Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৬ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৮-২০১৯

হত্যাকাণ্ডের পরে নয়নের সঙ্গে ৫বার কথা হয় মিন্নির

হত্যাকাণ্ডের পরে নয়নের সঙ্গে ৫বার কথা হয় মিন্নির

বরগুনা, ২৮ আগস্ট- আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার আগে ও পরে নয়ন বন্ডের সঙ্গে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির মোট ১৩বার মোবাইলে কথা হয় বলে হাইকোর্টকে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরমধ্যে ৮বার হয় হত্যার আগে এবং হত্যার পরে হয় ৫ বার।

মিন্নির জামিন বিষয়ে শুনানিকালে বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চকে ফোনালাপের তথ্য দেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারোয়ার হোসেন বাপ্পী।

এদিন মিন্নির জামিন শুনানি শেষ হয়। আদেশের জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

শুনানির শুরুতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না আদালতকে বলেন, কয়েকদিন ধরে এ মামলায় শুনানি করছি। আজ শুধু এ কথাই বলব, মিন্নিকে যেদিন গ্রেফতারের পর কোর্টে হাজির করা হলো, সেদিন তার পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় তার কাছে আদালত জানতে চাইলে তিনি (মিন্নি) জানান, ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। পুলিশ এ মামলায় তার পাঁচদিনের রিমান্ড চাইলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

মিন্নির আইনজীবী এ সময় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডে ভাইরাল হওয়া সিসি ফুটেজের ১১ খণ্ডের ডিস্ক আদালতে দাখিল করেন। তিনি আদালতকে বলেন, এসব সিসি ক্যামেরা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকা সত্ত্বেও ভিডিওগুলো কীভাবে বাইরে প্রকাশ হলো? এটাও কিন্তু একটা অপরাধ। পরে এ আইনজীবী ওই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ফুটেজও আদালতে দাখিল করেন।

মিন্নির আইনজীবী বলেন, মিন্নি বিধবা ও একজন ১৯ বছর বয়সী নারী। তাকে জামিন দিলে সে পালিয়ে যাবে না। তাই আমরা তার জামিন প্রার্থনা করছি। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছি কিন্তু আমরা এখনও তা হাতে পাইনি।

একপর্যায়ে আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (ইন্সপেক্টর) হুমায়ন কবিরের কাছে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চান। জবাবে তিনি বলেন, তদন্তের প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে। আজ বিচারিক আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারণ ছিল। কিন্তু মহামান্য আদালতে (হাইকোর্ট) থাকতে হয়েছে বিধায় প্রতিবেদন দাখিল করতে পারিনি, এখানে (হাইকোর্টে) আছি। তখন হাইকোর্ট বলেন, সব মহামান্য আদালতেরই দোষ? এ মামলায় কি নয়ন বন্ডকে গ্রেফতার করেছিলেন?

জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আমি গত ৩০ মে বরগুনায় নিযুক্ত হই। এরপর অন্য মামলায় নয়ন বন্ডকে আসামি হিসেবে পাই। রিফাত হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে খবর পেয়ে নয়নকে গ্রেফতার করতে যাই। কিন্তু গ্রেফতার করতে পারিনি। পাল্টাপাল্টি বন্ধুকযুদ্ধে সে মারা যায়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, নয়নের সঙ্গে মিন্নির সম্পর্ক ছিল, এটা সে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের স্বীকার করেছে। মামলাটি অনেক স্পর্শকাতর এবং জনমনে বেশ আগ্রহ কাজ করছে।

মামলার প্রতিবেদন তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, কলেজের সামনে ওই ঘটনার পূর্বে নয়নকে মিন্নি আটবার ফোন করে কথা বলেছিল। ঘটনার পর পাঁচবার নয়নকে ফোন করে কথা বলে। মোবাইল অরিজিনেটেড কল এবং মোবাইল টার্মিনেটেড কল লিস্টে তা-ই উঠে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই রিফাত হাসপাতালে গেলেও মিন্নি সেখানে ছিল। এসব কি তাকে নিষ্পাপ প্রমাণ করে?

আদালত বলেন, এখানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত আছেন। তারা ফোনের কথোপকথন তুলে দেখতে পারেন, কী কী কথা হয়েছে? রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তখন বলেন, সে (মিন্নি) এ ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী। তার বয়স ১৯ এবং সে নারী, এসব বলে জামিনের কোনো সুযোগ নেই। তাকে জামিন না দিয়ে মামলার ন্যায়বিচারের স্বার্থে জামিনের বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করা হোক।

সূত্র: গো নিউজ২৪
এনইউ / ২৮ আগস্ট

বরগুনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে