Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২০ , ১২ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.4/5 (20 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৫-২০১৩

তাহিরপুরে পাহাড় ধস ৬ বছরে সীমান্তবর্তী অর্ধশত গ্রাম মরুভূমিতে পরিণত


	তাহিরপুরে পাহাড় ধস ৬ বছরে সীমান্তবর্তী অর্ধশত গ্রাম মরুভূমিতে পরিণত

সুনামগঞ্জ, ০৫ অক্টোবর- সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে অপরিকল্পীত কয়লা ও চুনাপাথরের জন্য খননকৃত কোয়ারির মাটি ও বালু পাহাড়ের উপর থেকে উৎপত্তি ১৮টি ছড়া দিয়ে বিগত ৫ বছার নেমে আসার কারণে মরু ভূমিতে পরিণত হচ্ছে সুনামগঞ্জে রতাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো। ফলে এলাকার বসতবাড়ি, স্কুল, স্থাপনা, রাস্তাঘাট, পুকুরসহ শত শত একর ফসলি জমি বালুর নিচে চাপা পড়ছে।
সীমান্তবাসী জানান, সীমান্তের ওপারে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ধেয়ে আসা বালুর স্তুপ বাংলাদেশ অভ্যন্তরের সীমান্তবর্তী কড়ইগড়া থেকে বীরেন্দ্রনগর পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত গ্রাম মরু ভূমিতে পরিণত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে কয়েক হাজার হেক্টর আয়তনের ছোট-বড় প্রায় ২০টি হাওর বালুর স্তর পড়ে মরু ভূমিতে পরিণত হওয়ার আশংকা করছেন সীমান্তবর্তী লোকজন। ভারতের মেঘালয় পাহাড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে নাকি অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে এমন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তা ভেবে পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। দিনের পর দিন এলাকায় বিরান ভূমির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও কারণ খুঁজে পায়নি দেশের একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন। এমনকি সরকারের সংশি¬ষ্ট বিভাগও। সীমান্তবর্তী মানুষের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই বসতি এলাকা দিয়ে ঢল নামে। পাহাড়ি এ ঢল মোকাবেলা করে চলা যেন তাদের জীবন সংগ্রামের একটি অংশ। এ ঢলে পানি-বালুর সঙ্গে পাহাড় থেকে নেমে আসে বড় বড় পাথর খন্ড আর বালু মাটি। দুঃসহ সেই কথা বর্ণনা করতে গিয়ে
এলাকাবাসী অভিযোগ করেন ঠাস ঠুস শব্দ কইরা মনে অইছিল আস্তা পাহাড় ভাঙি পড়ছে। ঘর থাকি কোন রকম বাইর অইয়া জীবন বাঁচাইছি। রাত পোহাইলে পরে দেখি বালু-পাথরের স্তরে সয়লাব। আমরা বলি এইডা একডা গজব। এক রাতের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালু ও পাথর খন্ডের আস্তরণ ঢাকা পড়ার ঘটনাটি ঘটে ২০০৭ সালের বর্ষা মৌসুমে সীমান্তবর্তী কয়েকটি গ্রামে। প্রথম দফা এ ঢল দেখে স্থানীয় জনসাধারণসহ জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল চুনাপাথর ও কয়লা খনি সমৃদ্ধ ভারতের মেঘালয় পাহাড় হয়তো কোন কোয়ারি থেকে এ রকম হয়েছে। ২০০৭ সালের পর ৬ বছর বর্ষায় পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বালু ও পাথর খন্ডের আস্তরণ পড়া অব্যাহত থাকার কারণ নির্ণয় করতে না পেরে ওই এলাকায় বসবাসকারী মানুষরা গজব বলে অভিহিত করছেন। ৬ বছরে  প্রতি বছরেই  ঘরের ভিটে উঁচু করার কথা জানিয়ে এক বৃদ্ধ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন আমরা বড় আতঙ্কে আছি। এইহানও কী থাকন যাইব? না হইলে কই যাইমু? সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, এ ব্যাপারে এলাকাবাসী সবাই উদ্বিগ্ন।
এলাকাবাসীর বর্ণনায় গজব পীড়িত এলাকা হচ্ছে, তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী লাগোয়া চাঁনপুর, টিলাপাড়া, নয়াছড়া, পাহাড়তলী, কড়ইগড়া ও রজনীলাইন গ্রাম। এর মধ্যে রজনীলাইন ও কড়ইগড়া আদিবাসী অধ্যুষিত। গ্রামগুলোর বসতির অবস্থান অনেকটা মেঘালয়ের কোলে। বছরের বর্ষকালীন পাহাড়ের ঢলের সঙ্গে গ্রামবাসীর জীবনযাপনের ধরন বদলায়। সরজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চাঁনপুর থেকে রজনীলইন পর্যন্ত তিন শতাধিক বসত- ভিটা কয়েক ফুট বালু-পাথরের নিচে ঢাকা পড়েছে। বাড়ির আঙিনা, পুকুর সবই বালু-পাথরের স্তুপে ঢাকা। ধার গাছ-গাছালিগুলো মরে যাচ্ছে। চাঁপুর গ্রামের বসিন্দা নাজমুল সিকদার (৫৫) বলেন, গত ৬ বছরে আমাদের সব শেষ হইয়া গেছে। আগে আমরা আমাদের খেতে খামারে কামলা রাইখা কাজ করাইতাম! এই গজবের কারণে এখন আমরা
নিজেই অন্যারে জমিতে কাজ করন লাগে।  স¤প্রতি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, মেঘালয় পাহাড়ে মনাইছড়া, কড়ইগড়া, চিত্ত, রাজাই, গারো, চাঁনপুর, বুরুঙ্গা, পাগলা, বড়ছড়া, টেকেরঘাট, লাকমা, লালঘাট, বাঁশতলা, চারাগাঁও, কলাগাঁও, রন্দু, সুন্দরবন, বাগলি,নয়াছড়া নামে ১৮টি পাহাড়ি ছড়া রয়েছে। এ ছড়াগুলো এপাড়ে এসে সীমান্ত নদী জাদুকাটা, মাহারাম, বৌলাই, রক্তি, পাটলাই নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। নয়াছড়া দিয়ে যে পাথর খন্ড আসে, সেগুলো বিবর্ণ। টুকরোগুলো মাটির উর্বরতাকেও নষ্ট করে দিচ্ছে বলে চাষ-বাসের সঙ্গে স¤পৃক্ত এলাকাবাসী জানান। তারা জানান, ১৮টি ছড়া দিয়ে পাহাড়ি ঢলের পানি ও বালু প্রবাহিত হলেও নয়াছড়া দিয়ে পানির সঙ্গে অধিক বালু ও পাথর খন্ড আসছে। এ কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে এলাকার পরিবেশ। এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিসুল হক বলেন, সীমান্তের গ্রামগুলোর মানুষ প্রাকৃতিক পরিবেশের ও জীবনের  সঙ্গে সংগ্রাম করে বেচে আছে। গত ৬ বছরে অনেক মানুষ তাদের ঘর বাড়ি হারিয়ে এ এলকা ছেড়ে চলে গেছে। সরকারি ভাবে এর প্রতিরোধে এখানে কোন উদ্যাগ না নেওয়ার ফলে এর ভয়াবহতা দিনদিন ব্যাপক আকার ধারন করছে। তিনি আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমিশন গঠন করে পাহাড় ধসে অচিরেই বন্ধের উদ্যাগ না নিলে সীমান্তর্বতী গ্রাম গুলো এক সময় মরুভূমিতে পরিনত হবে। এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,মেঘালয় থেকে যে সব ঝরনাধারা থেকে পাহাড়ি ঢল নামে, সেগুলোতে পানির সঙ্গে বালুর পরিমাণ কম-বেশি থাকে। কিন্তু পাথর খন্ড ও বালুর পরিমাণ অত্যধিক বেড়ে এ রকম পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া একটি দুর্যোগের মতো। আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কারণে পাহাড় দুর্বল হয়ে পড়ায় এমনটি ঘটতে পারে।
 

সুনামগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে