Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বৃহস্পতিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ , ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (15 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-০৭-২০১৯

সংসদীয় গণতন্ত্রে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন

সংসদীয় গণতন্ত্রে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন

লন্ডন, ০৭ সেপ্টেম্বর - যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসের কর্তৃত্ববাদী নীতি অনুসরণ করে পার্লামেন্টের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। । মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইন সংশোধনসহ তিনটি প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে পার্লামেন্টে তিনি হেরেছেন, যা ব্রিটেনের ইতিহাসে অতীতে কখনো ঘটেনি। এতে সংসদ পরিচালনায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বরিস সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। এর মধ্য দিয়ে মাদার অব অল পার্লামেন্টখ্যাত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট তার স্বকীয়তা ও ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখলো।

ব্রেক্সিট ইস্যু নিয়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এখন বেশ বিপাকেই পড়েছেন। নিজ দলের এমপিদের অনেকেরই সমর্থন পাচ্ছেন না তিনি। যার প্রমাণ মিলে গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা দেওয়ার সময় তার দলের একজন অপেক্ষাকৃত নবীন সদস্য তৃতীয় প্রধান বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাটের সারিতে গিয়ে বসায়।

বিরোধী দলগুলোর উত্থাপিত একটি প্রস্তাব ২৯ ভোটের ব্যবধানে পাস হলে বরিস জনসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর বিষয়টি প্রবলভাবে প্রকাশ পায়। বিশ্বযুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের পৌত্র স্যার নিকোলাস সোম, সাবেক মন্ত্রী কেনেথ ক্লার্ক, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডোমিনিক গ্রিভ, সাবেক আইনমন্ত্রী ডেভিড গকসহ প্রায় দুই ডজন প্রবীণ নেতাকে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে বহিষ্কারের হুমকি দেওয়ার পরও তাঁরা পার্লামেন্টের ক্ষমতা ও মর্যাদা রক্ষায় অনড় থাকেন। অতঃপর পাস হয় চুক্তিহীন বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে এবং আলোচনার জন্য ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুরোধ জানানোর বাধ্যবাধকতা তৈরির আইন।

ওই আইনকে বরিস জনসন ইউরোপের কাছে ‘আত্মসমর্পণের দলিল’ এবং দেশের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অভিহিত করে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানালেও তাঁর আবেদন-নিবেদন-হুমকি কাজে আসেনি। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ব্রেক্সিট ‘করব অথবা মরব’—এই পণ বাস্তবায়নের আশা এভাবে ধূলিসাৎ হতে চলেছে দেখে তাঁর শেষ চেষ্টা ছিল ১৫ অক্টোবর আগাম নির্বাচন আয়োজন করা, যাতে ব্রেক্সিট ইস্যুতে ম্যান্ডেট নবায়নের সুযোগ তৈরি হয়।

জনমতগুলোতে এগিয়ে থাকার সুবাদে তাঁর আশা, তিনি অক্টোবরে নির্বাচন করতে পারলে তাঁর ঘোষিত সময়সীমার মধ্যেই ব্রেক্সিট বাস্তবায়ন সম্ভব। কিন্তু ব্রিটেনের নির্ধারিত মেয়াদের পার্লামেন্টবিষয়ক আইনে আগাম নির্বাচনের জন্য আইন সংশোধন প্রয়োজন, যা সংশোধনে দুই–তৃতীয়াংশের সমর্থন দরকার হয়। বিরোধীরা রাজি না হওয়ায় এবং ভোটদানে বিরত থাকায় ওই সংশোধনীর চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এরপর বরিস বৃহস্পতিবার ঘুম থেকে উঠে জেনেছেন, তাঁর আপন সহোদর পরিবারের প্রতি আস্থার চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সরকার থেকে বিদায় নিয়েছেন।

এন এইচ, ০৭ সেপ্টেম্বর

ইউরোপ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে