Deshe Bideshe

DESHEBIDESHE

ইউনিজয়
ফনেটিক
English
টরন্টো, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ , ৩ আশ্বিন ১৪২৬

গড় রেটিং: 3.0/5 (5 টি ভোট গৃহিত হয়েছে)

আপডেট : ০৮-২৩-২০১৯

হঠাৎ করে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ, বিপাকে জেলেরা

হঠাৎ করে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ, বিপাকে জেলেরা

খুলনা, ২৩ আগস্ট- হঠাৎ করে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরা বন্ধ করে দিয়েছে বন বিভাগ। এর ফলে বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে পরিবারগুলো। জেলেরা বলছেন, সুন্দরবনের মাছ, কাঁকড়া ও পোনা ধরাই তাদের মূল কাজ। তাদের আয়ের অন্য কোনো উৎস নেই। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় পরিবারগুলোর আয় বন্ধ হয়ে গেছে। দিন কাটছে ধার-দেনা করে। এমন পরিস্থিতি আর কিছুদিন চলতে থাকলে পথে বসতে হবে তাদের।

অন্যদিকে বন বিভাগের দাবি, সুন্দরবনের নদী-খালগুলোতে মাছ কিছুটা কমে গেছে। এ অবস্থায় মাছের প্রজনন মৌসুমে বনের ভেতর মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে সুন্দরবনে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং জেলেদেরই লাভ হবে।

বন বিভাগ থেকে জানা গেছে, প্রতি মাসে পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময় (গোন) মাছ বেশি ধরা পড়ে। এ কারণে পূর্ণিমার আগে ও পরে মিলে সাত দিন এবং অমাবস্যার আগে ও পরে মিলে সাত দিন জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি (পাশ) দেওয়া হয়। আর ওই সময় জেলেরা সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে যান। প্রতি গোনে ১২ থেকে ১৫ হাজার জেলেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরার পাশ দেওয়া হয়। মাছ ধরা পেশার সঙ্গে যুক্ত সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ এলাকার জেলেরা। এ ছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর, আশাশুনি এবং বাগেরহাটের মোংলা, শরণখোলা এলাকাসহ সুন্দরবন সংলগ্ন বেশিরভাগ এলাকার মানুষ মাছ ও কাঁকড়া ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন।

খুলনার কয়রা ও দাকোপ এলাকার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ১ জুলাই মাছ ধরার পাশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিন দিনের মধ্যে তা বাতিল করে বন বিভাগ। নির্দিষ্ট সময়ের আগে চলে আসায় ভালো করে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারেননি তারা। এরপর ঈদের আগে ১ আগস্ট আবারও পাশ দেওয়া হয়। কিন্তু তাও দু'দিনের মধ্যে ফেরত নেওয়া হয়। সেই থেকে আর কোনো পাশ না দেওয়ায় জেলেরা বেকার হয়ে রয়েছেন।

খুলনার কয়রা উপজেলার ৬ নম্বর কয়রা গ্রামের জেলে আবদুল জলিল, সোহরাব হোসেন ও রহমান মল্লিকের একমাত্র পেশা সুন্দরবনে মাছ ধরা। তারা বলেন, সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরে তারা প্রতি গোনে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করে থাকেন। এতে মাসে দুটি গোনে তাদের আয় হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু জেলে কার্ডে এক হাজার টাকারও কম মূল্যের চাল পাওয়া গেছে। এ চালে তাদের সংসার চলছে না। তাছাড়া দীর্ঘদিন মাছ ধরতে না পারায় হাতে কোনো টাকা নেই। ছেলেমেয়েসহ সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি বছরের এই সময় সমুদ্রের মাছগুলো ডিম পাড়ার জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী-খালে আশ্রয় নেয়। তখন জেলেরা বেশি মাছ পান। তবে কিছু অসাধু জেলে আরও বেশি মাছ পাওয়ার আশায় খালের মধ্যে বিষ প্রয়োগ করেন। এতে অন্যান্য মাছের ডিমও নষ্ট হয়ে যায়, মারা যায় অনেক জলজপ্রাণীও। প্রভাব পড়ে জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর। এ কারণে ১ জুলাই থেকে মাছ ধরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের কথা চিন্তা করে ১ আগস্ট জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ দেওয়া হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আবার তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বশিরুল আল মামুন বলেন, প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ করতে পারলে মাছের উৎপাদন বাড়বে। এক সময় সুন্দরবনের আশপাশের নদী-খালে প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু এখন তা কমে গেছে। সে কারণে এ বছর থেকে জুলাই ও আগস্ট মাসে সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিষ দিয়ে মাছ ধরা ঠেকানো যাচ্ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আগামী কয়েক বছর যদি এভাবে দুই মাস সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরা বন্ধ রাখা যায়, মাছের উৎপাদন কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবার যথারীতি পাশ দেওয়া শুরু হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: সমকাল
এনইউ / ২৩ আগস্ট

খুলনা

আরও সংবাদ

Bangla Newspaper, Bengali News Paper, Bangla News, Bangladesh News, Latest News of Bangladesh, All Bangla News, Bangladesh News 24, Bangladesh Online Newspaper
উপরে