Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.7/5 (6 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৯-০৬-২০১৯

ক্বিনব্রিজ ঘিরে অন্য পরিকল্পনা

রফিকুল ইসলাম কামাল


ক্বিনব্রিজ ঘিরে অন্য পরিকল্পনা

সিলেট, ০৭ সেপ্টেম্বর- ক্বিনব্রিজ। আর কোনো শব্দ যোগ না করলেও এর সাথে আপনাআপনি চলে আসে সিলেটের কথা। সিলেটের সাথে যে ক্বিনব্রিজের ঐতিহ্যের বন্ধন! প্রায় ৮৬ বছরের পুরনো এই লোহার ব্রিজে এতোদিন মানুষ আর যানবাহন, বিশেষ করে রিকশা একইসাথে চলেছে। কিন্তু ঐতিহ্যের এই ব্রিজকে ঘিরে এবার অন্য পরিকল্পনা আঁটছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। যে পরিকল্পনায় ক্বিনব্রিজ হবে শুধুই হাঁটার জন্য, চলবে না কোনোও যান।

সিলেটের বুক চিরে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উত্তর ও দক্ষিণ পাড়কে সংযুক্ত করেছে ক্বিনব্রিজ। ১৯৩৩ সালে ব্রিটিশদের হাতে নির্মিত ১ হাজার ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ও ১৮ ফুট প্রস্থের এ সেতুটি চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় ১৯৩৬ সালে। ভারতের আসাম প্রদেশের তৎকালীন গভর্নর ছিলেন মাইকেল ক্বিন। তাঁর নামেই ক্বিনব্রিজ হিসেবে নামকরণ হয় সেতুটির। বয়স বাড়ার সাথে সাথে সিলেটের ঐতিহ্য হয়ে ওঠে অনেকটা ধনুকের মতো বাঁকানো এই সেতু।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ক্বিনব্রিজ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র পদচারীরা সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন। আপাতত সেতুটি সংস্কারের জন্যই যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ‘আপাতত’তেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না সিসিক, তাদের পরিকল্পনা আরো অগ্রসর।

সিসিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ক্বিনব্রিজ কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় আধা কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুর বেশকিছু স্থানে খানাখন্দের তৈরি হয়েছে। বড় বড় গর্তে অহরত ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়ছে রিকশা, অটোরিকশা। এছাড়া কয়েক বছর আগে সেতুর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য লাগানো লেজার লাইটও বিকল হয়ে পড়েছে। এ প্রেক্ষিতে সেতুটি সংস্কারের উদ্যোয় নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন। সংস্কারের জন্যই গেল ৩১ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টার দিকে সেতুতে উভয় পাড়ের প্রবেশপথে লোহার বেষ্টনী লাগিয়ে যান চলাচল বন্ধ করা হয়। তবে পদচারীরা সেতুটি ব্যবহার করতে পারছেন। বর্তমানে সিসিকের প্রকৌশল শাখা সেতুটির সংস্কারকাজ করছে।

তবে সংস্কারকাজ শেষে ক্বিনব্রিজ দিয়ে যান চলাচল উন্মুক্ত করতে চাচ্ছে না সিটি করপোরেশন। তাদের পরিকল্পনা, ঐতিহ্য হিসেবে সেতুটি সংরক্ষণ করতে শুধুমাত্র পদচারীদের জন্য সেতুটি ব্যবহার করার সুযোগ প্রদান করা। এছাড়া সুরমা নদী, ক্বিনব্রিজ, আলী আমজাদের ঘড়ি একেবারে পাশাপাশি হওয়ায় এ এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকে সবসময়। এ বিষয়টিও মাথায় রাখছে সিসিক, যাতে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে পর্যটকদের নির্মল পরিবেশ দেওয়া সম্ভব হয়।

ক্বিনব্রিজকে শুধুমাত্র পদচারীদের জন্য উন্মুক্ত রাখতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে অবহিত করা হয়েছে সিসিকের পক্ষ থেকে। মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নিজের মতামত তুলে ধরেছেন সওজের কাছে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সাথেও কথা বলেছেন মেয়র আরিফ।

এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ক্বিনব্রিজের বয়স ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় এ সেতুটি শুধুমাত্র পদচারীদের জন্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগও এ বিষয়ে একমত হয়েছে। তবে এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে না। সংস্কারকাজ চলাকালে ক্বিনব্রিজ দিয়ে শুধু পদচারীদের চলাচলের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এতে কোনো অসুবিধা দেখা দেয় কিনা, তাও ভাবা হচ্ছে। সবমিলিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেটের প্রতীক হয়ে গেছে ক্বিনব্রিজ। এ সেতু সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। সেজন্য সেতুতে যান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের বিষয়ে চলমান সংস্কারকাজ শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

মেয়র দাবি করেন, বিকল্প সেতু থাকায় ক্বিনব্রিজ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করলেও কোনো সমস্যা হবে না।

সূত্র: সিলেটভিউ

আর/০৮:১৪/০৭ সেপ্টেম্বর

সিলেট

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে