Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৩ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-০৭-২০১৯

শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ

সানাউল হক সানী


শেষ হয়েও হচ্ছে না শেষ

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর- দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় রাজধানীবাসী যেমন অনেক ক্ষেত্রে বেশি বেশি সুবিধা ভোগ করে থাকেন, তেমনই কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাও মেনে নিতে হয়। গ্রামের মতো দিগন্তবিস্তৃত সবুজের সমারোহ দূরে থাক, একচিলতে মাঠের অভাবে এই মেগাসিটির অধিকাংশ শিশুই এখন ঘরকুনো হয়ে পড়ছে; একাকীত্ব আর হতাশা আঁকড়ে ধরছে তাদের, যা থেকে মানসিক বৈকল্যের শঙ্কাও রয়েছে।

এই যখন অবস্থা, তখন খিলগাঁও তিলপাপাড়াবাসী কিন্তু দিব্যি স্বস্তিতেই ছিলেন জোড়পুকুর খেলার মাঠের বদৌলতে। সবেধন নীলমণি এই মাঠটিতে এলাকার শিশু-কিশোর-যুবকদের খেলাধুলা শরীরচর্চা চলত নিয়মিত। এ ছাড়া যে কোনো বয়সী মানুষের চারদেয়ালে ঘেরা প্রাত্যাহিক জীবনে একদ- স্বস্তির স্পর্শও বুলিয়ে দিত প্রকৃতিঘনিষ্ঠ এ মাঠ। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে মাঠটির আধুনিকায়নের কাজ শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ২০১৮ সালের জুনেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

এর পর এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে; কিন্তু এ পর্যন্ত মাঠটি খুলে দেওয়া হয়নি। উন্নয়নকাজ শেষ হই হই করেও শেষ হচ্ছে না। উন্নয়নকাজের শুরুতে এলাকাবাসী খুশি হলেও এখন সে কাজের এতটা বিলম্বে সেই খুশি উবে গেছে; ক্রমেই তাদের মনে দানা বাঁধছে ক্ষোভ। সম্প্রতি স্থানীয়দের পক্ষ থেকে ডিএসসিসির মেয়র বরাবর একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে যেন মাঠটি শিগগির খুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, মাঠটির আধুনিকায়নের কাজ শেষ হলেও আশপাশে কিছু সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ এখনো বাকি আছে।

জানা গেছে, ডিএসসিসির পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মূল মাঠটির আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকেই প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে। সরেজমিন জোড়পুকুর মাঠের পাশে গিয়ে দেখা গেছে, সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত পুরো মাঠ। ভেতরে ডানা মেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে ময়ূর। আছে খরগোশ ও টার্কি। পশুপাখি ও প্রকৃতি মিলিয়ে চমৎকার এক পরিবেশ। তবে মাঠের প্রবেশপথটি বন্ধ। দুই পাশে কিছু নির্মাণসামগ্রী ইতস্তত পড়ে আছে। মাঠের চারপাশ অবৈধভাবে দখল করে যথারীতি বসে পড়েছে বেশকিছু দোকান।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাঠের মূল কাজ প্রায় শেষ হলেও তারা নতুন করে কিছু প্রস্তাবনা যুক্ত করেছেন। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এক প্রকৌশলী জানান, ইতোমধ্যে মাঠের পশ্চিম পাশে কফিশপ ও বসার ব্যবস্থা করার জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে করপোরেশনের কাছে। এ ছাড়া খেলার মাঠের সঙ্গে সেখানে খেলোয়াড়দের পোশাক পরিবর্তনের একটি কক্ষও থাকবে। মাঠের এক কোনায় গ্যালারি নির্মাণ করা হবে। মাঠের পাশের সড়কে যে পাবলিক টয়লেটটি রয়েছে, সেটি মাঠের ভেতরের লোকদেরও ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে। এ ছাড়া মাঠের উত্তরপাশে শিশুদের খেলার জন্য পৃথক স্থান রাখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে নীতিগত সমর্থন জানিয়েছে।

এসব বিষয় নিয়েও সমালোচনা আছে এলাকাবাসীর। তারা বলছেন, মাঠটির আয়তন এমনিতেই ছোট। উপরন্তু নানা প্রকল্প যুক্ত করে মাঠটিকে আরও ছোট করে ফেলা হচ্ছে। খিলগাঁও এলাকায় বিপুলসংখ্যক কফিশপ রয়েছে। এর পরও মাঠের পাশে কফিশপ স্থাপনের কারণটি এলাকাবাসীর বোধগম্য নয়। তারা বলছেন, এতে মাঠটির পরিবেশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে; মাঠটি ঘিরে আড্ডাবাজ-বখাটেদের উৎপাত বেড়ে যেতে পারে। আর জায়গা কমে যাওয়া তো রয়েছেই।

ডিএসসিসির মেয়র বরাবর এলাকাবাসী মাঠটি খুলে দেওয়ার জন্য যে আবেদন করেছেন, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, অত্র এলাকায় আর কোনো মাঠ না থাকায় জোড়পুকুর মাঠটিই ছিল তাদের একমাত্র প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্র। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবারই সকালে-বিকালে হাঁটা ও ব্যায়াম করার জন্য এ মাঠটিই ছিল একমাত্র অবলম্বন। শিশু-কিশোর-যুবকদের খেলাধুলার জন্যও এই মাঠের কোনো বিকল্প ছিল না। সব বন্ধ হয়ে গেছে উন্নয়নকাজের জন্য।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির অঞ্চল ২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনূর রশীদ এ প্রতিবেদককে বলেন, মাঠের আধুনিকায়নের কাজ শেষ। কর্তৃপক্ষ চাইলে এটি উন্মুক্ত করে দিতে পারে। তবে মাঠের চারপাশে সৌন্দর্যবর্ধনের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। এটি শেষ করতে পারলে মাঠটি দেখতে আরও সুন্দর লাগবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও দ্রুতই শেষ হবে এবং মাঠটি এলাকাবাসীর জন্য ফের খুলে দেওয়া হবে।

আর/০৮:১৪/০৭ সেপ্টেম্বর

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে