Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ২ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৪-২০১৯

২ বছরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে ৯১ হাজার শিশু

২ বছরের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জন্ম নিয়েছে ৯১ হাজার শিশু

কক্সবাজার, ২৫ আগস্ট - ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সোয়া সাত লাখ রোহিঙ্গা। দেখতে দেখতে এ ঘটনার পেরিয়ে গেছে দুই বছর।

মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত শরণার্থীদের সাদরে গ্রহণ করে, খাবার আর আশ্রয় দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল কক্সবাজারের মানুষ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর দ্বিতীয় চেষ্টাও ব্যর্থ হওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সব বয়সী মানুষের মধ্যেই উদ্বেগ আর রোহিঙ্গাবিরোধী মনোভাব বাড়ছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের ৩২ টি ক্যাম্পে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসতি। নতুন পুরাতন মিলে তাদের সাথে যোগ হয়েছে গত দুই বছরে জন্ম নেওয়া ৯১ হাজার শিশু।

ইউএনএইচসিআরের জনসংখ্যা বিষয়ক রিপোর্টে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউএনএইচসিআরের জনসংখ্যা বিষয়ক রিপোর্টের উদ্ধৃতি দিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন কার্যালয়ের অতিরিক্ত কমিশনার শামসুদ্দোজা নয়ন জানান, গত ২ বছরে ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯১ হাজার শিশুর জন্ম হয়েছে। তারমধ্যে ১ বছরের নিচে রয়েছে ৩১ হাজার শিশু। আর দু বছরের নিচে রয়েছে ৬০ হাজার শিশু। জনসংখ্যা রোধ করতে ক্যাম্পগুলোতে নানা কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের সংখ্যাও কম। নেই কোনো আগ্রহ। এক একটি পরিবারে সদস্য সংখ্যা গড়ে ১০ থেকে ১৫ জনের মত।

উখিয়া ও টেকনাফে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন দ্বিগুণ। খুব অল্প সময়ের মধ্যে স্রোতের মতো আসা রোহিঙ্গাদের চাপে স্থানীয়দের কাজের ক্ষেত্র সঙ্কুচিত হয়েছে। কৃষিকাজ ও মাছ ধরা একপ্রকার বন্ধ। রোহিঙ্গাদের অনেকের অপরাধ প্রবণতা এবং নিরাপত্তার যাতাকলে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকার মানুষ।

ক্যাম্পে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের বেশিরভাগ পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১০ থেকে ১৫ জনের মধ্যে।

উখিয়ার মধুর ছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বয়স্ক রোহিঙ্গা আব্দুল মজিদ জানান, তার দুই স্ত্রীর ২২ জন সন্তান রয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আল্লাহর নির্দেশে সন্তান সন্তানাদি হয়, সেখানে ওষুধ খেয়ে বন্ধ করলে কেমন দেখায়।

একই ক্যাম্পের নতুন বিবাহিত আবুল কাশেম বলেন, আমার স্ত্রী ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বাস্থ্য সহকারীরা আমার স্ত্রীকে বড়ি খেতে বলছে। কিন্তু আমি নিষেধ করেছি। কারণ এটা আল্লাহর হুকুম।

ক্যাম্প গুলোতে স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা আর টি এম এর ম্যানেজার নাসরিন আক্তার মনিকা বলেন, রোহিঙ্গা নারীরা এ ব্যাপারে আগের চেয়ে একটু সচেতন হচ্ছে। নিজের শরীরের কষ্ট তারা বুঝতে পারছে। কিন্তু পুরুষদের মাঝে একেবারেই আগ্রহ নেই। অনেক নারী পদ্ধতি গ্রহণের জন্য এগিয়ে আসছেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশের ৯টি সেনা চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন শুরু করে। সেই সাথে চলে ধর্ষণ বসত-বাড়িতে অগ্নিসংযোগ হত্যাসহ নানা লোমহর্ষক ঘটনা। সে বছরের ২৫ আগস্ট থেকে প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা এদেশে প্রবেশ করতে থাকে। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে আসা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হয়।

বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফের ৩২ টি ক্যাম্পে এসব রোহিঙ্গারা বসবাস করছে। বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় দেশি-বিদেশি উন্নয়ন সংস্থা তাদের খাবার এর ব্যবস্থা করছে। বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি ।

সুত্র : বিডি২৪লাইভ
এন এ/ ২৫ আগস্ট

জাতীয়

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে