Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৯ , ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

গড় রেটিং: 2.9/5 (16 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৩-২০১৯

গৃহপরিচারিকার বাড়িতে মাশরাফি

গৃহপরিচারিকার বাড়িতে মাশরাফি

শেরপুর, ২৪ আগস্ট- স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গৃহপরিচারিকার গ্রামের বাড়ি বেড়িয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা।

শুক্রবার শেরপুরে নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ইউনিয়নের যোগানিয়া কাচারি মসজিদ সংলগ্ন টুনির বাবা আক্কাছ আলীর বাড়িতে বেড়াতে আসেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’।

এদিকে মাশরাফির আগমনে এলাকায় হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিষয়টি প্রথমদিকে গোপন থাকলেও নিভৃত পল্লীতে দু’টি মাইক্রোবাসে ঢাকা থেকে মাশরাফির আসার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে লোকজনের ভিড় সামলাতে মাত্র আড়াই ঘণ্টা অবস্থানের পর শেরপুর ত্যাগ করতে হয় তাকে।

যোগানিয়ার সেই অজপাড়াগাঁয়ে মাশরাফিকে দেখতে ছুটে যাওয়াদের মধ্যে ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মুকছেদুর রহমান লেবুও। তিনি জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির আচরণ ও ব্যবহারে মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘ভাবা যায়-বাসার কাজের মেয়ে এবং সাবেক নিরাপত্তা কর্মীকে খুশি করতে, তাদের মুখে হাসি ফোঁটাতে তার মতো এমন একজন সেলিব্রেটি এমন অজপাড়াগাঁয়ে সস্ত্রীক এসেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসার নিরাপত্তা কর্মীর কাজ থেকে টুনির বাবা আক্কাছ আলী বিদায় নিলেও তার পরিবারের প্রতি মাশরাফির রয়েছে দারুণ মমতা। তিনি আক্কাছ আলীকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছেন, তাদের মাথা গোজার জন্য গ্রামের বাড়িতে একটি সেমিপাকা ঘর বানিয়ে দিয়েছেন। সর্বোপরি তিনি টুনির ভবিষ্যতের দায়িত্ব নিয়েছেন। এখানে না এলে বিষয়টি আমরা জানতেই পারতাম না। সত্যিই ‘ম্যাস দ্যা রিয়েল ক্যাপ্টেন, স্যালুট হিম।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এবারের কোরবানির ঈদ মাশরাফির বাসাতে কাটলেও পরে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসার ইচ্ছে ছিল টুনির। সেই ইচ্ছা পূরণে কেবল টুনিকে পাঠানো নয়, নিজের গোটা পরিবারের লোকজন নিয়েই টুনিদের গ্রামের বাড়িতে হঠাৎ করেই চলে আসেন মাশরাফি।

শুক্রবার সকালে বাসা থেকে বের হলেও জুমার নামাজ পথেই আদায় করতে হয়। নামাজ শেষের আধা ঘণ্টা পর হঠাৎ দু’টি গাড়ি নিয়ে টুনিকে নিয়ে তাদের বাড়ি হাজির হন মাশরাফি।

স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আমিন সিফাত জানান, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি হাউজিং অ্যাপার্টমেন্টে নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে চাকরির সময় মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে পরিচয় হয় আক্কাছ আলীর। ওই অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে থাকেন মাশরাফি ও তার পরিবার। ওই পরিচয় সূত্রে প্রায় ৮ বছর আগে হতদরিদ্র আক্কাছ আলীর মেয়ে টুনিকে তার বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে দেন তিনি। বয়স আর শারীরিক অসুস্থতার কারণে আক্কাছ আলী সেখান থেকে বিদায় নিলেও মাশরাফির বাসাতেই রয়ে গেছেন টুনি। দীর্ঘ ৮ বছরে মাশরাফির স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে টুনির গড়ে উঠেছে নিবিড় সম্পর্ক। তারা এখন টুনিকে তাদেরই একজন মনে করেন।

স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, মাশরাফির আগমনের বিষয়টি টুনির বাবা-মা টি জানলেও তারা কাউকেই কিছু জানাননি। কিন্তু যোগানিয়া কাচারি মসজিদ সংলগ্ন টুনিদের বাড়িতে পৌঁছানোর পর মাশরাফি ঘুরে-ফিরে চারপাশ এক পলক দেখে নাস্তা পর্ব শুরু করতেই এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়। ফলে ভক্ত-সমর্থক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মুহূর্তেই ওই বাড়িতে ভিড় করতে থাকে। তারা মাশরাফির সঙ্গে সেলফি তুলতে ও তার অটোগ্রাফ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে মাশরাফিকে শুভেচ্ছা জানাতে সেখানে ছুটে যান নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু। সেই সঙ্গে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও ওই বাড়িতে হাজির হন।

এদিকে, জনতার ভিড় এবং উৎকট গরমের কারণে দ্রুতই পরিবারের সবাইকে নিয়ে গাড়িতে উঠতে হয় মাশরাফিকে। ফলে আগমনের প্রায় আড়াই ঘণ্টার মাথায়ই বিদায় নেন ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ খ্যাত মাশরাফি বিন মুর্তজা।

সূত্র: জাগোনিউজ

আর/০৮:১৪/২৪ আগস্ট

শেরপুর

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে