আসে।

রকেট লঞ্চার ছুঁড়ে রেডিও স্টেশন উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তালেবানরা। তখনকার মতো বন্ধ হয়ে যায় সাদিকার রেডিও রোশনি। কিন্তু ওই কিছুদিন মাত্র। তারপর আবারও ফিরে আসেন অসম সাহসী এই নারী। রেকর্ডিং স্টুডিও থেকে মাইক্রোফোন হাতে কণ্ঠ ছেড়ে বলেন, ‘আমরা হুমকি দিই না। স্বাধীন হওয়ার পাঠ দিই।’ তারপর থেকে বেশ চলছিল রেডিও রোশনি। স্থানীয় পুরুষদের কটাক্ষ, হুমকি, একঘরে করে দেওয়া-এসবের মাঝেও রেডিও রোশনি পৌঁছে গিয়েছিল কুন্দুজের নারীমহলে।

প্রথমবার কবজা করতে না পেরে ২০১৫ সালে কুন্দুজ দখলের পর রেডিও রোশনি স্টেশনে ফের বড়সড় হামলা চালায় তালেবান। সাদিকাকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি কর্মীদের নিয়ে কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যান। এরপর জঙ্গিরা রেডিও স্টেশনে ঢুকে সমস্ত যন্ত্রপাতি চুরি করে, মাইন পুঁতে দিয়ে যায়, যাতে স্টেশনটিই উড়ে যায়। সমস্ত জানতে পেরে সাদিয়া বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেন। তারা মাইন নিষ্ক্রিয় করে স্টেশনটি বাঁচান। তবে ততক্ষণে সম্প্রচার করার পরিকাঠামো নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

তারপর শুরু হয় আরেক সংগ্রাম। এখন রেডিও রোশনি পুরোপুরি নারীদের দখলে। কর্মীরাও নারী। সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানের সিংহভাগই নারীদের জন্য। কুন্দুজের রেডিও রোশনি এখন শুধু একমাত্র বিনোদনমূলক শ্রাব্য মাধ্যমই নয়, আফগান নারীদের মুক্তির পথ, স্বাধীন হওয়ার ঠিকানা।

এন এইচ, ০৮ সেপ্টেম্বর

মিডিয়া

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে