Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৫ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৩-২০১৯

চট্টগ্রামে আ.লীগের শত্রু নিজেরাই

হামিদ উল্লাহ


চট্টগ্রামে আ.লীগের শত্রু নিজেরাই

চট্টগ্রাম, ২৪ আগস্ট- বিএনপি কিংবা জামায়াতে ইসলামী নয়, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের শত্রু এখন আওয়ামী লীগ। গত ছয় বছরেরও কম সময়ে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন এলাকার সংগঠন নয়, নিজ নেতা ও অনুসারীদের প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১৫ জন খুন হয়েছেন। এর মধ্যে অষ্টম শ্রেণির কিশোর যেমন আছে, তেমনি দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে নিহতদের মধ্যে চার বছরের শিশুও রয়েছে। আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক নেতাও। এসব হত্যাকা- ধামাচাপা দিতে সক্রিয়ও রয়েছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। ফলে এসব ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছে নিহতদের পরিবার।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু এ প্রতিবেদককে বলেন, মাঠে সত্যিকার রাজনীতি না থাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। প্রকৃত রাজনীতি থাকলে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক থাকত। থাকত নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন ও নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা। রাজনীতি ফড়িয়াদের হাতে চলে গেলে যা হয়, এখন ঠিক তা-ই হচ্ছে।

গত ছয় বছরেরও কম সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে আলোচিত হচ্ছে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস, গণপিটুনির নামে নিহত কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপপাঠাগার সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক দিয়াজ ইরফান চৌধুরী ও মহানগর যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যা।

এ ছাড়া রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর বাবর ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক সাইফুল আলম লিমন গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলিতে যুবলীগ নেতা সাজু পালিত ও পথশিশু আরমান খুনের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত। ২০১৫ সালের মেয়র নির্বাচনের কিছুদিন পর খুন হন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী যুবলীগ নেতা। এর জন্য দায়ী করা হয় মেহেদীর দুই বন্ধু শফিকুর রহমান ও আবদুল কুদ্দুস ওরফে কানা কুদ্দুসকে।

এর বাইরে এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে লালখানবাজার এলাকার হাইলেভেল রোডে যুবলীগকর্মী মো. শরীফ ওরফে টেম্পু শরীফ, লালখানবাজার পোড়া কলোনি এলাকায় যুবলীগকর্মী খোকন সরকার, একই এলাকার ছাত্রলীগকর্মী দিদারুল আলম, বাগ মনিরাম ওয়ার্ড যুবলীগকর্মী অনিক, সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় যুবলীগকর্মী মহিউদ্দিন খুন হন দলীয় নেতাদের নির্দেশেই। প্রতিটি ঘটনায় দলীয় নেতাদেরই আসামি করে মামলা করা হয়েছে।

এর মধ্যে সুদীপ্ত হত্যা মামলার নির্দেশদাতা হিসেবে নাম আসা লালখানবাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম বর্তমানে কারাগারে আছেন। একই এলাকার ছাত্রলীগকর্মী দিদার খুনের ঘটনায় প্রধান আসামি নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য আবুল হাসনাত বেলাল। রেলওয়ে সিআরবিতে জোড়া খুনের ঘটনায় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবর ও কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযোগপত্র দিয়েছে।

নগরীর পাহাড়তলী বাজারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক উপপাঠাগার সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেলকে খুনের ঘটনায় সরাইপাড়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সাবের আহমদ সওদাগর বর্তমানে কারাগারে আছেন। অভিযোগ রয়েছে, গণপিটুনির নামে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সহযোগিতায় সাবের সওদাগর খুন করেন মহিউদ্দিন সোহেলকে। সাবের সওদাগর নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীনের অনুসারী। আর নিহত সোহেল চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী।

সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় যুবলীগকর্মী মহিউদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজী ইকবাল উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে সম্প্রতি বের হয়েছেন। বাগ মনিরাম ওয়ার্ডে গত বছর ঈদের দিন খুন হন যুবলীগকর্মী অনিক। তিনি আ জ ম নাছিরের অনুসারী। তার হত্যাকারীরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী বলে পরিচিত।

নগরীর চকবাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আবদুর রউফ গঠন করেন কিশোর গ্যাং। তাদের হামলায় এক বছর আগে জামাল খান ওয়ার্ডের ডা. খাস্তগীর স্কুলের সামনে খুন হয় কলেজিয়েট হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র প্রকৌশলী দম্পতির একমাত্র ছেলে আদনান ইসফার। সে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি প্রয়াত নুরুল আলম চৌধুরীর নাতি।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রামে বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে ব্যক্তির স্থান বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রথা চালু রয়েছে। ফলে এখানে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতির মাধ্যমে বিরোধী দলকে ঠেকানোর উদ্যোগ নেই। এ অবস্থায় রাজনীতির মাঠে নানা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে চলেছে। তারা আরও বলেন, দলের বৃহৎ ঐক্য তৈরি না হলে আগামীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকবে।

সূত্র: বিডি২৪লাইভ

আর/০৮:১৪/২৪ আগস্ট

চট্টগ্রাম

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে