Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৭-২০১৯

ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে ভরণ-পোষণ পাচ্ছেন পিতা-মাতা

ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করে ভরণ-পোষণ পাচ্ছেন পিতা-মাতা

শেরপুর, ২৮ আগস্ট- শেরপুরে তাসলিম খান (৪৩) নামে এক অবস্থাসম্পন্ন পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা করে ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা হয়েছে অসহায় পিতা-মাতার।

সোমবার জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমের আওতায় ওই পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা হয়।

অসহায় সেই পিতা-মাতা হচ্ছেন নকলা উপজেলার নারায়ণখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকার মোয়াজ্জেম হোসেন খান (৬৬) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৬০)।

জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) জুলফিকার হোসাইন রনির সভাপতিত্বে আসামি পক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার ও বাদীপক্ষের লিগ্যাল এইডের প্যানেল অ্যাডভোকেট শাহ মো. শাহীন হাসান খানের উপস্থিতিতে বিষয়টি সুরাহা হয়।

উভয়পক্ষের আলোচনায় পিতা-মাতাকে প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা ভরণ-পোষণসহ প্রয়োজনীয় পোশাক-পরিচ্ছদ প্রদানের সিদ্ধান্তে বিষয়টি সুরাহা হয়। আর ওই সিদ্ধান্তের আলোকে পরে আমলী আদালত থেকে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের মামলায় পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন সেই অবস্থাসম্পন্ন পুত্র।

জানা গেছে, নকলা উপজেলার নারায়ণখোলা পশ্চিমপাড়া এলাকার দরিদ্র কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন খান ও মমতাজ বেগম দম্পতির ২ ছেলে ও ৩ মেয়ে। ৩ মেয়েরই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা স্বামীর বাড়িতে এবং ২ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী-ঠিকাদার ও ছোট ছেলে ঢাকাতেই পেশায় শ্রমিক।

মোয়াজ্জেম হোসেন খানের বসতভিটা ছাড়া সহায়-সম্পদ খুব একটা নেই। ফলে খুব কষ্টেই সংসার চলছিল ওই দম্পতির। তার ওপর গত প্রায় এক বছর ধরে বার্ধক্যজনিতসহ নানা রোগে ভুগছেন মোয়াজ্জেম হোসেন খান।

ফলে প্রতিমাসে প্রায় ৪ হাজার টাকার চিকিৎসা ব্যয়সহ সংসারের খরচ নির্বাহ করা একেবারেই কঠিন হয়ে পড়ে। ছোট ছেলের কষ্টের সংসার থেকে পিতা-মাতার খরচের জন্য মাঝে-মধ্যে সামান্য কিছু দিলেও অবস্থাসম্পন্ন বড় ছেলে বেশ কিছুদিন থেকেই বেঁকে বসে ভরণ-পোষণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

তাই অবস্থা নাজুক দেখে তারা প্রায় ৩ মাস আগে শেরপুরের জজ আদালত ভবনে থাকা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের দ্বারস্থ হন। আর তাতে সাড়া দিয়ে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) জুলফিকার হোসাইন রনি উভয় পক্ষকে নিয়ে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু করেন।

কিন্তু বারবার অবগত করার পরও সাড়া দিচ্ছিলেন না অবস্থাসম্পন্ন পুত্র তাসলিম খান। ওই অবস্থায় লিগ্যাল এইড অফিসের পরামর্শে গত ৩১ জুলাই শেরপুরের আমলী আদালতে পুত্র তাসলিম খান ও পুত্রবধূ ডলি আক্তারকে (৩৫) আসামি করে হতভাগ্য মা মমতাজ বেগম বাদী হয়ে স্বামীসহ তার ভরণ-পোষণের দাবিতে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলা গ্রহণ করে তাদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশের প্রেক্ষিতে ২৬ আগস্ট পুত্রবধূ অসুস্থতার অজুহাতে অনুপস্থিত থাকলেও পুত্র তাসলিম খান হাজির হয়ে জামিনের প্রার্থনা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদ সুলতানা আসামিকে পুলিশ হেফাজতে রেখে উভয়পক্ষকে নিয়ে লিগ্যাল এইড অফিসে বসে আপোষ-মীমাংসার সুযোগ প্রদান করেন।

সূত্র: যুগান্তর
এনইউ / ২৮ আগস্ট

শেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে