Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২০ , ৪ মাঘ ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.3/5 (27 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ১০-০৫-২০১৩

তিন শতাধিক অসুস্থ : না’গঞ্জে ওয়াসার পানি পানে ৪ জনের মৃত্যু!


	তিন শতাধিক অসুস্থ : না’গঞ্জে ওয়াসার পানি পানে ৪ জনের মৃত্যু!

নারায়ণগঞ্জ, ০৫ অক্টোবর- নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার লক্ষ্মণখোলা এলাকায় ওয়াসার দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি পান করে অসুস্থ হয়ে গত তিন দিনে চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় লোকজন ও কাউন্সিলর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে দুর্গন্ধযুক্ত দূষিত পানি পান করে লক্ষ্মণখোলার তিন শতাধিক বাসিন্দা গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে ঢাকার মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রসহ (আইসিডিডিআরবি) বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। গণ-অসুস্থতার ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন দুটি চিকিৎসা দল গঠন করেছে।
এ প্রসঙ্গে লক্ষ্মণখোলার একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েক দিন ধরে ওয়াসার পানিতে ময়লা-আবর্জনা পাওয়া যাচ্ছিল। পানি ছিল দুর্গন্ধযুক্ত। গত মঙ্গলবার থেকে লোকজনের মধ্যে ডায়রিয়া, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্র্ডের কাউন্সিলর লক্ষ্মণখোলার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন, শহীদুল্লাহ ও রমিজ মিয়া জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার গভীর রাতে মারা যান লক্ষ্মণখোলার রেহানা বেগম (২৮) ও সিরাজুল ইসলাম (৬০)। গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লক্ষ্মণখোলার আফসার আলী (৬৫) ও গতকাল শুক্রবার সকাল আটটার দিকে মারা যান ফিরোজা বেগম (৭৫)।
দক্ষিণ লক্ষ্মণখোলা এলাকায় চিকিৎসা দলের দায়িত্বে থাকা সহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা চন্দ্রা সাহা জানান, দূষিত পানির কারণে মঙ্গলবার থেকে ডায়রিয়া মহামারি আকার ধারণ করেছে। গতকাল সকাল থেকে দুই শতাধিক রোগী তাদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে গতকাল বিকেলে উত্তর লক্ষ্মণখোলার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন ঢাকা ওয়াসার মডস জোন-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল মান্নানসহ ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা। আবদুল মান্নান বলেন, অপরিকল্পিতভাবে পাইপলাইন নেয়ার কারণে এ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সিটি করপোরেশন কোনো কোনো এলাকায় ওয়াসার পাইপলাইনের ওপর দিয়ে নর্দমা নিয়ে গেছে। এতে পাইপ ছিদ্র হয়ে ময়লা পানি যাচ্ছে।
বন্দর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদরুন নাহার বলেন, আমরা দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আরও কেউ মারা গেছেন কি না তার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে ওয়াসাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে পানি সরবরাহ করে ঢাকা ওয়াসা। কিন্তু তাদের সরবরাহ করা পানিতে প্রায় সময়েই পাওয়া যাচ্ছে ময়লা আবর্জনা। অনেক এলাকাতেই ওয়াসার সরবরাহ করা এসব পানি ব্যবহারের অনুপযোগী। বন্দরের লক্ষণখোলা এলাকায়ও গত কয়েকদিন ধরে ময়লা পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বিষয়টি ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। গত কয়েকদিন থেকে ওয়াসা দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ করছে। অধিকাংশ এলাকায় ওয়াসার পানির পাইপ লাইনের সঙ্গে ড্রেনেজ লাইন মিলে যাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গত চারদিন ধরে পানি পান করে লক্ষণখোলা এলাকার লোকজন পানিবাহিত রোগ ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হতে থাকে। বেশিরভাগই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয়দের হিসেব মতে, গত দু’দিন লক্ষণখোলা এলাকার দুই শতাধিক মানুষ ডায়রিয়া আক্রান্ত হন। যাদের মধ্যে অর্ধশতের অবস্থা গুরুতর ছিল। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী। তারা বলছেন, ওয়াসার পানি পান করে অসুস্থ হয়েই চারজনের মৃত্যু ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এনায়েত হোসেন জানান, তিনি চারজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। স্থানীয় লোকজন সে তথ্যই জানিয়েছেন। নিহত লক্ষণখোলা এলাকার শহীদুল্লাহ ও রমিজ মিয়ার চাচাত বোন ফিরোজা বেগম গাজীপুর থেকে তাদের বাড়ি বেড়াতে আসেন। বৃহস্পতিবার রাতে পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়লে শুক্রবার সকালে আইসিডিডিআরবি নেয়া হয়। দুপুরে তিনি মারা যান।বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বদরুন নাহার খান বন্যা বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় দু’জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। আরও কেউ মারা গেছে কিনা তার খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. দুলাল চন্দ্র চৌধুরী জানান, লক্ষণখোলা এলাকাতে দুটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কেউ মারা যায়নি। তবে একজন মারা গেছে বলে শুনেছি।
লক্ষণখোলা এলাকায় মেডিকেল টিমের দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রশাসনের সহকারী মেডিকেল অফিসার চন্দ্রা সাহা জানান, শুক্রবার সকাল থেকে প্রায় দুই শতাধিক রোগী তাদের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। কয়েকজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআরবি) পাঠানো হয়। দূষিত পানির কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পানি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার জন্য সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলী, ঠিকাদার ও অবৈধ সংযোগকে দায়ী করেছে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ। ওয়াসার পাম্প হাউসের সরবরাহ করা পানি পান করে কেউ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়নি বলে দাবি ঢাকা ওয়াসা নারায়ণগঞ্জ মডস জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, ওই এলাকার যেসব বাড়ির সরবরাহ লাইনে কোনো ত্র“টি ছিল না সেসব বাড়ির কেউ ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়নি। ওই এলাকায় সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়কে গভীর ড্রেন নির্মাণের কাজ চলছে। ড্রেন নির্মাণ করতে গিয়ে ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন অনেক স্থানেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ওয়াসার অনুমতি ছাড়া রাতের আঁধারে অনেকেই সংযোগ নিয়েছেন। তাদের ত্র“টিপূর্ণ বিতরণ লাইনে দূষিত দ্রব্য প্রবেশ করে তা পানির সঙ্গে মিশে গিয়েছিলো। এ কারণে যারা ওই দূষিত পানি পান করেছিলেন তারাই আক্রান্ত হয়েছেন।
ঢাকা ওয়াসা নারায়ণগঞ্জ জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছিলেন, বিষয়টি শুনেছি। বুধবার সকালে ওই এলাকার যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের ঘরের পানি বোতলজাত করে সায়েদাবাদ পানি শোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জে বেশির ভাগ এলাকাতে ওয়াসার পাম্পহাউসের মাধ্যমে কয়েকশ ফুট গভীর থেকে পানি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তবে ওয়াসার পানি পান করে অসুস্থ হয়েছে আগে এমনটি শোনা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে  তদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।

নারায়নগঞ্জ

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে